
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: যুদ্ধ যেন থামার নাম-ই নিচ্ছে না। একদিকে ইরান, ইসরায়েল-আমেরিকা। আবার অন্য়দিকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান। ফের আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে মারাত্মক হামলা পাকিস্তানে। কাবুলের এক হাসপাতালে হাড়হিম বিমান হামলা চালিয়েছে পাক সেনা।
তালেবান মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোরে চালানো এই হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ২৫০ জন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে। আফগান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় রাত ৯টা নাগাদ একটি নেশামুক্তি কেন্দ্রে এই হামলা চালানো হয়। ২,০০০ শয্যাবিশিষ্ট ওই হাসপাতালের একটি বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
আফগান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী আবারও আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। চিকিৎসাধীন অসহায় মানুষদের ওপর হামলা চালানো মানবতাবিরোধী অপরাধ।’
অন্যদিকে, পাকিস্তানের পালটা দাবি করে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। পাকিস্তান এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে ব্যাখ্যা করেছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, কোনও হাসপাতালে হামলা চালানো হয়নি। কাবুল এবং নানগারহার প্রদেশে নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ‘প্রিসিশন এয়ারস্ট্রাইক’ বা নিখুঁত হামলা চালানো হয়েছে। সন্ত্রাসীদের মদত দিচ্ছে এমন অস্ত্রাগার ও পরিকাঠামো ধ্বংস করাই ছিল মূল লক্ষ্য।
গত অক্টোবর থেকে কাতারের মধ্যস্থতায় চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে গত ফেব্রুয়ারি থেকে দুই দেশের মধ্যে লড়াই শুরু হয়। আফগান কর্মকর্তাদের মতে, এই বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই সীমান্তে দু-পক্ষের গোলাগুলিতে চারজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘খোলাখুলি যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন। গত কয়েক বছরের মধ্যে এই সংঘাতকে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতেই কাবুলে হামলা করে পাকিস্তান। কাবুল পুলিসের মুখপাত্র খলিল জাদরান জানিয়েছিলেন, রাজধানী কাবুলের আবাসিক এলাকায় চালানো এই বোমা হামলায় চারজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছিলেন যে, পাকিস্তানের এই হামলা দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহার প্রদেশেও আঘাত হেনেছে, যেখানে তাদের প্রশাসনের সর্বোচ্চ নেতার বাসভবন অবস্থিত। এছাড়া, পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী পূর্বাঞ্চলীয় পাকতিয়া এবং পাকতিকা প্রদেশেও হামলা হয়।
(Feed Source: zeenews.com)
