সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এনআইএ-র কাছে জানতে চান, মোথাবাড়ির কালিয়াচকে অশান্তির পিছনে কারা রয়েছে?
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট৷
আরও বিপাকে মোথাবাড়ি কাণ্ডের মূল চক্রী হিসেবে ধৃত আইনজীবী এবং মিম নেতা মোফাক্কেরুল ইসলাম৷ মোফেক্কারুল সহ ঘটনার মূল চক্রী হিসেবে ধৃত দু জনকেই এনআইএ-এর হাতে তুলে দিতে বলল সুপ্রিম কোর্ট৷ পাশাপাশি, মোথাবাড়ি কাণ্ডের তদন্তের কেস ডায়েরিও এনআইএ-এর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য রাজ্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ৷
গত বুধবার এসআইআর প্রতিবাদে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল মালদহের মোথাবাড়ি বিধানসভার কালিয়াচক-২ এলাকা৷ ক্ষুব্ধ জনতার বিক্ষোভে দীর্ঘক্ষণ বিডিও অফিসে আটকে থাকেন এসআইআর নথি যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা ৭ জন বিচারক৷ পরে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে ওই বিচারকদের উদ্ধার করে৷
এই ঘটনায় আগেই এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন৷ এ দিন সুপ্রিম কোর্টে অনুসন্ধান রিপোর্ট জমা দেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা৷ এ দিন এনআইএ তদন্তের নির্দেশে সিলমোহর দিয়েছে শীর্ষ আদালতও৷ অবিলম্বে এনআইএ-কে তদন্তভার হস্তান্তর করতে রাজ্য এবং স্থানীয় পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ৷
এ দিন সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া মোথাবাড়ি কাণ্ডের অনুসন্ধান রিপোর্টে এনআইএ জানিয়েছে, মোথাবাড়ি কাণ্ডে জড়িত বলে প্রাথমিক ভাবে ৪৩২ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে৷ ২৬ জন গ্রেফতার হয়েছে, ৫ জনের সরাসরি যোগ পাওয়া গিয়েছে৷ অশান্তির ঘটনায় যুক্ত ৩২ জনের বিরুদ্ধে অতীতে যথেষ্ট অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। সন্দেহজনক হিসেবে ৩০৯ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এনআইএ জানিয়েছে, মোথাবাড়ি পৌঁছে তারা প্রাথমিক অনুসন্ধানটুকু করেছে৷ পূর্ণ তদন্ত শুরু করার জন্য শীর্ষ আদালতের কাছে অনুমতি চায় এনআইএ৷ কেস ডায়েরি হস্তান্তর করার আবেদনও জানায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা৷ কেস ডায়েরি এনআইএ-কে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি৷
প্রধান বিচারপতি বলেন, আমাদের জানানো হয়েছে কমিশন এনআইএকে তদন্তভার দিয়েছে। আমাদের সিলড কভারে প্রাথমিক রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক এফআইআর রাজ্য পুলিশ রুজু হয়েছে। যেহেতু স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, আমরা অবিলম্বে নির্দেশ দিচ্ছি এনআইএ তদন্ত নিজেদের হাতে নিক৷ এনআইএ চাইলে পরবর্তীকালে আরও এফআইআর রুজু করতে পারে বলেও জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট৷ তদন্ত রিপোর্ট কলকাতার এনআইএ কোর্টে সাবমিট করতে হবে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত৷ পাশাপাশি, নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর সুপ্রিম কোর্টেও তদন্তের স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে এনআইএ-কে৷
রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং মুখ্যসচিবের পক্ষ থেকে তাঁদের আইনজীবীরা শীর্ষ আদালতে জানান, ঘটনার পিছনে থাকা দুই মূল মাথা মেফাক্কারুল ইসলাম এবং মৌলানা কাদরিকে রাজ্য পুলিশই গ্রেফতার করেছে৷
এর পরই প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত নির্দেশ দেন, মোথাবাড়ি অশান্তির মাথা হিসেবে যে দু জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের এনআইএ-র হাতে হস্তান্তর করতে হবে৷ যতদিন না সেটা হয়, ততদিন পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখতে হবে মূল দুই অভিযুক্তকে৷ পাশাপাশি মামলায় ধৃত সব সন্দেহভাজনদেরও এনআইএ-কে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত৷ পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ ও প্রশাসনকে সব রকম সহযোগিতা করতে হবে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রধান বিচারপতি এবং জুডিশিয়াল অফিসারদের। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৩ এপ্রিল৷
(Feed Source: news18.com)