Crime in Bangladesh: মাল আছে, তবু দিবি না কেন? তেল না দেওয়ায় পাম্পমালিকের উপর গাড়ি চড়িয়ে মেরেই দিল সুজাত

Crime in Bangladesh: মাল আছে, তবু দিবি না কেন? তেল না দেওয়ায় পাম্পমালিকের উপর গাড়ি চড়িয়ে মেরেই দিল সুজাত

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নড়াইল-যশোর মহাসড়কের তুলারামপুর এলাকায় জ্বালানি তেল না পাওয়াকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তেল দিতে না পারায় বাকবিতণ্ডার জেরে একটি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় পাম্পের আরও এক কর্মী গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গত শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটের দিকে তুলারামপুর এলাকায় ‘মেসার্স তানভীর ফিলিং স্টেশন’-এর অদূরে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনার বিবরণ

পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত নাহিদ সর্দার (৩৩) তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের আকরাম সর্দারের ছেলে। তিনি মেসার্স তানভীর ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তুলারামপুর গ্রামের জহুরুল মোল্লার ছেলে জিহাদুল ইসলাম (২৭), যিনি ওই পাম্পেরই একজন কর্মী।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং পাম্পের ক্যাশিয়ার মো. জসিমউদ্দীন জানান, শনিবার রাতে সুজাত নামের এক ট্রাকচালক তার ট্রাকে তেল নিতে তানভীর ফিলিং স্টেশনে আসেন। তবে পাম্পে পর্যাপ্ত তেল মজুদ না থাকায় ম্যানেজার নাহিদ সর্দার তাকে তেল দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন চালক সুজাত। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

হত্যার হুমকি

ক্যাশিয়ার জসিমউদ্দীন আরও জানান, বাকবিতণ্ডার সময় ঘাতক ট্রাকচালক সুজাত চিৎকার করে নাহিদকে হুমকি দিয়ে বলেন, “তোদের পাম্পে তেল আছে, তুই দিচ্ছিস না; তোকে আজকে ট্রাকের তলে চাপা দিব।” পাম্পের অন্য এক কর্মচারী মো. সোহান ইসলাম জানান, হুমকির পর ট্রাকচালক সুজাত পাম্প এলাকাতেই অবস্থান করছিলেন। রাত সোয়া ২টার দিকে কাজ শেষ করে নাহিদ সর্দার তার ভাইয়ের বন্ধু জিহাদুল ইসলামকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই সুজাতও তার ট্রাকটি ঘুরিয়ে তাদের পেছনে দ্রুতগতিতে রওনা দেন।

কী ভাবে হল এই হত্যাকাণ্ড?

সোহান ও জসিমউদ্দীনের মনে সন্দেহ জাগলে তারা একটি মোটরসাইকেল নিয়ে ট্রাকটির পিছু নেন। কিছুদূর যাওয়ার পরই তারা দেখেন, ঘাতক ট্রাকটি নাহিদ ও জিহাদুলের মোটরসাইকেলটিকে সজোরে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাচ্ছে। ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান নাহিদ সর্দার। গুরুতর আহত অবস্থায় জিহাদুলকে উদ্ধার করে প্রথমে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

পুলিসের বক্তব্য ও তদন্ত

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘাতক ট্রাকচালককে শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।

ওসি বলেন, ‘আমরা পাম্প এবং এর আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। প্রাথমিক তদন্তে ও ফুটেজ দেখে মনে হচ্ছে, তেল নিয়ে বিতণ্ডার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে এর পেছনে অন্য কোনও পূর্বশত্রুতা বা বিরোধ আছে কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

এলাকায় শোকের ছায়া

একজন পরিশ্রমী যুবক ও পাম্প ম্যানেজারকে এভাবে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘাতক ট্রাকচালক সুজাতের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। নিহত নাহিদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

জ্বালানি তেলের সংকট বা সামান্য বাকবিতণ্ডার জেরে একজন মানুষকে পরিকল্পিতভাবে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যা করার এই ঘটনা দেশের আইন-শৃঙ্খলার জন্য এক চরম উদ্বেগজনক বার্তা। পরিবহন শ্রমিকদের ক্ষোভ ও বেপরোয়া আচরণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইনি পদক্ষেপ না নিলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

(Feed Source: zeenews.com)