)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আগামী ২৮ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে আইপিএল ২০২৬ (IPL 2026)। আর তার আগেই চরম বিপাকে ভারতীয় ক্রিকেটার অমিত মিশ্র (Amit Mishra)। গুজরাত লায়ন্স (অধুনা বিলুপ্ত) ও রাজস্থান রয়্যালসের খেলা অমিত উত্তরপ্রদেশের হয়ে রঞ্জি খেলেছেন। তাঁর মডেল স্ত্রী গরিমা তিওয়ারি (Garima Tiwari) পণের জন্য নির্যাতন নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করলেন। অমিত এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে মারধর এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন গরিমা। এই নিয়ে এই দম্পতির মধ্যে তৃতীয় আইনি মামলা!
গরিমার একাধিক অভিযোগ
গরিমা আদালতে জানিয়েছেন যে, যৌতুকের জন্য ক্রিকেটার তাঁকে নিয়মিত মারধরই করেন না। মানসিক ভাবেও নির্যাতন করেন। দিনের পর দিন অভুক্তও রাখেন। স্ত্রীর অসুস্থতায় কর্ণপাত না করেই জোর করে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন অমিত। অমিত প্রায়ই মদ্যপ হয়ে তাঁকে মারধর করেন যৌনসঙ্গম করেন। করতে বাধা দিলেই আবার মারেন। গরিমা পেশায় একজন মডেল। মডেলিং থেকে তাঁর উপার্জিত অর্থও নাকি অমিত কেড়ে নেন। অমিতের এই ভয়াবহ বর্বরতায় অতিষ্ট হয়ে গরিমা একবার ফিনাইল খেয়ে আত্মহত্যারও চেষ্টা করেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। গরিমা আদালতে আরও জানিয়েছেন যে, অমিতের একাধিক মেয়ের সঙ্গেই সম্পর্ক রয়েছে। অমিত তাঁর সামনেই সেই মহিলাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এমনকী অমিত অনেক মেয়েকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েও বিভ্রান্ত করে এবং তাঁদের যৌন শোষণ করেছেন! গরিমা আরও বলেছেন যে, তাঁর স্বামীর এমনই প্রভাব যে,পুলিশও তাঁর এফআইআর দায়ের করে না। পুলিশ কমিশনারের কাছে অভিযোগ করার পরেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরপর, তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। এখনও পর্যন্ত গরিমা অমিতের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করেছেন।
অমিত-গরিমার সম্পর্ক
কানপুরের বিরহানা রোডের বাসিন্দা গরিমা। যিনি পেশাদার মডেল। ২০১৯ সালে ইনস্টাগ্রামে অমিতের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়। কথোপকথনের পরেই তাঁরা একে অপরের কাছাকাছি আসেন। এরপরই ু প্রেম এবং সেখান থেকে বিয়ের সিদ্ধান্ত। প্রায় আড়াই থেকে তিন বছর সম্পর্কে থাকার পর ২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল সাতপাকে বাঁধা পড়েন অমিত-গরিমা। বিয়ের পরে পরেই অমিত এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা (মা বীণা মিশ্র, বাবা শশীকান্ত মিশ্র, বড় ভাই অমর মিশ্র, শ্যালিকা ঋতু মিশ্র এবং বোন স্বাতী মিশ্র) প্রায় প্রতিদিনই ছোট ছোট বিষয়ে তাঁকে যৌতুকের জন্য খোঁটা দেওয়া শুরু করেন। এমনই অভিযোগ গরিমার। গরিমা জানিয়েছেন, বিয়ের পর বাপের বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার আগে, তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা যৌতুক হিসেবে একটি হন্ডা সিটি গাড়ি এবং ১০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন। তাঁর পরিবার কোনও ভাবে ২.৫ লক্ষ টাকা জোগাড় করতেই সক্ষম হয়েছিল। অমিত এবং তার পরিবারের দাবি ক্রমশই বাড়তে থাকে। শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাঁকে বেশ কয়েকবার তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করতেও বাধ্য করিয়েছে।
তিন মামলা গরিমার
গরিমার আইনজীবী করিম আহমেদ জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেন পিলখানা থানায় অভিযোগ করেছেন। এসিপি, ডিসিপি এবং পুলিশ কমিশনারের কাছেও আবেদন করেছেন। তবে ক্রিকেটারের প্রভাবের কারণে এফআইআর নথিভুক্ত হয়নি। তাই গরিমার পক্ষে গত ৯ মার্চ আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই নিয়ে অমিতের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা দায়ের করেছেন গরিমা। প্রথম মামলা হয়েছিল গতবছর ২১ এপ্রিল (পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের) দ্বিতীয় মামলা হয়েছিল ২৩ এপ্রিল (ভরণপোষণের দাবিতে আদালতে মামলা দায়ের, অমিতের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৫০০০০ টাকা ভরণপোষণ দাবি করেছিলেন)। তৃতীয় মামলা ৯ মার্চ ২০২৬ ( পণের জন্য নির্যাতন নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের)
(Feed Source: zeenews.com)
