
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইরান-ইসরায়েল সংঘাত দশম দিনেও চরমে। ইসরায়েলি বিমান হামলায় তেহরানে তেলের ডিপোতে ভয়ংকর হামলা। শনিবার রাতে তেল ডিপোগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে সৃষ্ট বিশাল অগ্নিকাণ্ডের ধোঁয়া পুরো শহরকে ঢেকে ফেলেছে। এখন সেই ধোঁয়া ও মেঘের সঙ্গে মিশে হওয়া বৃষ্টি নিয়ে নতুন আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। যেটিকে স্থানীয়রা ‘বিষাক্ত বৃষ্টি’ বা ‘অ্যাসিড বৃষ্টি’ বলে ডাকছেন।
শনিবার রাতে তেহরান ও আলবোর্জ এলাকায় অবস্থিত বেশ কয়েকটি তেলের গুদামে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী বিমান হামলা চালায়। এতে তেলের ডিপোগুলোতে ভয়াবহ আগুন লেগে যায়। আকাশজুড়ে তৈরি হয় ঘন কালো ধোঁয়ার আস্তরণ। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, দিনের আলোতেও শহরকে অন্ধকারে ঢাকা মনে হচ্ছিল। সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন, সূর্যের আলো পর্যন্ত দেখা যাচ্ছিল না। বাধ্য হয়ে অনেককে দিনের বেলাতেও ঘরে বাতি জ্বালিয়ে রাখতে হয়েছে।
রবিবার সকালে তেহরানে বৃষ্টি শুরু হয়। ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গিয়েছে, যুদ্ধের সময় তেলের ডিপো জ্বলার কারণে বাতাসে যে হাইড্রোকার্বন ও ক্ষতিকারক ধোঁয়া ছড়িয়েছিল, তা বৃষ্টির জলের সঙ্গে মিশে নীচে নেমে এসেছে। এই বৃষ্টির জলের সংস্পর্শে আসার পর অনেক গাড়ির রঙ নষ্ট হয়ে গিয়েছে বা ক্ষতি হয়েছে। এমনকী রাস্তায় বের হওয়া মানুষজন গলাব্যথা ও চোখে জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যার কথা জানিয়েছেন।
— sarah (@sahouraxo) March 8, 2026
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক বাসিন্দা এই ঘটনাকে ‘মহাপ্রলয়ঙ্কর’ বলে বর্ণনা করছেন। হামলায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৬ জনের মৃত্যুর এবং ২০ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।
সর্তকতা জারি প্রশাসনের:
পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা এবং রেড ক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষ কড়া সতর্কতা জারি করেছে। তাদের মতে, বৃষ্টির জলের সঙ্গে বিষাক্ত রাসায়নিক মিশে থাকায় তা ত্বকের সংস্পর্শে এলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে এবং ফুসফুসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের বিষাক্ত ধোঁয়া ও বৃষ্টি শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, ফুসফুসের রোগ এবং হৃদরোগের রোগীদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। যারা তেহরানে এখনও আটকে পড়ে আছেন, তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। খাবার, বিদ্যুৎ ও জল থাকলেও বিষাক্ত বাতাসের কারণে তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো শনিবার রাতে অন্তত তিনটি তেলের ডিপো লক্ষ্য করে এই হামলা চালায়।
(Feed Source: zeenews.com)
