Chheledhora Team Celebrates Holi: অরুণাচলের পাহাড়ে রঙের উৎসব, ‘ছেলেধরা’র সেটে এক টুকরো মেঠো বসন্ত

Chheledhora Team Celebrates Holi: অরুণাচলের পাহাড়ে রঙের উৎসব, ‘ছেলেধরা’র সেটে এক টুকরো মেঠো বসন্ত

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: শান্ত পাহাড়ি উপত্যকা মুহূর্তেই বদলে গেল এক টুকরো বসন্তের রঙে। অরুণাচল প্রদেশের মনোমুগ্ধকর জিরো ভ্যালিতে (Ziro Valley) শুটিং চলাকালীনই রঙের উৎসবে মেতে উঠলেন ‘ছেলেধরা’ (Chheledhora) ছবির শিল্পী ও কলাকুশলীরা। সবুজে মোড়া পাহাড়ের কোলে রঙ, হাসি আর গানে এক অনন্য মুহূর্ত তৈরি করল পুরো ইউনিট।

উৎসব মানেই ভূরিভোজ। আর সেই আনন্দে বাড়তি মাত্রা যোগ করলেন ছবির বাঙালি-আমেরিকান প্রযোজক অ্যান (টুটু) মুখার্জী। শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি নিজে হাতে রান্না করলেন তাঁর বিশ্বখ্যাত ‘বাঙালি মাটন কারি’। জিরোর কনকনে ঠান্ডায় গরম গরম খাসির মাংসের ঝোল আর হোলির হুল্লোড়ে এক কথায় জমে উঠেছিল মধ্যাহ্নভোজ।

উত্তর-পূর্ব ভারতের এই অনিন্দ্যসুন্দর লোকেশনে হোলি উদযাপন টিমের অনেকের কাছেই ছিল প্রথম অভিজ্ঞতা। ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত ও প্রবাস থেকে আসা শিল্পী এবং টেকনিশিয়ানদের মধ্যে এক গভীর মেলবন্ধন তৈরি করে দিল এই উৎসব। পরিচালক ও নির্মাতারা মনে করছেন, শুটিংয়ের এই ঘরোয়া মেজাজ ও টিমের পারস্পরিক আন্তরিকতা সিনেমার পর্দাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

পরিচালক শিলাদিত্য মৌলিক যাঁর আগের ছবি সূর্য টানা ১১ সপ্তাহ প্রেক্ষাগৃহে চলেছিল, এই ছবিতে ফিরছেন এক ভিন্নধর্মী গল্প নিয়ে। ছেলেধরা একটি ফ্যামিলি থ্রিলার, যেখানে পারিবারিক আবেগ, দায়িত্ববোধ এবং নৈতিক দ্বন্দ্ব থ্রিলারের কাঠামোর মধ্যেই তুলে ধরা হয়েছে। ছবিটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নৈতিকভাবে জটিল এক নারী চরিত্র—যা বাংলা ছবিতে সচরাচর কম দেখা যায়।

ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে এক বিবাহবিচ্ছিন্ন মাকে ঘিরে। আবেগের বশে মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে তাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে সে। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, যখন মেয়েটি সত্যিই অপহৃত হয়। এই টানটান পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই গল্প এগোয়। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এক অপ্রত্যাশিত ঘটনার মোড়ে, বৃষ্টি এমন এক সত্যের মুখোমুখি হয় যা সে কল্পনাও করেনি— জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক যাত্রায় এগিয়ে চলে বৃষ্টি।

ছবিটি সম্পর্কে পরিচালক শিলাদিত্য মৌলিক বলেন,“এই ছবিটি মূলত সেই মানুষদের গল্প—যাঁরা নিখুঁত নন, কিন্তু ভালোবাসতে পারেন। ছেলেধরা এক ধরনের রোড জার্নির মতো এগোয়, তবে তার কেন্দ্রে রয়েছে অভিভাবকত্ব, দায়িত্ববোধ এবং নিজেদের ভুলের মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহস।”

অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জী বলেন, “বৃষ্টি এমন চরিত্র নয়, যাকে সহজে ভালো লাগবে। সে আবেগপ্রবণ, আহত এবং ত্রুটিপূর্ণ। কিন্তু একজন মা হিসেবে তার ভালোবাসা খুবই প্রকট। এই চরিত্রটা আমাকে নিজের মনের ভেতরে অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।”

নিজস্ব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়েও ছবিটি অভিভাবকত্ব, অপরাধবোধ এবং মানসিক অবহেলার মতো বিষয়কে সামনে আনে—যা সমাজের সব স্তরের দর্শকের সঙ্গেই সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। সেই কারণেই ছবিটি সাধারণ দর্শকের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলির কথাও মাথায় রেখে নির্মিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্মাতারা।

(Feed Source: zeenews.com)