মুসলিম প্রেমিকের সঙ্গে মন্দিরে বিয়ে, পুলিশি নিরাপত্তায় চারহাত এক ‘কুম্ভগার্লে’র, CPM বলল…

মুসলিম প্রেমিকের সঙ্গে মন্দিরে বিয়ে, পুলিশি নিরাপত্তায় চারহাত এক ‘কুম্ভগার্লে’র, CPM বলল…
নয়াদিল্লি: কুম্ভমেলায় গিয়ে রাতারাতি জনপ্রিয়। চোখজোড়া বিশেষ করে নজর কেড়েছিল সকলের। সেই মোনালিসা ভোসলে আবারও খবরের শিরোনামে। বাড়ির অমতে, রাজনৈতিক দলের সহায়তায় ভিন্ ধর্মী প্রেমিকের সঙ্গে বিবাহে আবদ্ধ হয়েছেন মোনালিসা। সেই নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কারণ পরিবারের অমতে, পুলিশি নিরাপত্তায়, কেরলে বিয়ে সেরেছেন তাঁরা। (Monalisa Bhonsle)

গত বছর প্রয়াগরাজে আয়োজিত কুম্ভমেলায় অংশ নেন মোনালিসা। আদতে মধ্যপ্রদেশের ইন্দৌরের বাসিন্দা তিনি। কুম্ভমেলায় রুদ্রাক্ষের মালা পরিহিত মোনালিসার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন সকলে। বিশেষ করে চোখজোড়ার দৌলতে রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যান তিনি। মোনালিসার পরিবর্তে ‘কুম্ভমেলা গার্ল’ হিসেবে জনপ্রিয়তা পান। রাতারাতি এত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন মোনালিসা যে, মডেলিং, অভিনয়ের প্রস্তাবও আসতে শুরু করে। (Monalisa marries Farman Khan)

বুধবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন মোনালিসা। বিয়ে করেছেন প্রেমিক ফরমান খানকে। কেরলের তিরুঅনন্তপুরমে আরুমানূর মন্দিরে সাতপাকে বাঁধা পড়েছেন তাঁরা। ফরমানকে বিয়ে করতে সরাসরি কেরল পুলিশের দ্বারস্থ হন মোনালিসা। পুলিশি নিরাপত্তায় ফরমানের সঙ্গে সাত জন্মের শপথ নেন।

দেড় বছর আগে ফেসবুকে ফরমানের সঙ্গে আলাপ মোনালিসার। ফরমান আদতে উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের বাসিন্দা। পেশায় অভিনেতা তিনি। থাকেন মহারাষ্ট্রে। সময়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব ঘনিষ্ঠতায় পরিণত হয়। জানা গিয়েছে, মোনালিসাই ফরমানকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। প্রথমে মোনালিসার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন ফরমান। কিন্তু ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে তাঁদের মধ্যে। 

কেরল পুলিশ জানিয়েছে, ফরমানকে বিয়ে করতে চাইছিলেন মোনালিসা। কিন্তু মোনালিসার বাড়ির লোকজন ভিন্ ধর্মী ছেলের সঙ্গে মেয়ের  বিয়েতে রাজি ছিলেন না। সেই নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই সম্প্রতি কেরলে একটি ছবির শ্যুটিং করতে পৌঁছন মোনালিসা এবং ফরমান। মোনালিসার দাবি, বাবা বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে তাঁকে জোরাজুরি করছিলেন। ইচ্ছের বিরুদ্ধে অন্যত্র বিয়ে ঠিক করা হয়। 

এমন পরিস্থিতিতে শ্যুটিংয়ের লোকজনকে সঙ্গে নিয়েই কেরল পুলিশের দ্বারস্থ হন মোনালিসা এবং ফরমান। পুলিশকে মোনালিসা জানান, তিনি প্রাপ্তবয়স্ক।  বাবার সঙ্গে বাড়ি ফিরতে চান না। বিয়ে করতে চান ফরমানকেই।  এব্যাপারে সিপিএম-কেও পাশে পান মোনালিসা এবং ফরমান। সেই মতো লাল রংয়ের শাড়ি পরিহিত মোনালিসা এবং সাদা শার্ট, ধুতি পরে আরুমানূর শ্রী নাইনার দেব মন্দিরে হাজির হন যুগল। বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁরা। 

বিয়ের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মোনালিসা জানান, কেরল তাঁর অত্যন্ত পছন্দের রাজ্য। তাই কেরলেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ফরমানকে বিয়ে করতে পেরে আনন্দিত তিনি। মোনালিসা বলেন, “বাড়ির লোক অন্যত্র বিয়ে দিতে চাইছিল। আমি রাজি হয়নি। এখানকার মানুষের সাহায্য় পেয়েছি।” ফরমান বলেন, “কেরলের নায়নার মন্দির আমাদের পছন্দের জায়গা। কেরলের মানুষজন অত্যন্ত ভাল। এই ছ’মাস ভালবাসায় ভরা ৬০ বছরের সমান ছিল। তাই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিই।”

কেরলের শিক্ষামন্ত্রী ভি শিবনকুট্টি মোনালিসা এবং ফরমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁদের সাহসের প্রশংসা করেছেন। জানিয়েছেন, কেরল একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাজ্য, সেখানে ব্যক্তি স্বাধীনতা মর্যাদা পায়। সেই সঙ্গে বিজেপি-কে কটাক্ষ করে বলেন, “এটাই আসল কেরালা স্টোরি। এখানে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের মানুষ সুখে, শান্তিতে থাকতে পারেন।” কেরলে সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক এমভি গোবিন্দমও মোনালিসা এবং ফরমানকে শুভেচ্ছা জানান। 

মোনালিসা এবং পরমানের বিয়েতে সিপিএম-এর অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। সিপিএম নেতা টমাস আইজ্যাক জানান, পুলিশি নিরাপত্তা চেয়েছিলেন মোনালিসা এবং ফরমান। তিনি লেখেন, ‘ভিন্ ধর্মী যুগলদের স্বর্গরাজ্য কেরল। এটাই আসল কেরালা স্টোরি’। মোনালিসা এবং ফরমানের বিয়ের খবরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও। কেউ কেউ এই বিয়েতে ছবির প্রচার বলে কটাক্ষ করলেও, নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অনেকেই।

(Feed Source: abplive.com)