Iran hanged 19 year old athlete: ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে’র দায়ে ইরানে জনসমক্ষে ফাঁসি ১৯-এর চ্যাম্পিয়ন কুস্তিগীরকে, গণফাঁসি আরও?

Iran hanged 19 year old athlete: ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে’র দায়ে ইরানে জনসমক্ষে ফাঁসি ১৯-এর চ্যাম্পিয়ন কুস্তিগীরকে, গণফাঁসি আরও?

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: যুদ্ধরত ইরান থেকে যে খবর সামনে আসছে, তা এককথায় ভয়ংকর। ইরানে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হল ১৯ বছরের চ্যাম্পিয়ন এক কুস্তিগীরকে। একইসঙ্গে ফাঁসি দেওয়া হল আরও ২ জনকে। খামেইনির পতন ঘটেছে। কিন্তু খামেইনি যুগের শেষ হয়নি! ইরানে খামেইনি প্রশাসনের বপন করে দেওয়া অত্যাচারের বীজের নির্মূল ঘটেনি! এমনটাই বলছেন সমাজকর্মীরা। তাঁরা আশঙ্কা করছেন আরও গণফাঁসির ঘটনা ঘটতে চলেছে ইরানে।

১৯ বছর বয়সী চ্যাম্পিয়ন কুস্তিগীরসহ ৩ জনকে ফাঁসি, গণফাঁসির আশঙ্কা

“ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ” করার অভিযোগে ইরানে ১৯ বছর বয়সী এক ক্রীড়াবিদ-সহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সালেহ মোহাম্মাদি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সালেহ মোহাম্মাদি নামে ১৯ বছরের ওই কুস্তিগীরকে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হয়। মানবাধিকারকর্মীরা আশঙ্কা করছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আরও গণফাঁসির ঘটনা ঘটবে ইরানে।

“ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ”-এর অভিযোগ

অভিযোগ ছিল, মেহদি ঘাসেমি, সালেহ মোহাম্মাদি এবং সাঈদ দাভুদি নাকি “ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ” করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, জানুয়ারির বিক্ষোভে তাঁরা ২ পুলিসকর্তাকে খুন করে। সেই হত্যার দায় তাঁরা স্বীকারও করেন। আর তারপরই তাঁদের উপর চরমে ওঠে নির্যাতন। যথাযথ বিচার ছাড়াই তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায়

মেহদি ঘাসেমি, সালেহ মোহাম্মাদি এবং সাঈদ দাভুদি—এই তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এদের মধ্যে সালেহ মোহাম্মাদি জাতীয় পর্যায়ের কুস্তিগীর ছিলেন। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতেও অংশ নিয়েছিলেন। আদালতে তিনি দাবি করেছিলেন যে, নির্যাতন করে তাঁকে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়েছে। যদিও ইরানের আদালতে তাঁর দাবি ধোঁপে টেকেনি।

ইসরায়েল ও আমেরিকার সঙ্গে অপারেশনে জড়িত থাকার অভিযোগ

মেহদি ঘাসেমি, সালেহ মোহাম্মাদি এবং সাঈদ দাভুদি—এই তিনজনের বিরুদ্ধে “মোহারেবেহ” (ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ)-এর অভিযোগ আনা হয়। যা কিনা ইরানের শরিয়া আইনে গুরুতর অপরাধ। এছাড়াও তাঁদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও আমেরিকার সঙ্গে যোগসাজশ করে “অপারেশনাল কার্যক্রমে” জড়িত থাকার অভিযোগও আনা হয়।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

অ্যামনেস্টি ইন্টারনাশনাল এই ঘটনায় কড়া ভাষায় জানিয়েছে, সালেহ মোহাম্মাদি ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাঁকে যথাযথ আইনি সহায়তা দেওয়া হয়নি। এই বিচার প্রক্রিয়া বিচারের কোনও মানদণ্ড-ই পূরণ করেনি।

আরও গণফাঁসির আশঙ্কা

মানবাধিকার সংগঠনগুলি আশঙ্কা করছে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরান আরও গণফাঁসি কার্যকর করতে পারে। কারণ এর আগের দিনই কোরোশ কেয়ভানি নামে এক ইরান-সুইডিশ নাগরিককে ইসরায়েলের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ফাঁসি দেওয়া হয়।

আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই এই পদক্ষেপ

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, সমাজে ভয় সৃষ্টি করার জন্যই এই ধরনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। কারণ, বিদ্রোহী জনগণ যারা ইরানে বদল চাইছে, বদল দাবি করছে, তারা সরকারের জন্য বড় হুমকি। তাই জনগণের কণ্ঠরোধ করতে, সমাজের ভয় ছড়াতেই মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছে ইরান সরকার।

৫০,০০০ মানুষের মৃত্যু

অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রার পতন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জানুয়ারি থেকে ইরানে শুরু হয় খামেইনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ। সেই বিক্ষোভ কড়া হাতে দমন করে খামেইনি সরকার। সরকারি হিসেব বলছে, ৭,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি। প্রায় ৫০,০০০ মানুষ নিহত, গুম বা তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি।

(Feed Source: zeenews.com)