জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিচার নামে প্রহসন? শনিবার সাংবাদিক হত্যা মামলায় রাম রহিমকে বেকসুর খালাস করায় পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের বিরুদ্ধে এমনই প্রশ্ন তুলছে সাধারণ মানুষ। ২০০২ সালের বহুল সমালোচিত সাংবাদিক রাম চন্দর ছত্রপতি হত্যা মামলায় ডেরা সাচ্চা সওদা প্রধান গুরমিত রাম রহিম সিংকে বেকসুর খালাস করল পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট। শনিবার এই রায় ঘোষণা করে প্রধান বিচারপতি শীল নাগুর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ । ২০১৯ সালে পঞ্চকুলার বিশেষ সিবিআই আদালত রাম রহিমকে এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল। হাইকোর্টের এই রায়ে নিম্ন আদালতের সেই নির্দেশ খারিজ হয়ে গেল।
স্থানীয় ‘পুরা সচ’ সংবাদপত্রের সম্পাদক ছিলেন তিনি এবং ডেরা সদর দফতরে অসংখ্য মহিলাকে যৌন শোষণের অভিযোগ নিয়ে একটি বেনামি চিঠি প্রকাশ করেছিলেন। এরপরেই ২০০২ সালের অক্টোবর মাসে হরিয়ানার সিরসায় নিজের বাড়ির সামনে গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক রাম চন্দর ছত্রপতি। এই ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। ২০০৬ সালে সিবিআই এই মামলার তদন্তভার নেয় এবং রাম রহিমকে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে অভিযুক্ত করে।
শনিবার বিচারপতি শীল নাগুর এবং বিচারপতি বিক্রম আগরওয়ালের বেঞ্চ আপিল মামলার শুনানি শেষে রাম রহিমকে খালাস দিলেও, এই মামলার অন্য তিন অভিযুক্তের সাজা বহাল রেখেছে। রাম রহিমের আইনজীবী জিতেন্দ্র খুরানা এই রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। হাইকোর্টের এই রায়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহত সাংবাদিকের পুত্র অংশুল ছত্রপতি। তিনি এই রায়কে তাঁদের লড়াইয়ের ক্ষেত্রে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অংশুল জানিয়েছেন, “আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানাব। আশা করছি সিবিআই-ও এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে যাবে।”
খুনের মামলা থেকে রেহাই পেলেও এখনই জেল থেকে মুক্তি পাচ্ছে না গুরমিত রাম রহিম। দুই সাধ্বীকে ধর্ষণের দায়ে ২০১৭ সাল থেকে তিনি ২০ বছরের কারাদণ্ড দণ্ডিত সে। বর্তমানে তিনি হরিয়ানার রোহতকের সুনারিয়া জেলে বন্দি রয়েছেন। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে ডেরা ম্যানেজার রঞ্জিত সিং হত্যা মামলাতেও হাইকোর্ট তাকে খালাস দিয়েছিল।
(Feed Source: zeenews.com)
