Dhakuria Manipal Hospital Miracle success: ১৯-এ হার্ট অ্যাটাক, তিনবার মৃত্যু থেকে ফেরা — কলকাতার এক অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের গল্প

Dhakuria Manipal Hospital Miracle success: ১৯-এ হার্ট অ্যাটাক, তিনবার মৃত্যু থেকে ফেরা — কলকাতার এক অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের গল্প

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কলকাতায় ১৯ বছরের এক কলেজ পড়ুয়ার শরীরে হঠাৎ এমন এক সংকট নেমে এল, যা সাধারণত দেখা যায় অনেক বেশি বয়সে। ফুটবল খেলতে খেলতেই বুকে চাপ, তারপর আচমকা অজ্ঞান — কয়েক মিনিটের মধ্যেই জীবন-মৃত্যুর সীমানায় পৌঁছে গেল সে।

বসিরহাটের এই প্রথম বর্ষের বিএসসি পড়ুয়া আকাশকে (নাম পরিবর্তিত) দেখলে কেউ বলবে না সে ‘হাই রিস্ক’। ধূমপান নেই, ডায়াবেটিস নেই, উচ্চ রক্তচাপ নেই, পরিবারেও হার্টের রোগের কোনও ইতিহাস নেই। তবু তার শরীরে যা ধরা পড়ল, সেটা শুনলে চমকে উঠতে হয় — হৃদযন্ত্রের বাঁদিকের প্রধান ধমনীতে সম্পূর্ণ ব্লকেজ।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই ধরনের ম্যাসিভ করোনারি ইভেন্ট সাধারণত চল্লিশ-পঞ্চাশের পর দেখা যায়। ঊনিশ বছরে এটা কার্যত ‘আউটলিয়ার’ — অসম্ভব বিরল।

মাঠ থেকে ক্যাথল্যাব

স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর দ্রুত তাকে নিয়ে আসা হয় কলকাতার ঢাকুরিয়ার মণিপাল হসপিটালে। তখন অবস্থা ভয়াবহ — পালস প্রায় নেই, রক্তচাপ মাপাই যাচ্ছে না। এক মুহূর্ত দেরি না করে সরাসরি ক্যাথল্যাবে নিয়ে শুরু হয় ইমার্জেন্সি ইন্টারভেনশন। করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাফিতে নিশ্চিত হয় সেই আশঙ্কা — সম্পূর্ণ ব্লকেজ, যেকোনও মুহূর্তে প্রাণঘাতী।

অপারেশন টেবিলে তিনবার মৃত্যু

সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনাটা ঘটল অপারেশন টেবিলেই। জরুরি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি চলার মাঝেই তিনবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় ছেলেটির। তিনবারই সিপিআর দিয়ে ফিরিয়ে আনতে হয় তাকে। এই পরিস্থিতিতে বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা চিকিৎসকরাও ভালো করেই জানেন — অত্যন্ত কম। তবু ডা. সৌম্যকান্তি দত্তের নেতৃত্বে একটি টিম এগিয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত ‘লেফট মেইন বাইফারকেশন স্টেন্টিং’-এর মাধ্যমে হৃদযন্ত্রে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক করা গেল।দু’দিনেই বাড়ি, কিন্তু প্রশ্ন থেকে গেল

অস্ত্রোপচারের পর শরীর দ্রুত সাড়া দিল। মাত্র দু’দিনের মধ্যে স্থিতিশীল অবস্থায় হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরল সে। তবে পরবর্তী পরীক্ষায় ধরা পড়ল ডিসলিপিডেমিয়া — অস্বাভাবিক কোলেস্টেরল মাত্রা। চিকিৎসকদের অনুমান, এর পিছনে থাকতে পারে জেনেটিক কারণ, বিশেষত ফ্যামিলিয়াল হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়া– বিরল, কিন্তু মারাত্মক।

শুধু বয়সের খেলা নয় আর

এই ঘটনাকে ‘মেডিক্যাল মিরাকল’ বলা যায়, কিন্তু এর ভেতরে একটা বড় সতর্কবার্তাও আছে। হার্টের রোগ এখন আর শুধু বয়সের গল্প নয়। কোনও উপসর্গ না থাকলেও শরীরের ভেতরে চুপ করে জমতে পারে বিপদ। এবং যখন আঘাত আসে, সময়ই তখন একমাত্র ওষুধ।

১৯ বছরের ছেলেটি এখন ক্লাসরুমে ফেরার অপেক্ষায়। কিন্তু তার গল্প পরিসংখ্যানের বাইরে গিয়ে একটাই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয় — আমরা নিজেদের শরীরকে যতটা ‘নিরাপদ’ ভাবি, সত্যিই কি ততটা?

(Feed Source: zeenews.com)