জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: খুব আলোচনা হচ্ছে ‘এনার্জি লকডাউন’ নিয়ে। কী এই ‘এনার্জি লকডাউন’? শক্তিসংকট? একদিকে ইরানযুদ্ধ (Iran War)। অন্য়দিকে সেই সূত্রেই বিশ্ব জুড়ে তৈরি হওয়া জ্বালানিসংকট (Fuel Crisis)। ওদিকে আবার সামনে আসছে লকডাউনের আশঙ্কা (Lockdown)। কেন লকডাউন, কী বৃত্তান্ত– ভালো করে জানতে না জানতেই আরও ভয়ংকর এবং আরও শক্তিশালী এক নতুন কোভিড ভ্যারিয়েন্টের উত্থানের (BA.3.2 A new COVID-19 variant) খবর কানে এল। সবমিলিয়ে বিশ্বপরিস্থিতি খুবই কঠিন।
এনার্জি লকডাউন
হ্যাঁ, ইদানীং খুবই শোনা যাচ্ছে এনার্জি লকডাউনের কথা। এনার্জি লকডাউন আর কিছু নয়, জ্বালানিসংকট! জ্বালানিসংকট মোটামুটি সারা বছরেরই ব্যাপার। জ্বালানিসংকট আছে। থাকবেও হয়তো। তবে ইদানীং যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় রকম বিঘ্ন ঘটেছে। জ্বানালি না পেয়ে একটা সময় তো দেশে দেশে স্তব্ধ হবে দৈনন্দিন জীবনের চাকা। তেমনটা হলে হয়তো লকডাউনই ঘনিয়ে আসবে। জ্বালানিজনিত যে লকডাউন, সেটাই প্রকারান্তরে এনার্জি লকডাউন।
‘ভেরি সিরিয়াস’
ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (IEA)-ও জানিয়েছে যে, বিশ্ব সবচেয়ে বড় ধরনের এনার্জি ক্রাইসিসের মুখে পড়তে চলেছে। এক দশকে এমন হয়নি! এই পরিস্থিতিতে তারা ‘ভেরি সিরিয়াস’ বলে উল্লেখ করেছে। বিশ্বে নাকি প্রতিদিন ১১ মিলিয়ন ব্যারেলের ঘাটতি! ১৯৭০ সালে ঘটা দুটি তেলসংকটের চেয়েও ভয়ংকর এই সংকট। তখন প্রতিদিনের ঘাটতি ছিল ৫ মিলিয়ন ব্যারেল। মাত্র ৪ সপ্তাহের মধ্যে তেলের দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশ!
নরেন্দ্র মোদীর ডাক
এদিকে ভারতে উদগ্রীব সমস্ত মহল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগামীকাল, শুক্রবার সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। সন্ধে ৬টা ৩০ মিনিটে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী কথা বলবেন মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে রাজ্যগুলির প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার পর্যালোচনা করা হবে। তবে, যেসব রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গও আছে, সেই রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরা এই বৈঠকে অংশ নেবেন না বলেই জানা গিয়েছে। নির্বাচন চলছে এমন রাজ্যগুলির মুখ্য সচিবদের জন্য পরে একটি পৃথক বৈঠকের আয়োজন করা হবে। প্রসঙ্গত, দু’দিন আগেই প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় এক কোটি ভারতীয় বাস করেন। ইতিমধ্যেই ৩ লক্ষ ৭৫ হাজারেরও বেশি ভারতীয়কে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যুদ্ধের ফলে তৈরি হওয়া বিশ্বময় এই অস্থিরতা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে, তাই দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সরকার আগাম পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চাইছে সরকার।
বিশ্বসংকট
হরমুজ প্রণালী বা স্ট্রেট অফ হরমুজের মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা আসায় জ্বালানি সরবরাহে বড়সড় প্রভাব পড়েছে– এ এতদিনে সকলেই জেনে গিয়েছেন। আগামী দিনেও এই সংকট আরও বাড়বে বলেই অনুমান। এমনটা ঘটলে তার কুপ্রভাব পড়বে বিশ্ব জুড়েই। পণ্য আনা-নেওয়ায় তৈরি হবে ঘোর সংকট। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যেরও ঘাটতি হতে পারে। কেননা, তখন তো জ্বালানির অভাবে গাড়িই চলবে না! পশ্চিম এশিয়ায় সংকট বেশি হবে, তবে তার ভয়ংকর প্রভাব পড়বে ভারতেও।
এদিকে কোভিডবিপদ
এর মধ্যেই নতুন বিপদ! কোভিডের এক নতুন ভেরিয়েন্টের কথা সামনে এল। নতুন এই কোভিড ভ্যারিয়েন্টটির নাম– বিএ.৩.২ (BA.3.2)। বিশ্বের ২৩টি দেশে এই ভেরিয়েন্টটি শনাক্ত হয়েছে। এই ভেরিয়েন্টটি আমেরিকার বিমানের বর্জ্যজল এবং তাদের ২৫টি অঙ্গরাজ্যের ১৩২টি পয়ঃপ্রণালীর জলে ধরা পড়েছে। চিন্তার বইকী!
(Feed Source: zeenews.com)
