বিচারাধীন প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে দিল্লিতেও সরব হয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস৷
বাংলার এসআইআর নিয়ে সরব আইনজীবী যোগেন্দ্র যাদব, প্রশান্ত ভূষণ৷
বাংলায় এসআইআর-এ ৯১ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ায় এবার জোরাল প্রতিবাদের স্বর উঠল রাজধানী দিল্লিতেও৷ এই ভাবে ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়াকে অসাংবিধানিক বলে দাবি করলেন আইনজীবী যোগেন্দ্র যাদব এবং প্রশান্ত ভূষণ৷ প্রসঙ্গত বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীনও একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সওয়াল করেছিলেন এই দুই আইনজীবী৷
বুধবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ভারত জোড়ো অভিযান এবং দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের পক্ষ থেকে যৌথভাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী এবং সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, প্রশান্ত ভূষণ— যাঁরা দুজনেই সর্বোচ্চ আদালতে লড়েছেন এসআইআরের বিরোধিতায়। এ দিন যোগেন্দ্র যাদব বলেন— বাংলা এসআইআরে যে তথ্য আমাদের হাতে উঠে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংখ্যালঘু ভোটারদের নামই অ্যাডজুডিকেশনের তালিকায় এসেছে এবং তাঁদের নামই সবচেয়ে বেশি হারে বাদ গিয়েছে। যার ফলে আমাদের হিসেব বলছে প্রায় ৫৪-৭০টি আসনের ফল প্রভাবিত হতে পারে। তাহলে কি বিজেপির মিশন সম্পূর্ণ হল?
একধাপ এগিয়ে আইনজীবী প্রশান্ত ভুষণ বলেন, ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্র করার কথা নিজেদের ইস্তেহারে উল্লেখ করেছিল বিজেপি। যখন তাঁরা বুঝতে পারে সংবিধান বদল করে সেটা সম্ভব হবে না, তখন এনআরসি করে। এনআরসির উদ্দেশ্যও সফল না হওয়ায় এখন এসআইআর করা হচ্ছে। কমিশন বিজেপির কর্মীর মতো কাজ করছে বলেও কটাক্ষ করেন প্রশান্ত ভূষণ৷
বাংলায় এসআইআর-এ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর বিচারাধীন ছিল ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫টি নাম৷ বিচারাধীন থাকা সেই নামের মধ্যে ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জন ভোটারকে বৈধ বলে চিহ্নিত করেছেন নথি যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা বিচারকরা৷ নাম বাদ গিয়েছে ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জন ভোটারের৷ এর সঙ্গে খসড়া তালিকা এবং চূড়ান্ত তালিকায় বাদ যাওয়া নামের সংখ্যা যোগ করলে এসআইআর-এ বাংলায় নাম বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা ৯১ লক্ষ ছুঁয়েছে৷
এ দিনই দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করেছে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল৷ এবার প্রশান্ত ভূষণ, যোগেন্দ্র যাদবদের মতো আইনজীবীরাও বাংলায় বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়া নিয়ে সরব হলেন৷
(Feed Source: news18.com)