
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: গত মার্চ মাসের ঘটনা। দেশ জুড়ে সিনে ইন্ডাস্ট্রিতে বিতর্কের ঝড় তুলে দিয়েছিল কন্নড় প্যান-ইন্ডিয়া ছবি ‘কেডি: দ্য ডেভিল’-এর (KD: The Devil) গান ‘সরকে চুনার তেরি সরকে’। যেমন নোংরা লিরিক্স তেমনই অশালীন নাচ। নোর ফতেহি (Nora Fatehi) এবং সঞ্জয় দত্তকে (Sanjay Dutt) দেখা গিয়েছিল গানের ভিডিয়োটিতে। তীব্র সমালোচনার জেরে জাতীয় মহিলা কমিশন (National Commission for Women, NCW) বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখে এবং গানের অশালীন ও অরুচিকর উপস্থাপনার অভিযোগে নোরা ও সঞ্জয়-সহ সংশ্লিষ্টদের সমন পাঠিয়েছিল। আর এবার নোরাকে শেষ সুযোগ দিন কমিশন। চূড়ান্ত নিদান দেওয়া হল।
কী বলছে এনসিডব্লিউ: সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের রিপোর্ট বলছে জাতীয় মহিলা কমিশন গান সংক্রান্ত বিতর্কে ব্যক্তিগত ভাবে নোরাকে হাজির হওয়ার শেষ সুযোগ দিয়েছে। আগামী ২৭ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন নোরাকে আসতেই হবে কমিশনের কাছে। কমিশন নিজেই থেকেই সুয়ো মোতো মামলা করেছিল। ৭ এপ্রিল অর্থাত্ মঙ্গলবার, আজ মহিলা কমিশনে নোরাকে কমিশনের সামনে সশরীরে হাজিরা দিতে বলেছিল। নোরার বদলে তাঁর আইনজীবী এসেছিলেন। তবে তাঁর প্রতিনিধিত্ব গ্রহণ করেনি জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রহাটকর। তিনি জানিয়েছেন, ‘নোরাকে আগামী ২৭ এপ্রিল কমিশনের সামনে ব্যক্তিগত ভাবে হাজির হওয়ার জন্য শেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’ শুনানির সময় গীতিকার রাকিব আলম, পরিচালক প্রম এবং কেভিএন প্রডাকশনের প্রতিনিধি গৌতম কেএম এবং সুপ্রিথ এদিন কমিশনে হাজিরা দিয়েছিলেন। বিজয়া রহাটকর গানের কথাবার্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, এরকম কথাবার্তা নারীর মর্যাদার চূড়ান্ত পরিপন্থী। সাফ জানানো হয়েছে সৃজনশীলতার নামে মহিলাদের মর্যাদার সঙ্গে ছেলেখেলা করা যায় না পাশাপাশি যাঁরা এদিন হাজির ছিলেন, তাঁরা জানিয়ে ছিলেন যে গানের অর্থ সম্পর্কে তাঁরা অবগত ছিলেন না। এই যুক্তিও কমিশন খারিজ করে দিয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, এদিন উপস্থিত ব্যক্তিরা লিখিত ভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। তাঁরা স্বীকার করেছেন যে, গানটি সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তারা কমিশনকে আরও জানিয়েছেন, আগামী তিন মাস ধরে তাঁরা নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করবেন এবং সেই সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট কমিশনের কাছে জমা দেবেন। আগামীকাল সঞ্জয়ের হাজিরা দেওয়ার দিন।
কেন গানটি ঘিরে তুমুল বিতর্ক: গানটির শুরুতেই এমন কিছু লাইন রয়েছে, যা প্রকৃত অর্থে দ্ব্যর্থবোধক এবং স্পষ্ট যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বর্ণনা বলে মনে হয়। তবে প্রথম স্তবক এগোতে থাকলেই বোঝা যায়, সেই বর্ণনা আসলে একটি পানীয় ও বোতলকে ঘিরেই করা। যদিও তার আগে ব্যবহৃত শব্দচয়ন ভিন্ন অর্থের ইঙ্গিত দেয়। লিরিক্সের পাশাপাশি গানটির কোরিওগ্রাফিও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল। অনেকের মতে এটি অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ এবং নৃত্যশিল্পীকে ‘অবজেক্টিফাই’ বা বস্তু হিসেবে দেখানো হয়েছে যা থেকেই মূল বিতর্কের সূত্রপাত।
(Feed Source: zeenews.com)
