ভুলের জন্য নিজেকে মারবেন না, মানসিক চাপ থেকে হাসুন: মনোবিজ্ঞানীর দাবি – নিজের ভুলের জন্য হাসলে মানুষের সাথে আপনার সাথে মানবিকভাবে সংযোগ ঘটে; এটি আত্মবিশ্বাসকে শক্তিশালী করবে

ভুলের জন্য নিজেকে মারবেন না, মানসিক চাপ থেকে হাসুন: মনোবিজ্ঞানীর দাবি – নিজের ভুলের জন্য হাসলে মানুষের সাথে আপনার সাথে মানবিকভাবে সংযোগ ঘটে; এটি আত্মবিশ্বাসকে শক্তিশালী করবে

প্রায়শই আমরা পাবলিক প্লেসে ছোট ছোট ভুল করেও বিব্রত বোধ করি। এটি একটি কাচের দরজার সাথে ধাক্কা লেগে থাকুক বা যোগব্যায়াম ক্লাসে দুর্ঘটনাক্রমে পিছলে পড়ুক, আমাদের প্রথম প্রতিক্রিয়াটি লুকিয়ে রাখা। কর্নেল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ওভুল সেজারের গবেষণা এই চিন্তাধারাকে পাল্টে দিচ্ছে। গবেষণা অনুসারে, এই ধরনের মুহুর্তে বিব্রত বোধ করার পরিবর্তে, নিজেকে নিয়ে হাসুন। এটি আপনাকে অন্যদের চোখে আরও বন্ধুত্বপূর্ণ, সক্ষম এবং সত্যবাদী করে তোলে। আপনার ভুল দেখে হাসি পরিবেশকে ‘বিচার’ থেকে ‘স্বতঃস্ফূর্ততায়’ পরিবর্তন করে। এটি স্ব-গ্রহণযোগ্যতার লক্ষণ এবং বিশ্ব তাদের পছন্দ করে যারা তাদের ত্রুটিগুলি হাসিমুখে আলিঙ্গন করে। ভুলকে সহজে মেনে নেওয়াই আসল আত্মবিশ্বাস। গবেষণা অনুসারে, যারা তাদের ভুল দেখে হাসে তারা বিশ্বের চোখে বেশি হাসিখুশি এবং সক্ষম দেখায়। অন্যদিকে, অত্যধিক লাজুকতা আপনার নিরাপত্তাহীনতা এবং লোকেরা কী ভাববে সেই ভয়কে প্রকাশ করে। গবেষণা আরও বলে যে নিজেকে নিয়ে মজা করা আসলে অন্যদের আপনার সাথে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই হাসি শুধু পরিবেশের উত্তেজনাই কমায় না, আশেপাশের মানুষকেও আপনাকে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করার আনুষ্ঠানিকতা থেকে মুক্ত করে। অপরাধী বোধ করা বন্ধ করুন, পৃথিবী আপনাকে পাত্তা দেয় না। প্রায়শই আমরা ‘স্পটলাইট এফেক্ট’-এর মায়ায় বাস করি, যেখানে আমরা অনুভব করি যে বিশ্বের চোখ কেবল আমাদের ভুলের দিকেই নিবদ্ধ। এর বাস্তবতা অন্য কিছু। আসলে, মানুষ নিজের সমস্যা নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে তারা আপনার ছোট ভুলগুলিকে ততটা পাত্তা দেয় না যতটা আপনি ভাবেন। প্রফেসর সেটজার পরামর্শ দেন যে পরের বার সামাজিক গাফিলতির জন্য নিজেকে মারধর করার পরিবর্তে, কেবল জিজ্ঞাসা করুন ‘এটি কি কারো ক্ষতি করেছে?’ যদি উত্তর ‘না’ হয়, তাহলে অপরাধবোধ বন্ধ করুন এবং শুধু হাসুন। এই স্বতঃস্ফূর্ত পরিবর্তন শুধুমাত্র আপনার আত্মবিশ্বাসকে শক্তিশালী করবে না বরং অন্যদের চোখে আপনাকে আরও সহজ এবং বিশেষ করে তুলবে। হাসি তখনই ভালো লাগে যতক্ষণ না তা কাউকে কষ্ট না দেয়। ‘আবেগীয় ক্রমাঙ্কন’ অর্থাৎ সঠিক আবেগ নির্বাচন করা নিজেকে নিয়ে হাসির শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকরা সতর্ক করেন যে হাসি ততক্ষণ পর্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হয় যতক্ষণ না এটি কাউকে ‘আপত্তি’ না করে। আপনার ভুলের কারণে কেউ যদি শারীরিকভাবে আঘাত পান বা কিছু ক্ষতির সম্মুখীন হন, তাহলে তাদের দেখে হাসলে আপনি অসংবেদনশীল এবং অনৈতিক প্রমাণিত হতে পারেন। এমন সময়ে হাসি নয়, অনুশোচনা ও বিব্রতবোধই সঠিক মানবিক আচরণ। মনে রাখবেন, আত্মবিশ্বাস হাসির মধ্যে, কিন্তু আভিজাত্য হল কখন ক্ষমা চাইতে হবে তা জানা।

(Feed Source: bhaskarhindi.com)