
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ক্রমশ যেন চওড়া হচ্ছে ফাঁস! জাঁকিয়ে বসছে হরমুজ প্রণালী সংকট! কয়েক দিনের মধ্যে থমকে যেতে পারে উপসাগরীয় জ্বালানি রফতানি। তেলের দাম পৌঁছাতে পারে ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলারে বা তারও বেশি। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ১৪,০০০ টাকা! এমনই বিরাট আশঙ্কার কথা জানাল কাতার।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ বেড়ে চলা সংঘাত আরও কয়েক সপ্তাহ চললে তা সারা বিশ্বে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি করবে। এমনই সতর্কবার্তা দিয়েছেন কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি। তিনি বলেন, পরিস্থিতি খারাপ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে বা তাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
প্রসঙ্গত ইরানের ড্রোন ও মিসাইল হামলার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কাতারের বৃহত্তম এলএনজি প্ল্যান্ট QatarEnergy। বৃহত্তম এলএনজি রফতানি কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিও ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইতিমধ্যেই কাতার ‘force majeure’ ঘোষণা করেছে। কাবির কথায়, “যে সব উপসাগরীয় রফতনিকারক সংস্থা এখনও force majeure ঘোষণা করেনি, পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তাদেরও একই ঘোষণা করতে হবে। আর তাতেই এলএনজি সরবরাহে নেমে আসবে আরও বড় ধাক্কা। বিশ্বজুড়ে দেখা দেবে তীব্র সংকট।”
এলএনজি রফতানিতে বড় ধাক্কা
আল-কাবির মতে, রাস লাফানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। মেরামত করতে কত সময় লাগবে তাও এখনও স্পষ্ট নয়। কাতারের ১২৮টি এলএনজি পরিবাহী জাহাজের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৬ থেকে ৭টি জাহাজ কার্গো লোড করার জন্য প্রস্তুত আছে। ফলে রফতানিতে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হরমুজ প্রণালী
বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালী। সংকীর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০% তেল ও গ্যাস সরবরাহ পরিবাহিত হয়। আল-কাবির কথায়, এখন অয়েল ট্যাঙ্কারগুলো যদি নিরাপদে এই পথ দিয়ে চলাচল করতে না পারে, তাহলে ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলার ছুঁতে পারে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও প্রতি MMBtu প্রায় ৪০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে, যা কিনা যুদ্ধের আগের দামের প্রায় ৪ গুণ হতে পারে।
বিকল্প পথ কতটা কার্যকর?
প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই কমপক্ষে ১০টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে খবর। তাই অনেক শিপিং কোম্পানি ওই পথে জাহাজ চলাচল এড়িয়ে যাচ্ছে। এবার প্রশ্ন হচ্ছে, বিকল্প পথ কতটা কার্যকর? ঝুঁকি কমাতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী বেশ কিছু বিকল্প পাইপলাইন তৈরি করেছে, যেগুলি সরাসরি আরব সাগরের বন্দর পর্যন্ত তেল ও গ্যাস পৌঁছে দিতে পারে। তবে এসব পাইপলাইনের ক্ষমতা সীমিত। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন করা হয়, তার পুরোটা এই বিকল্প রুট দিয়ে সরবরাহ করা সম্ভব নয়। তাই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন স্বাভাবিক না হলে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে বড় ধরনেপ ধাক্কা লাগার আশঙ্কা।
(Feed Source: zeenews.com)
