
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আধুনিক সভ্যতায় আদিম যুগের ছায়া। গ্রামের শুনশান রাস্তায় এক বীভত্স নরপিশাচের তাণ্ডব। কিশোরকে হাড়হিম খুন। এখানেই শেষ নয়, তারপর মৃতের রক্তপানের অভিযোগ। ঘটনাটি মধ্যপ্রদেশের সামান্না গ্রামের।
ঘটনাটি ৫ মার্চের। বৃহস্পতিবার সামান্না গ্রামের পথ ধরে নিজের বাইক নিয়ে ফিরছিল ১৬ বছরের কিশোর ভরত বিশ্বকর্মা। কে জানত, পথের বাঁকেই ওৎ পেতে বসে আছে এক জলজ্যান্ত দানব? ভরতকে একা পেয়েই আচমকাই ঝাঁপিয়ে পড়ে গুড্ডু প্যাটেল নামক এক ব্যক্তি। অভিযোগ, গুড্ডু প্রথমে ভরতকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে এবং পরে ভারী হাতুড়ি দিয়ে তার মাথা থেঁতলে দেয়। ঘটনাস্থলেই ওই কিশোরের মৃত্যু হয়।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত গুড্ডু প্যাটেল অতীতে নিজের স্ত্রীকে গলা কেটে খুনের দায়ে জেল খেটেছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতেই সে জেল থেকে ছাড়া পায়।
গ্রামবাসীদের চোখের সামনে ভয়াবহ দৃশ্য:
চিৎকার শুনে গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে এক বীভৎস দৃশ্যের সাক্ষী হন। সিএসপি পান্ডে সংবাদমাধ্যমকে জানান, গ্রামবাসীরা যখন পৌঁছান, তখন তারা দেখেন যে প্যাটেল ওই কিশোরের মাথার অংশ খাচ্ছে এবং নিজের হাতের মাধ্যমে রক্ত পান করছে। গ্রামবাসীরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করলে সে রক্তমাখা হাতুড়ি উঁচিয়ে তাদের হুমকি দেয়।
গ্রামবাসীদের ধাওয়া খেয়ে গুড্ডু পাশের কৃষিজমিতে পালিয়ে যায়। সেখানে গ্রামবাসীদের সঙ্গে তার সংঘর্ষও হয়। খবর পেয়ে পুলিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। প্রায় এক ঘণ্টার টানটান উত্তেজনার পর পুলিস তাকে ঘিরে ফেলে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তাকে স্থানীয় থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যসহ এলাকাবাসী স্তব্ধ। তারা অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলেছেন। পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছে, ‘এই ধরণের আদিম ও নৃশংস অপরাধের জন্য তার মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত।’ পুলিস আরও জানিয়েছে, প্যাটেলের এই হত্যাকাণ্ডের মোটিভ কী ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে সে পুলিসি হেফাজতে রয়েছে এবং তার মানসিক অবস্থার মূল্যায়ন ও অপরাধের রেকর্ড যাচাই করা হচ্ছে।
(Feed Source: zeenews.com)
