ভাইরাল ‘কুম্ভ গার্ল’ মোনালিসাকে ঘিরে বিতর্কে নতুন মোড়। এনসিএসটি-র তদন্তে দাবি, মোনালিসা নাবালিকা। সেই ভিত্তিতে স্বামী ফারমান খানের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।
ভাইরাল ‘কুম্ভ গার্ল’ মোনালিসাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবার গুরুতর আইনি জটিলতায় পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে এসেছে, মোনালিসা নাবালিকা হতে পারেন—এমনই দাবি করেছে জাতীয় তফসিলি জনজাতি কমিশন (এনসিএসটি)।
রিপোর্ট অনুযায়ী, এনসিএসটি-র তদন্তে জানা গিয়েছে, মোনালিসার বয়স বর্তমানে ১৬ বছর। এর ভিত্তিতেই মধ্যপ্রদেশের খারগোন জেলার মহেশ্বর থানায় তাঁর স্বামী ফারমান খানের বিরুদ্ধে পকসো আইনে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, মোনালিসা পারধি জনজাতি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। এনসিএসটি সরকারি নথি খতিয়ে দেখে জানিয়েছে, মধ্যপ্রদেশের মহেশ্বরের একটি সরকারি মেডিক্যাল হাসপাতালে তাঁর জন্ম নথিভুক্ত রয়েছে। নথি অনুযায়ী, তাঁর জন্ম ৩০ ডিসেম্বর ২০০৯, সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটে। সেই হিসাবে, ২০২৬ সালের ১১ মার্চ বিয়ের সময় তাঁর বয়স ছিল ১৬ বছর।
তদন্তে বিয়ের স্থানও চিহ্নিত করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, কেরলের তিরুবনন্তপুরমের কাছে পুভারের অরুমানুর মন্দিরে তাঁদের বিয়ে হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আধার কার্ডে উল্লেখিত বয়সের ভিত্তিতেই বিয়েটি সম্পন্ন করা হয়েছিল। পরে পুভারের গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে সেই বিয়ের নথিভুক্তিকরণও হয়।
এনসিএসটি-র রিপোর্টের ভিত্তিতে মহেশ্বর থানায় ফারমান খানের বিরুদ্ধে পকসো আইন ছাড়াও ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) এবং তফসিলি জাতি ও জনজাতি অত্যাচার প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে মোনালিসা বা ফারমান খানের পক্ষ থেকে কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে মোনালিসা জানিয়েছিলেন, একটি শুটিংয়ের সময় ফারমান খানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরিবারের পক্ষ থেকে অন্যত্র বিয়ের চাপ থাকায় তাঁরা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সময় তাঁরা নাবালিকা হওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছিলেন।
এই ঘটনার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে নাবালিকা হয়েও বিয়ে সম্পন্ন হল এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ে কোথায় ত্রুটি রয়ে গেল। তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর।
(Feed Source: news18.com)