
Asha Bhosle Lata Mangeshkar: আজ থেকে ৬৩ বছর আগে! রেকর্ডিং রুম থেকে আচমকা কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে এসেছিলেন আশা ভোঁসলে! এরপরেই দিদি লতা গেয়েছিলেন এক কিংবদন্তি গান! জানেন কোন সেই অবিস্মরণীয় গান? কেন কেঁদে ফেলেছিলেন আশা? চমকে দেওয়া অজানা গল্প!
১৯৬৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল এক অবিস্মরণীয় গান। সঙ্গীত জগতের মাইলস্টোন সেই গান আজও প্রত্যেক ভারতীয়ের চোখে জল এনে দেয়। কিন্তু এই গানটি রেকর্ড করার আগের মুহূর্তে ঠিক কী ঘটেছিল রেকর্ডিং রুমের বাইরে? খুব কম মানুষই জানেন সেদিন আশা ভোঁসলে এবং লতা মঙ্গেশকরের মধ্যে তৈরি হয়েছিল এক আবেগঘন মুহূর্ত। চলুন আজ আশা ভোঁশলের প্রয়াণের প্রাক্কালে শুনে নেওয়া যাক সেই গায়ে কাঁটা দেওয়া অজানা গল্প।
১৯৬৩ সালে, যখন দেশ চিন যুদ্ধের পরবর্তী বিপর্যয়ে শোকাহত, সেই সময় কবি প্রদীপ এবং সুরকার সি. রামচন্দ্র যুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একটি গান রচনা করছিলেন। তবে, এই গানটি তৈরির ইতিহাস এমন এক বিতর্ককে আড়াল করে রেখেছে, যা সম্পর্কে খুব কম মানুষই আজও অবগত।
এই প্রসঙ্গে চলচ্চিত্র সঙ্গীতের ইতিহাসবিদ রাজীব শ্রীবাস্তব তাঁর লেখায় এই গল্পটি আরও সবিস্তারে তুলে ধরেছেন। চলুন, আজ এই প্রতিবেদনে জেনে নেওয়া যাক সেই কাহিনী।
দীননাথ ও শেবন্তী মঙ্গেশকরের পাঁচ সন্তানই সঙ্গীত জগতে নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন। একদিকে যেমন কোকিলকণ্ঠী লতা মঙ্গেশকর তাঁর দীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে গেয়েছেন হাজারো কালজয়ী গান। অন্যদিকে কন্যা আশা ভোঁসলেও একজন বহুমুখী গায়িকা হিসেবে অচিরেই নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। প্রতিটি ধারা ও ভাষায় গানের জগতে জাদু ছড়িয়েছেন আশা।
পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে মধ্যে মীনা খাড়কিকর একজন প্লে ব্যাক সিঙ্গার হিসেবে চর্চিত নাম ও একইসঙ্গে সঙ্গীত ঐতিহ্যের ধারক। হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রের একজন প্রখ্যাত নেপথ্য গায়িকা ঊষা মঙ্গেশকরও কম জনপ্রিয় নন। ভাই-বোনদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর একজন প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক ও সুরকার।
আশার ব্যক্তিগত জীবন ছিল নানা চড়াই উৎরাই পরিপূর্ণ। ১৬ বছর বয়সে তিনি পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেন। দিদি লতা তাতে যারপরনাই ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। এই বিয়ের সম্পর্কে তাঁদের তিন সন্তানও ছিল, কিন্তু ১৯৬০ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।
সঙ্গীত ইতিহাসবিদ রাজীব শ্রীবাস্তবের মতে, লতা মঙ্গেশকর এই বিশেষ গানটি নিয়ে অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত ছিলেন। তিনি নিজে সুরকার শ্রীরামচন্দনকে ফোন করে গানটি গাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। শুধু তাই নয় তিনি একাই গানটি রেকর্ড করে ফেলেন। অচিরেই তাঁর সুমধুর ও মর্মস্পর্শী কণ্ঠ এই গানটিকে ভারতীয় ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দেশাত্মবোধক গানে পরিণত করে। বলার অপেক্ষা রাখে না কিংবদন্তি সেই গানটি হল ‘অ্যায় মেরে ওয়াতান কে লোগো’!
১৯৬৩ সালের ২৭শে জানুয়ারি দিল্লির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে যখন লতা মঙ্গেশকর এই গানটি গেয়েছিলেন, শোনা যায় তখন সেখানে উপস্থিত পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু পর্যন্ত অশ্রুসিক্ত হয়ে পরেছিলেন।
আজ এই গানটি একটি জাতীয় সম্পদে পরিণত হয়েছে, কিন্তু এর রেকর্ডিংয়ের সেই সন্ধ্যাটি আশা ভোঁসলের জন্য চিরদিনের এক বেদনার মুহূর্ত হয়ে রয়ে যায়।
আজ, ৯২ বছর বয়সে তাঁর প্রয়াণের মুহূর্তে, আশা ভোঁসলের গোটা পরিবার সঙ্গীতের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাঁর পাঁচ নাতি-নাতনি রয়েছে, যাদের মধ্যে অন্যতম হেমন্তের ছেলে চৈতন্য ভোঁসলে একটি মিউজিক ব্যান্ডের সদস্য এবং আনন্দের মেয়ে জনাই ভোঁসলে একজন উদীয়মান গায়িকা ও কত্থক নৃত্যশিল্পী।
আশা ভোঁসলের সন্তানরা :১৯৮০ সালে কিংবদন্তি সঙ্গীতজ্ঞ আর. ডি. বর্মণ (পঞ্চম দা)-কে বিয়ে করেন। তাঁর আমৃত্যু সেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন আশা। হেমন্ত ভোঁসলের জ্যেষ্ঠ পুত্র, হেমন্ত ভোঁসলে ছিলেন পাইলট ও বিশিষ্ট সঙ্গীত পরিচালক (মৃত্যু ২০১৫)। কন্যা, বর্ষা ভোঁসলে ছিলেন একজন প্রখ্যাত লেখিকা (মৃত্যু ২০১২)। আশা ভোঁশলের ছোট ছেলে আনন্দ ভোঁসলেই বর্তমানে আশা মঙ্গেশকরের কর্মজীবন পরিচালনা করে চলেছিলেন।
(Feed Source: news18.com)
