
ইরানের বিদেশমন্ত্রী ইরানের বিরুদ্ধে “অবৈধ যুদ্ধ”-কে সমর্থন করার জন্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সমালোচনা করেছেন। দাবি করেছেন যে, তারা বিনিময়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আমেরিকার সমর্থন আশা করেছিল। তিনি বলেন, “ইউরোপ ভেবেছিল ইরানের বিরুদ্ধে অবৈধ যুদ্ধকে সমর্থন করলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন সমর্থন পাওয়া যাবে। দুঃখজনক।” এদিকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের মধ্যেই ইরান দু’টি ভারতীয় পতাকাবাহী তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে বলে রয়টার্স সূত্রের খবর।
হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতার মধ্যেই রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে ভারতকে শর্ত বেঁধে ৩০ দিনের ছাড় দেয় আমেরিকা। পশ্চিম এশিয়াজুড়ে সংঘর্ষের মধ্যেও তেল কেনা নিয়ে নয়াদিল্লির উপর ওয়াশিংটনের খবরদারির চেষ্টা অব্যাহত। রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের উপর চড়া হারে আমদানি শুল্ক চাপিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মোদি সরকারকে রাশিয়া থেকে তেলা কেনার পরিমাণ কমাতে বাধ্য করেছিল ওয়াশিংটন। পশ্চিম এশিয়ার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জেরে হরমুজ প্রণালী যখন কার্যত অবরুদ্ধ, তখন সেই আমেরিকার তরফেই তেলের জোগান স্বাভাবিক রাখার যুক্তি দেখিয়ে ভারতকে ৩০ দিনের জন্য রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ছাড়পত্র দেওয়া হয়। সাময়িকভাবে এই ছাড়পত্র দেওয়া হলেও, ভারত যে নতুন চুক্তি অনুযায়ী আমেরিকার থেকেই বেশি তেল কিনবে, সেকথা ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছেন আমেরিকার অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট। তিনি বলেছেন, ট্রাম্পের জ্বালানি কর্মসূচিতে তেল ও গ্যাস উৎপাদনে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে আমেরিকা। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ সচল রাখতে আমেরিকার অর্থবিভাগ ভারতকে রুশ তেল কেনার অনুমতি দিতে ৩০ দিনের একটি সাময়িক মকুব বা ওয়েভার জারি করছে। স্বল্পমেয়াদী এই পদক্ষেপ রুশ সরকারকে কোনও উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা দেবে না। কারণ এটা শুধুমাত্র সমুদ্রপথে আটকে থাকা তেলের লেনদেনের অনুমতি দিচ্ছে। আমেরিকার অর্থসচিব আরও বলেছেন, ভারত তাঁদের অপরিহার্য অংশীদার। ওয়াশিংটন আশা করে, নয়াদিল্লি তাদের থেকে তেল কেনা আরও বাড়াবে। ইরান পুরো জ্বালানি ক্ষেত্রে যেভাবে একচেটিয়া কায়েমি স্বার্থ চালু করেছিল, তা কমাতে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা কাজে আসবে বলে দাবি করেছে আমেরিকা।
(Feed Source: abplive.com)
