Justice Yaswant Varma corruption Case: দিল্লির বড় খবর: সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে, বেইজ্জত হওয়ার ভয়ে আগেই ইস্তফা বিরাট প্রভাবশালীর

Justice Yaswant Varma corruption Case: দিল্লির বড় খবর: সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে, বেইজ্জত হওয়ার ভয়ে আগেই ইস্তফা বিরাট প্রভাবশালীর

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দীর্ঘ টালবাহানা, আইনি লড়াই এবং সংসদীয় তদন্তের মাঝেই নাটকীয় মোড় নিল বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার ‘নগদ-কাণ্ড’। শুক্রবার ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিলেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই বিতর্কিত বিচারপতি।

তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগের ফলে বিচারপতিকে পদ থেকে সরানোর যে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া (ইমপিচমেন্ট) শুরু হয়েছিল, তা কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ল। তবে পদত্যাগ করলেও পিছু ছাড়ছে না বিতর্ক। বরং প্রশ্ন উঠছে বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং অভিযুক্ত বিচারপতির ভবিষ্যৎ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে।

লুটিয়েন্স দিল্লির সেই অগ্নিকাণ্ড

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ১৪ মার্চ। দিল্লির অভিজাত লুটিয়েন্স অঞ্চলের তুঘলক রোডে তৎকালীন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার সরকারি বাংলোয় আচমকা আগুন লাগে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী। আগুন নেভাতে গিয়ে বাংলোর একটি বন্ধ ঘরে দমকল কর্মীরা যা দেখেন, তাতে তাঁদের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়।

দমকলের দাবি

ওই ঘরে তাঁরা প্রায় দেড় ফুট উঁচু টাকার স্তূপ দেখতে পান। অভিযোগ ওঠে, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ছিল সম্পূর্ণ হিসাব-বহির্ভূত। আগুনে বেশ কিছু নোটের বান্ডিল পুড়ে গেলেও একটি বড় অংশ অক্ষত ছিল। ঘটনার সময় বিচারপতি ভার্মা শহরে ছিলেন না। পুলিস ও তদন্তকারী সংস্থা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অর্থের উৎস জানতে চাইলেও বিচারপতির পক্ষ থেকে সন্তোষজনক কোনও উত্তর মেলেনি বলে অভিযোগ।

বিচারবিভাগীয় কড়াকড়ি ও বদলি

এই ঘটনায় দেশের বিচারবিভাগের ভাবমূর্তি চরম সংকটে পড়ে। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করে। প্রাথমিক তদন্তে সন্তুষ্ট না হয়ে শীর্ষ আদালত বিচারপতি ভার্মাকে বিচারিক কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

শাস্তিস্বরূপ তাঁকে দিল্লি হাইকোর্ট থেকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে বদলি করা হয় এবং সেখানেও তাঁকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ মামলার দায়িত্ব না দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়।

সংসদীয় তদন্ত ও ইমপিচমেন্ট

নগদ উদ্ধারের ঘটনায় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তিন সদস্যের একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ভারতীয় সংবিধানে একজন কর্মরত বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত এবং তাঁকে অপসারণের প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। এক্ষেত্রে শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষই বিচারপতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ায় ইমপিচমেন্ট বা অপসারণ প্রক্রিয়াটি মসৃণ হবে বলেই মনে করা হচ্ছিল।

তদন্ত চলাকালীন বিচারপতি ভার্মা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন:

‘যে ঘরে টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেই ঘরটি আমার বা আমার পরিবারের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। আমি ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলাম না। পুলিস ও দমকল কর্মীরা যদি ঘটনাস্থল সুরক্ষিত রাখতে না পারেন, তবে তার দায় আমার ওপর চাপানো অন্যায়।’

এমনকি তিনি সংসদীয় প্যানেলের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু শীর্ষ আদালত তাঁর সেই আবেদন খারিজ করে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার সবুজ সংকেত দেয়।
ইস্তফার নাটকীয় মুহূর্ত।

তদন্ত কমিটি বিচারপতি ভার্মাকে ১০ এপ্রিল থেকে ১৪ এপ্রিলের মধ্যে নিজের বক্তব্য পেশ করার চূড়ান্ত সময় দিয়েছিল। যেদিন তাঁর নিজের পক্ষে সওয়াল করার কথা, ঠিক সেই দিনই তিনি পদত্যাগের পথ বেছে নিলেন। রাষ্ট্রপতিকে লেখা তাঁর চিঠিতে এক প্রকার অভিমান ও রহস্যের সুর ধরা পড়েছে।

তিনি লিখেছেন:

‘যেসব কারণে আমি এই পত্রটি জমা দিতে বাধ্য হয়েছি, সেই কারণগুলো উল্লেখ করে আপনার মহামান্য দফতরকে ভারাক্রান্ত করতে চাই না, তবুও গভীর দুঃখের সঙ্গে আমি এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারকের পদ থেকে অবিলম্বে আমার পদত্যাগপত্র জমা দিচ্ছি।’

আইনি জটিলতা: পেনশন কি পাবেন?

বিচারপতি ভার্মার এই ইস্তফার পর সবথেকে বড় যে প্রশ্নটি সামনে আসছে তা হল– তিনি কি একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির মতো সমস্ত পেনশন ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন?

আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভারতের বর্তমান আইন অনুযায়ী, কোনও বিচারপতির বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে যদি তিনি পদত্যাগ করেন এবং সেই পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়, তবে তিনি ‘অবসরপ্রাপ্ত’ হিসেবেই গণ্য হন। সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের একাধিক হাইকোর্ট এবং শীর্ষ আদালত পূর্ববর্তী বিভিন্ন রায়ে এই অবস্থানকে স্বীকৃতি দিয়েছে যে পদত্যাগকে এক প্রকার ‘অবসর’ হিসেবেই দেখা হবে।

সাংসদীয় বিড়ম্বনা:

এর ফলে একটি বিড়ম্বনা তৈরি হয়েছে। সংসদীয় তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পেশের আগেই ইস্তফা দেওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তি হওয়া কঠিন হয়ে পড়ল। লোকসভা সচিবালয়ের সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, যেহেতু তিনি আর পদে নেই, তাই তাঁর বিরুদ্ধে অপসারণ প্রক্রিয়ার আর কোনো আইনি যৌক্তিকতা অবশিষ্ট নেই।
বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন।

বিচারপতি যশবন্ত ভর্মার এই অধ্যায় ভারতীয় বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। লুটিয়েন্স দিল্লির বাংলো থেকে উদ্ধার হওয়া সেই বিপুল অর্থের মালিক কে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই গেল। একদিকে যেমন পদত্যাগের ফলে তিনি সংসদীয় তদন্তের কাঠগড়া থেকে রেহাই পেলেন, অন্যদিকে বিচারবিভাগের অন্দরে স্বচ্ছতা এবং উচ্চপদস্থদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হল।

তদন্তকারী প্যানেল আগেই জানিয়েছিল যে, যে ঘর থেকে টাকা উদ্ধার হয়েছিল তা বিচারপতি ও তাঁর পরিবারের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। এই অবস্থায় ইস্তফার মাধ্যমে বিচারপতির এই ‘সেফ এক্সিট’ বা নিরাপদ প্রস্থান সাধারণ মানুষের মনে বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি করল। পদত্যাগের ফলে হয়তো সংসদীয় প্রক্রিয়া থমকে গেল, কিন্তু জনমানসে যশবন্ত ভার্মাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের আগুন সম্ভবত এখনই নিভছে না।

(Feed Source: zeenews.com)