জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সরকারি অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরম গাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য, বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরম গাইতে হবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এমন নির্দেশের কোনও ভিত্তি নেই। বন্দে মাতরম গাওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
উল্লেখ্য, বন্দে মাতরম নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিরুদ্ধে মামলা ওঠে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলীর বেঞ্চে। মোহাম্মদ সাঈদ নূরি নামে একজন যে আবেদন করেছিলেন, সেটিকে আদালত “খুব তাড়াহুড়ো করে করা” এবং “অস্পষ্ট আশঙ্কার ওপর ভিত্তি করে করা” বলে মন্তব্য করেছে।
মোহাম্মদ সাঈদ নূরির পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ে। তিনি বলেন—তারা দেশের সব ধর্মকে সম্মান করেন। কিন্তু যদি মানুষের ধর্ম বা বিশ্বাস না দেখে তাদের ‘বন্দে মাতরম্’ গাইতে বাধ্য করা হয়, তাহলে অনেকের কাছে এটি জোর করে “দেশের প্রতি আনুগত্য দেখানোর” মতো মনে হতে পারে।
শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী প্রশ্ন তোলেন, কেন্দ্রের নির্দেশিকায় কি বন্দে মাতরম্ না গাইলে কোনো শাস্তির কথা বলা হয়েছে বা কেউ না গাওয়ার জন্য তাকে কি অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে?বিচারপতি বাগচীর ওই প্রশ্নের উত্তরে সঞ্জয় হেগড়ে বলেন, যদি কেউ গোলমাল সৃষ্টি করে, তাহলে শাস্তির কথা আছে। তবে আইনগত শাস্তি না থাকলেও,কেউ গান গাইতে বা দাঁড়াতে অস্বীকার করলে তার ওপর অনেক চাপ পড়ে। শুধু পরামর্শের নামে কি মানুষকে গান গাইতে বাধ্য করা যায়?
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত সঞ্জেয় হেগড়েকে জিজ্ঞাসা করেন আবেদনকারীকে কি কোনও নোটিস পাঠানো হয়েছে, যেখানে কাউকে ‘বন্দে মাতরম্’ গাইতে বাধ্য করা হয়েছে?
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, কেন্দ্র সরকারের নির্দেশিকার ৫ নম্বর ধারায় ‘may’ অর্থাৎ ‘পারতে পারে’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মানে, যেমন জাতীয় গান গাওয়ার স্বাধীনতা আছে, তেমনি না গাওয়ারও স্বাধীনতা আছে। তাই এটি আইনগত অধিকারের বিরুদ্ধে যায় না।
বেঞ্চের তরফে আবেদনকারীকে বলা হয়, যদি তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় বা কোনো নোটিস দেওয়া হয়, তাহলে তিনি তখন আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। এই মুহূর্তে এই আবেদনটি শুধু “অস্পষ্ট বৈষম্যের আশঙ্কা” ছাড়া আর কিছু নয়।
(Feed Source: zeenews.com)
