
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্য়ুরো: শহরের সঙ্গীত অনুরাগীদের জন্য বসন্তকালে অন্নপূর্ণা দেবী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত আনন্দ ও প্রত্যাশার সাথে উপস্থাপন করা হচ্ছে অন্নপূর্ণা দেবীর জন্ম শতবর্ষে ৬,৭,৮ মার্চ, ২০২৬ এক বিশেষ শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অনুষ্ঠান জি.ডি.বিড়লা সভাঘরে, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে।এর আগে এই সংস্থা সরোদ, বেহালা ,সেতার সম্মেলন করেছিল।শাস্ত্রীয় সঙ্গীত আমাদের ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদযাপন।
এই বছর, এই সঙ্গীত সমারোহ অন্নপূর্ণা দেবীর জন্ম শতবর্ষ উদযাপন করছে।এই অনুষ্ঠান ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বৈচিত্র্যময় নানা আঙ্গিকের মধ্য দিয়ে একটি মন্ত্রমুগ্ধ করা সঙ্গীত সফর উপস্থিত করছে শ্রোতাদের কাছে।আমাদের দেশের বিভিন্ন ঘরানা এবং শৈলীর প্রতিনিধিত্বকারী শাস্ত্রীয় সংগীত শিল্পীরা যন্ত্র সঙ্গীত ও কন্ঠ সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্যে দিয়ে অন্নপূর্ণা দেবীকে স্মরণ করছেন। প্রতিটি শিল্পী তাঁদের সাথে একটি অনন্য শৈলি নিয়ে আসেন, একটি স্বতন্ত্র স্বাদ যা আমাদের সঙ্গীত ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করে।
এমন একটি বিশ্বে যেখানে স্পটলাইট প্রায়শই ইতিমধ্যেই বিখ্যাতদের উপরে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, এই সংস্থা শুধুমাত্র বিখ্যাত উস্তাদদের মঞ্চে নিয়ে আসেনা, বরং স্বল্প পরিচিত কিন্তু সমানভাবে ব্যতিক্রমী প্রতিভাদের সামনে নিয়ে আসার কাজে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।এই কৃতিরা যদিও সম্ভবত ব্যাপকভাবে স্বীকৃত নয়, কিন্তু তাঁদের দক্ষতা এবং তাঁদের নৈপুণ্যে অতুলনীয়।
অন্নপূর্ণা দেবী একজন মহিলা সুরবাহার শিল্পী। বাবা আলাউদ্দিন খাঁন এর কন্যা, উস্তাদ আলি আকবর খাঁন এর বোন ছিলেন মাইহার ঘরানার শিল্পী। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছাত্ররা হলেন পন্ডিত নিখিল ব্যানার্জি, পন্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া, আশিস খান, দক্ষিণা মোহন ঠাকুর, বসন্ত কাবরা, সুধীর ফাডকে, নিত্যানন্দ হলদিপুর প্রমুখ। জন্মসূত্রে মুসলিম পরিবারে জন্ম হলেও, মাইহার স্টেটের মহারাজা ব্রীজনাথ সিং এর দেওয়া “অন্নপূর্ণা” নামেই সকলের কাছে পরিচিত হলেন।
প্রথম দিনে, পন্ডিত মিলিন্দ রাইকার ( বেহালা ), বিদূষী শুভ্রা গুহ ( কন্ঠ সঙ্গীত ), দ্বিতীয় দিনে পন্ডিত শান্তনু ভট্টাচার্য ( কন্ঠ সঙ্গীত ), পন্ডিত বসন্ত কাবরা ( সরোদ ), তৃতীয় দিনে পন্ডিত রাজেন্দ্র প্রসন্ন ও রীতেশ প্রসন্ন ( বাঁশি), বিদূষী অশ্বিনী ভিডে দেশপান্ডে ( কন্ঠ সঙ্গীত) – এই সম্মেলন সুরে, সুরে ভরিয়ে তুলবেন।
আর আগামী ৯ মার্চ, ২০২৬ ভারতীয় ডাক বিভাগের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হবে অন্নপূর্ণা দেবীর জন্ম শতবর্ষে “বিশেষ কভার” , জিপিও, কলকাতায় বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতিতে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ঠিক একদিন পরেই ভারতীয় ডাক বিভাগের এই বিশেষ সম্মাননা এই শতবর্ষ উদযাপনে এক অন্য মাত্রা যোগ করলে।
সংস্থার পক্ষে নিত্যানন্দ হলদিপুর জানালেন, “আমরা আশা করি এই অসাধারণ আয়োজন এই শহরের শাস্ত্রীয় সঙ্গীত অনুরাগীদের উপস্থিতি এবং সমর্থন পাবে। আপনার উপস্থিতি শুধুমাত্র সঙ্গীতের প্রতি আপনার ভালবাসার প্রমাণই হবে না বরং শিল্পীদের উৎসাহিত করবে। ভারতীয় ডাক বিভাগের এই সম্মান এই উদ্যোগের এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।”
(Feed Source: zeenews.com)
