Zomato Big Update: মধ্যবিত্তের মাথায় হাত, অনলাইন ফুড ডেলিভারি অ্যাপ জ্যোমাটোয় খাবারের দাম বাড়ল আকাশছোঁয়া

Zomato Big Update: মধ্যবিত্তের মাথায় হাত, অনলাইন ফুড ডেলিভারি অ্যাপ জ্যোমাটোয় খাবারের দাম বাড়ল আকাশছোঁয়া

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রান্না করার ক্লান্তি এড়াতে বা পছন্দের রেস্তোরাঁর খাবার চেখে দেখতে অনলাইন ফুড ডেলিভারি অ্যাপ এখন সাধারণ মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু সেই সুবিধাই এখন আরও ব্যয়বহুল হতে চলেছে। দেশের অন্যতম বৃহত্তম অনলাইন খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থা ‘জোম্যাটো’ (Zomato) তাদের প্ল্যাটফর্ম ফি এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিল। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতিটি অর্ডারে এখন থেকে গ্রাহকদের ১৪.৯ টাকা পর্যন্ত প্ল্যাটফর্ম ফি দিতে হতে পারে, যা আগে ছিল ১২.৫ টাকা। উৎসবের মরশুমের ঠিক আগেই এই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ সাধারণ গ্রাহকরা।

ফি বৃদ্ধির পরিসংখ্যান ও প্রেক্ষাপট

২০২৩ সালের আগস্ট মাসে যখন জোম্যাটো প্রথম ‘প্ল্যাটফর্ম ফি’ চালু করেছিল, তখন তার পরিমাণ ছিল মাত্র ২ টাকা। সেই সময় জানানো হয়েছিল, অ্যাপের কার্যকারিতা বজায় রাখা এবং পরিষেবা উন্নত করার জন্য এই সামান্য ফি নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মাত্র আড়াই বছরের ব্যবধানে সেই ফি কয়েক গুণ বেড়ে এখন ১৫ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেল।

গত কয়েক মাসে দফায় দফায় এই ফি বাড়ানো হয়েছে। প্রথমে ২ টাকা থেকে বেড়ে ৫ টাকা, তারপর ৭ টাকা, এবং গত বছরের উৎসবের মরশুমে তা ১০ টাকা করা হয়েছিল। সম্প্রতি এটি ১২.৫ টাকা থাকলেও, নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্র ও সময়ে এটি ১৪.৯ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

কেন এই মূল্যবৃদ্ধি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, জোম্যাটো তাদের মুনাফার হার (Profit Margin) বাড়াতে এবং অপারেশনাল খরচ সামাল দিতেই এই পথ বেছে নিয়েছে। যদিও ডেলিভারি চার্জ, রেস্তোরাঁ চার্জ এবং জিএসটি (GST) আগে থেকেই যুক্ত থাকে, তবুও ‘প্ল্যাটফর্ম ফি’ সরাসরি কোম্পানির কোষাগারে যায়। দিনে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লক্ষ অর্ডার সরবরাহ করা এই সংস্থার কাছে প্রতিটি অর্ডারে অতিরিক্ত ২-৩ টাকা বৃদ্ধি মানেই কয়েক কোটি টাকার বাড়তি মাসিক আয়। এছাড়া সামনেই ঈদের মতো বড় উৎসব থাকায় অর্ডারের চাপ বাড়বে, আর সেই সুযোগকেই কাজে লাগাতে চাইছে সংস্থাটি।

প্রতিযোগিতার বাজারে প্রভাব

শুধু জোম্যাটো নয়, তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থা ‘সুইগি’ (Swiggy)-ও একই পথে হাঁটছে। অনেক ক্ষেত্রে সুইগির প্ল্যাটফর্ম ফি-ও ১০ থেকে ১৫ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। দুই প্রধান সংস্থার এই যোগসাজশ বা সমান্তরাল মূল্যবৃদ্ধিতে কার্যত দিশেহারা গ্রাহকরা। কারণ, বিকল্প কোনো বড় প্ল্যাটফর্ম না থাকায় বাধ্য হয়েই তাঁদের এই বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।

গ্রাহকদের প্রতিক্রিয়া

সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন নেটিজেনরা। অনেকের মতে, খাবার ডেলিভারি করার জন্য যেখানে ডেলিভারি চার্জ নেওয়া হচ্ছে, সেখানে আলাদা করে প্ল্যাটফর্ম ফি নেওয়া অযৌক্তিক। বিশেষ করে ছোট অঙ্কের অর্ডারে (যেমন ১০০-১৫০ টাকার খাবার) এই বাড়তি ১৫ টাকা এবং তার ওপর জিএসটি যোগ হলে খাবারের আসল দামের তুলনায় ট্যাক্স ও ফি-র পরিমাণ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। অনেক গ্রাহক আবার ‘জোম্যাটো গোল্ড’ মেম্বারশিপ নেওয়ার পরেও এই ফি দিতে বাধ্য হওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।

শিল্পের ভবিষ্যৎ ও প্রভাব

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্ল্যাটফর্ম ফি বৃদ্ধি অনলাইন ফুড ডেলিভারি বাজারের প্রবৃদ্ধিতে সাময়িক বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো যারা মাঝেমধ্যে শখে খাবার অর্ডার করত, তারা এখন থেকে আরও সতর্ক হবে। তবে জোম্যাটোর মতো সংস্থার দাবি, উন্নত প্রযুক্তি পরিষেবা এবং ডেলিভারি পার্টনারদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতেই এই সামান্য অর্থ সাহায্য করবে।

ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে অনলাইন পরিষেবা মানুষের জীবন সহজ করলেও, ক্রমাগত মাশুল বৃদ্ধি মধ্যবিত্তের বাজেটে চাপ সৃষ্টি করছে। জোম্যাটোর এই ১৪.৯ টাকার প্ল্যাটফর্ম ফি শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয় নাকি গ্রাহকদের চাপে সংস্থাটি পিছু হটে, সেটাই এখন দেখার। তবে আপাতত উৎসবের ভোজে যে কিছুটা বাড়তি খরচ করতে হবে, তা বলাই বাহুল্য।

(Feed Source: zeenews.com)