
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইরানে কয়েক দশক ধরেই সস্তায় তেল দেয় ভারতকে। সেই তেলের জন্য পেমেন্ট নেয় টাকায়। সেই টাকা জমা পড়ে ভারতীয় ব্যাঙ্কে। আর সেই ভারতীয় টাকার ভারত থেকে বাসমতি চাল, মসলা, স্টিল, ইলেকট্রনিক্স-সহ অন্যান্য সরঞ্জাম কেনে ইরান । ইরানের পাশাপাশি উপসাগরের একাধিক দেশ ভারত থেকে কেনে উন্নত মানের বাসমতি চাল। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে উপসাগারের দেশগুলিতে বাসমতী চাল বিক্রির প্রায় ২৫০০০ কোটি টাকা আটকে রয়েছে। এর ফলে ভারতের বাসমতির ডিলারদের ব্য়বসায় লালবাতি জ্বলে যাওয়ার যোগাড় হয়েছে।
সৌদি আরব, আরব আমিরশাহি, কাতার, বাহারিন, কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে মিসাইল দেগেছে ইরান। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী বহু দেশের জন্য বন্ধ করে দিয়ে সে দুই মহাদেশের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলেই ভারতের বহু জাহাজ উপসাগরের বহু দেশের বন্দরে আটকে রয়েছে। ফলে চাল বিক্রি হচ্ছে না, আটকে গিয়েছে পেমেন্ট। আর ওই টাকার পরিমা প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকা।
ভোপালের একজন ব্যবসায়ী সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, ইরান ইসরায়েল যুদ্ধের ফলে উন্নত মানের ১১২১ বাসমতি চালের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চালের চালান আটকে আছে এবং প্রায় ২,০০০ কোটি থেকে ২৫,০০০ কোটি টাকার মতো পাওনা এখনও মেটানো হয়নি। এর ফলে রপ্তানিকারকরা চরম আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে,আগামী মাসগুলোতে চাষিরাও সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন; কারণ বাজারে চালের চাহিদা কমে যাওয়ায় তাঁদের আয়ও কমে যাবে।
যুদ্ধের ফলে অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব দেশের ব্যবসায়ী, ঠিকাদার এবং শ্রমিকদের ওপর পড়েছে। পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ থাকা এবং পেমেন্ট পেতে দেরি হওয়ার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও রপ্তানি কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সংকটের সময়ে ভারত সরকার একটি সর্বদলীয় বৈঠকের আয়োজন করেছিল, যার সভাপতিত্ব করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বৈঠকে অমিত শাহ, নির্মলা সীতারমণ, এস জয়শঙ্কর এবং হরদীপ পুরীর মতো বরিষ্ঠ মন্ত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল, বর্তমান এই সংঘাতে বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং বিদেশে কর্মরত ভারতীয় শ্রমিকদের ওপর কী প্রভাব পড়ছে। ‘ক্রিসিল রেটিংস’-এর রিপোর্টে সতর্ক করা হয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব যদি দীর্ঘস্থায়ী বা আরও ভয়াবহ হয়, তবে শিল্পখাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির জন্য দেশের ব্যবসা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, বাসমতি চাল রপ্তানি, সার উৎপাদন, হীরা পালিশ, ভ্রমণ এবং বিমান সংস্থা। যেসব শিল্প আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, তারা কাজ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। কারণ তাদের প্রধান শক্তি হিসেবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রয়োজন হয়।
সার এবং সিরামিক খাতের ওপর সবথেকে বেশি বিপদের ঝুঁকি রয়েছে। জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে তেল শোধনাগার এবং টায়ার, রং, রাসায়নিক, টেক্সটাইল ও প্যাকেজিং শিল্পের ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ভারতে নিজস্ব জ্বালানি সম্পদ পর্যাপ্ত না থাকায় দেশের ৮৫ শতাংশ জ্বালানী বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় অর্ধেক অংশই ভারত বিদেশ থেকে আমদানি করে।
উল্লেখ্য, ভারতের বেশিরভাগ আমদানি পণ্য হরমুজ প্রণালী হয়ে আসে। কিন্তু এই অঞ্চলে বিপদ বেড়ে যাওয়ায় শিপিং কোম্পানিগুলো ২০২৬ সালের মার্চের শুরু থেকে এই রুটটি ব্যবহার করা বন্ধ করে দিয়েছে। এর প্রধান একটি কারণ হলে ইন্সিওরেন্স কোম্পানিগুলি দায়িত্ব না নেওয়া। এরকম চললে, বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ফলে জ্বালানির দাম অনেক বেড়ে যাওয়ার এবং সরবরাহে টান পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
