
গত রবিবার সন্ধে ৭টা নাগাদ জার্মানির রাইনল্যান্ড-ফেতিশ শহরের আকাশে উল্কা বিস্ফোরণ চোখে পড়ে। উড়তে উড়তে হঠাৎই বিস্ফোরণ ঘটে, চারিদিকে
ঠিকড়ে পড়ে উজ্জ্বল আলো। মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হল, সেই দৃশ্য চাক্ষুষ করেন অনেকেই। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি জানিয়েছে, উজ্জ্বল আলো স্থায়ী হয়েছিল ছয় সেকেন্ড। উল্কাটি আয়তনে বেশ বড় ছিল বলেও মনে করা হচ্ছে। (Science News)
ফ্রান্স, সুইৎজ়ারল্যান্ড, বেলজিয়াম, লাক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডসেও উল্কা বিস্ফোরণ দেখা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক উল্কা সংস্থা (IMO) জানিয়েছে, ৩০০০-এর বেশি মানুষ ওই দৃশ্য দেখেছেন। ডেনিস মলটিজোভ নামের একজন ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ব্রাসেলস থেকে বিমানে উঠেছিলেন তিনি। হঠাৎই অনতিদূরে উজ্জ্বল আলো চোখে পড়ে তাঁর। ঘড়িতে তখন সন্ধে ৬টা বেজে ৫৩ মিনিট। মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড করছিলেন ডেনিস। ওই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করে ফেলেন তিনি।
ডেনিস জানিয়েছেন, বিমানের কাছে বিস্ফোর ঘটেছে বলে প্রথমে মনে করেছিলেন তিনি। প্রায়শই বিমানে যাতায়াত করেন। কিন্তু এমন কিছু আগে দেখেননি। পরে পাইলট জানান, উল্কা থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। অন্য দিকে, ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি জানিয়েছে, জার্মানিতে কমপক্ষে একটি বাড়িতে উল্কাখণ্ড আছড়ে পড়েছে। টুকরো ছিটকে লাগে আরও কয়েকটি বাড়িতে। সেই সব নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
জার্মানির সংবাদমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত বর অনুযায়ী, যে বাড়িতে উল্কাখণ্ড আছড়ে পড়ে, সেটির ছাদে ফুটবলের আকারের গর্ত তৈরি হয়েছে। সরাসরি শোওয়ার ঘরে আছড়ে পড়ে উল্কাখণ্ডটি। তবে সেই সময় ভিতরে কেউ ছিলেন না। তাই বড় অঘটন ঘটেনি। অন্য যে উল্কার টুকরোগুলি সংগ্রহ করা হয়েছে, সেগুলি গল্ফ বলের মতো। সেগুলি সত্যিই উল্কাখণ্ড কি না, হবে পরীক্ষাও।
আমেরিকান মিটিওর সোসাইটি জানিয়েছে, বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে ঘর্ষণের ফলেই জ্বলে ওঠে উল্কাখণ্ড। একটা সময় পর খণ্ড খণ্ড হয়ে যায়। সেই সময়ই উজ্জ্বল আলো ছড়ায়, বিস্ফোরণ ঘটে। অধিকাংশ টুকরো মাটি ছোঁয়ার আগেই ছাই নিঃশেষ হয়ে যায়। তবে বড় টুকরোগুলি মাটিতে এসে পড়ে।
Meteorit teils im Schlafzimmer eingeschlagen?! https://t.co/x0rtidDUCj#meteor #meteorit pic.twitter.com/MJ2NLsMDSz
— Dr. Sebastian Voltmer (@SeVoSpace) March 9, 2026
ইউরোপের আকাশে যে উল্কা বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেটির কথা জানাই ছিল না বিজ্ঞানীদের। বিষয়টি নিয়ে তাই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তবে এই ঘটনা মোটেও অস্বাভাবিক নয় বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার আগে এখনও পর্যন্ত মাত্র ১১টি উল্কারই সন্ধান পাওয়া সম্ভব হয়েছে বলে দাবি ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি-র।
সাধারণত বসতি এলাকায় উল্কা আছড়ে পড়ার ঘটনা ঘটে না। তবে গত বছর জুন মাসেই জর্জিয়ায় একটি বাড়ির ছাদ ফুটো করে আছড়ে পড়ে উল্কাখণ্ড। পরে দেখা যায়, ওই উল্কাখণ্ডের বয়স পৃথিবীর চেয়েও বেশি। ২০২২ সালে নিউ জার্সিতে, ২০২১ সালে ব্রিটিশ কলম্বিয়ায়, ২০২২ সালে ক্যালিফোর্নিয়াতেও বাড়ির উপর আছড়ে পড়ে উল্কাখণ্ড। ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়িটি পুরো ভস্মীভূত হয়ে যায়। যদিও সেই অগ্নিকাণ্ড নিয়ে দ্বিমত রয়েছে।
২০২৩ সালে নুড়ির আকারের একটি উল্কাখণ্ড ফ্রান্সের এক মহিলার গায়ে পড়ে। তবে তিনি আহত হননি। ১৯৫৪ সালে অ্যালাবামায় ঘুমন্ত অবস্থায় এক মহিলার উপর উল্কাখণ্ড আছড়ে পড়ে বলে জানা যায়।
(Feed Source: abplive.com)
