জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিশ্ব রাজনীতি এখন এক অস্থির সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ইরান এবং ইজরায়েলের মধ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের মেঘ কেবল জ্বালানি তেল বা শেয়ার বাজারকে প্রভাবিত করছে না, বরং এর প্রভাব পড়ছে মানুষের অতি প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষা পণ্যের বাজারেও। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করা হচ্ছে— ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে কন্ডোমের (Condoms) তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে।
কেন এই অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো? এর পেছনে থাকা অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক কারণ কী?
কাঁচামাল ও ল্যাটেক্স উৎপাদন ব্যাহত
বিশ্বের অধিকাংশ নামী কন্ডোম প্রস্তুতকারক সংস্থা— যেমন Durex, Manforce, Skore, এবং KamaSutra— তাদের পণ্যের প্রধান কাঁচামাল বা ল্যাটেক্স (Latex) সংগ্রহ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে। কিন্তু ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের ফলে লোহিত সাগর (Red Sea) এবং হরমজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
পরিবহন খরচ বৃদ্ধি: জাহাজগুলোকে এখন দীর্ঘ পথ ঘুরে আফ্রিকা হয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এর ফলে পরিবহন খরচ এবং বীমার প্রিমিয়াম আকাশছোঁয়া হয়েছে।
সরবরাহ শৃঙ্খলে ভাঙন: Trojan, Okamoto, এবং Moods-এর মতো ব্র্যান্ডগুলো জানিয়েছে যে, কাঁচামাল পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বাজার ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কঠোর বিদেশনীতি এবং ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে লজিস্টিক সাপোর্ট কমেছে। ইরান বিশ্বের অন্যতম বড় পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদক দেশ, যা কন্ডোম তৈরিতে ব্যবহৃত লুব্রিকেন্ট এবং প্যাকেজিং সামগ্রীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের ফলে এই সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
আমেরিকার বাজারে Trojan এবং জাপানের Okamoto ইতিমধ্যেই সরবরাহ কমার ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের Cupid এবং মালয়েশিয়ার Carex (বিশ্বের বৃহত্তম কন্ডোম প্রস্তুতকারক) পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।সোশ্যাল মিডিয়ায় হাহাকার ও ‘প্যানিক বায়িং’
১লা এপ্রিলের সকালে এই খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিভিন্ন দেশে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে কন্ডোম মজুদ করতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোতে ফার্মেসি এবং সুপারমার্কেটগুলোতে ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
গুজব বনাম বাস্তবতা: অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ১লা এপ্রিলের ‘এপ্রিল ফুল’ কৌতুক হিসেবে কেউ এই খবরটি ছড়িয়ে থাকতে পারে। তবে মুদ্রাস্ফীতি এবং জাহাজ চলাচলে সমস্যার বিষয়টি অস্বীকার করার উপায় নেই।
উত্তরাঞ্চলীয় দেশগুলোর উদ্বেগ: Trust এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোতে দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
যদি সত্যিই এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পরিবার পরিকল্পনা এবং যৌন স্বাস্থ্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কন্ডোমের দাম বাড়লে বা দুষ্পাপ্য হলে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ এবং যৌনবাহিত রোগের (STD) হার বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাত যে কেবল সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পণ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে, এই রিপোর্ট তারই প্রমাণ। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং বিভিন্ন দেশের সরকার জনগণকে অনুরোধ করেছে যাতে কেউ আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পণ্য মজুদ না করেন।
এক নজরে কিছু ব্র্যান্ড:
আন্তর্জাতিক: Durex, Trojan, Okamoto, Carex.
ভারতীয় বাজার: Manforce, Skore, Moods, KamaSutra, Cupid.
যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী কয়েক মাসে এই ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
(Feed Source: zeenews.com)
