জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: শক্তির নিরিখে ইরানের (Iran) চেয়ে কয়েক কদম এগিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US)। সবাই জানে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ও সব চেয়ে সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর সঙ্গে ইসরায়েলের পোড় খাওয়া সেনাবাহিনী আর ধুরন্ধর গোয়েন্দাদল যুক্ত করলে লড়াইটা ইরানের পক্ষে একেবারেই অসম মনে হয়। তবুও কী ভাবে টিকে আছে ইরান? ইরান-ইসরায়েল আমেরিকার যুদ্ধে (Iran Israel US War) এ কী চলছে? বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দিকে মোড় নিলেও এই যুদ্ধ একটা আশ্চর্য উদাহরণ হয়ে থেকে যাবে হয়তো।
ইরান বনাম মার্কিন
ইরানের সঙ্গে লড়াইয়ে ট্রাম্পের হাতের আর কি কোনও তাস নেই? এ নিয়ে খুব স্বাভাবিক ভাবেই এখন প্রশ্ন উঠছে। আপাতদৃষ্টিতে শক্তির ভারসাম্যে ইরানের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে আমেরিকা। ইরানের চেয়ে তিন গুণ বেশি জনসংখ্যা ছাড়াও বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ও অর্থনীতির দেশ এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর এই যুদ্ধে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইসরায়েলের ভয়ংকর সেনাবাহিনী আর তীক্ষ্ণ গোয়েন্দার দল। সব মিলিয়ে ইরানের পক্ষে এই লড়াইটা একেবারেই অসম, এবং এতে তাদের জেতার কোনও আশাই নেই বলে মনে হয়।
কৌশলী ইরান
কিন্তু আদতে ঘটনাটা তা ঘটছে না। ইরানের সঙ্গে যেন ঠিক এঁটে উঠতে পারছে না আমেরিকা-ইসরায়েল। ইরানের সীমিত সামর্থ্য, কিন্তু তার মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যতিব্যস্ত করছে ইরান। নিজেদের দেশের লোকজন একটু চাপে পড়েছে ঠিকই, তবে ইরান এই যুদ্ধে শুধু টিকেই থাকেনি, অনেক বিশ্লেষকই মনে করছেন, তারা যুদ্ধের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রেখেছে। ভাবা যায়?
ট্রাম্পের ক্ষতি
যুদ্ধের এক মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরে লড়াইটা এখন দরকষাকষির ক্ষমতার উপরই নির্ভর করছে। ট্রাম্পের শক্তি হয়তো বেশি। কিন্তু নিরঙ্কুশ জয় পেতে হলে তাঁকে যেসব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে, তা কি সহ্য করার মানসিক প্রস্তুতি তাঁর আছে? বিশেষজ্ঞেরা কিন্তু মনে করছেন, নেই।
ইরানের শক্তি
ইরান হয়তো সরাসরি আমেরিকা বা ইসরায়েলকে হারাতে পারবে না। তবে জ্বালানি রফতানির প্রাণকেন্দ্র হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়ে তারা তুরুপের তাসের বেস্ট চালটি সম্ভবত দিয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন বিশ্ব অর্থনীতিকে তারা সংকটে ফেলেছে, তেমনই বিপদে ফেলেছে ট্রাম্পকেও।
ইরানের মোক্ষম চাল
হরমুজে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল আরও কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। আর এমন পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য চরম অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। মুখ পুড়বেও তাঁর। ইরানের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার এই কৌশল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলির উপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
(Feed Source: zeenews.com)
