
Larry Fink predicts Global Reccession: বিশ্বজুড়ে এক ভয়াবহ ও অর্থনৈতিক মন্দা (Global Recession) ডেকে আনবে। বিপর্যস্ত হবে জনজীবন, লোকের হাতে টাকা না থাকায় জিনিসপত্রের দাম বাড়বে, লুঠতরাজ, মহামারি,অনাহার, বিনা চিকিত্সায় মৃত্যুর মত ভয়ংকর অবস্থায় পৃথিবী ছেয়ে যাবে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চরম যুদ্ধের মধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতি এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম সম্পদ বন্টনের প্রতিষ্ঠান ‘ব্ল্যাকরক’-এর প্রধান ল্যারি ফিঙ্ক সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যদি ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছয়, তবে তা বিশ্বজুড়ে এক ভয়াবহ ও অর্থনৈতিক মন্দা (Global Recession) ডেকে আনবে। বিপর্যস্ত হবে জনজীবন, লোকের হাতে টাকা না থাকায় জিনিসপত্রের দাম বাড়বে, লুঠতরাজ, মহামারি,অনাহার, বিনা চিকিত্সায় মৃত্যুর মত ভয়ংকর অবস্থায় পৃথিবী ছেয়ে যাবে।
কেন এরকম মনে করা হচ্ছে?
ল্যারি ফিঙ্কের এই সতর্কবার্তা পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা তীব্রতর হয়েছে। মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আল খামেয়নি-সহ বেশ কয়েকজন সামরিক ও রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুর পর পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এর জবাবে ইরান পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) অবরোধ করে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সারা পৃথিবী জুড়ে সবথেকে বেশি ভারত এই তেল ও গ্যাসর জোগানের অভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
ইরানের এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA)-র মতে, এটি ইতিহাসের বৃহত্তম সরবরাহ বিভ্রাট, যার ফলে প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। যুদ্ধের ২৫ দিনের মাথায় বিশ্ববাজারে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের জোগান বন্ধ হয়ে গেছে।
ল্যারি ফিঙ্কের সতর্কবার্তা
ল্যারি ফিঙ্ক সংবাদ সংস্থা বিবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, জ্বালানি তেলের দাম– সরাসরি উৎপাদন খরচ এবং মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলে। যদি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকে, তবে তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে এবং শিল্পোৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এর ফলে বিশ্বের শক্তিশালী অর্থনীতিও সংকুচিত হতে শুরু করবে, যার চূড়ান্ত পরিণতি হবে ‘গ্লোবাল রিসেশন’ বা বিশ্বমন্দা।
ফিঙ্কের মতে, বর্তমানে বাজারের যে পরিস্থিতি, তাতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম ভীতি কাজ করছে। যদিও সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে একটি ১৫-দফা শান্তি প্রস্তাব পাঠানোর খবরের পর ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম কিছুটা কমে ব্যারেল প্রতি ৯৮ ডলারের আশেপাশে নেমে এসেছে, কিন্তু পরিস্থিতির কোনও স্থায়ী সমাধান এখনও দৃশ্যমান নয়।
হরমুজ প্রণালী
ইরান জানিয়েছে যে, যেসব দেশ তাদের জাতশত্রু নয়,সেইসব জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেবে। তবে তা অবশ্যই ইরানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে হতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই পথটি পুনরায় উন্মুক্ত করার চেষ্টা করছে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি দিলেও আপাতত পাঁচ দিনের জন্য হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। এই সামরিক উত্তেজনার কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এবং তেলের জাহাজগুলো তাদের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে, যা পরিবহন খরচ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে এর সুদূরপ্রসারী ফলাফল
ল্যারি ফিঙ্ক মনে করেন, এই জ্বালানি সংকট কেবল তেলের দাম বাড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বিশ্বের সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ শৃঙ্খলকে লণ্ডভণ্ড করে দেবে।
এর আগে ব্ল্যাকরকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বাজার স্থিতিশীল থাকার পূর্বাভাস দিলেও, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তারা এখন তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে। তেলের দাম ১৫০ ডলারে পৌঁছনো মানে হলো খাদ্যদ্রব্য থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হওয়া, যা উন্নত ও উন্নয়নশীল—উভয় দেশের অর্থনীতির জন্যই বিপজ্জনক।
ল্যারি ফিঙ্ক এবং ব্ল্যাকরক-এর এই বিশ্লেষণ বিশ্বনেতাদের জন্য এক সতর্কবার্তা। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত না করা যায়, তবে বিশ্ব এক গভীর অন্ধকারাচ্ছন্ন অর্থনৈতিক সংকটের দিকে ধাবিত হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি এবং কূটনৈতিক আলোচনাই হতে পারে বিশ্ব অর্থনীতিকে এই সম্ভাব্য মন্দা থেকে রক্ষা করার একমাত্র পথ। তেলের বাজারের এই অস্থিরতা প্রমাণ করে যে, বিশ্ব অর্থনীতি কতটা ভঙ্গুর এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর কতটা নির্ভরশীল।
(Feed Source: zeenews.com)
