পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মাঝে ভারতের জন্য বড় স্বস্তির খবর। মার্কিন প্রশাসনের নীতিগত বদলে রাশিয়ার তেল কেনায় সাময়িক ছাড় বাড়ানো হয়েছে, ফলে আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও সস্তায় জ্বালানি আমদানি চালিয়ে যেতে পারবে ভারত।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ভালই হল ভারতের! এবার সস্তায় গ্যালন গ্যালন তেল কেনা যাবে, বড় ইউ-টার্ন!
রাশিয়ার তেল নিয়ে নীতিতে বড়সড় পরিবর্তন আনল আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শুক্রবার এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করে জানায়, ভারতসহ একাধিক দেশকে রাশিয়ার নিষিদ্ধ তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনার জন্য সাময়িক ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এই ছাড় মূলত এক মাসের জন্য কার্যকর থাকবে এবং তা প্রযোজ্য হবে সমুদ্রে থাকা রাশিয়ার তেলের চালানের ক্ষেত্রে।
এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে নেওয়া হল, যখন আমেরিকা-ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে এবং তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। সেই পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রয়টার্স সূত্রে জানা গিয়েছে, মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট নতুন লাইসেন্স জারি করে জানিয়েছে, ১৭ এপ্রিল থেকে ১৬ মে পর্যন্ত যে রাশিয়ান তেল জাহাজে করে পরিবহন করা হবে, তা নির্দিষ্ট শর্তে কেনা যাবে। এর আগে যে ৩০ দিনের ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা ১১ এপ্রিল শেষ হয়ে যায়। নতুন সিদ্ধান্ত সেই ব্যবধান পূরণ করল।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, রাশিয়ার তেলের উপর এই ছাড় আর বাড়ানো হবে না। সেই অবস্থান থেকে সরে এসে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে বড় ইউ-টার্ন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে এই ছাড় শুধুমাত্র রাশিয়ার তেলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ইরান, কিউবা এবং উত্তর কোরিয়ার তেল এই সিদ্ধান্তের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে। বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে আমেরিকার হাতে বিকল্প খুবই সীমিত হয়ে পড়েছিল। ফলে এই ধরনের ছাড় দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না বলেই মনে করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে আরও ছাড় দেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
ভারতের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ছাড় পাওয়ার পর ভারত ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ রাশিয়ান তেল আমদানি করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, আগের ছাড় কার্যকর হওয়ার পর ভারত প্রায় ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল রাশিয়ান তেল কিনেছিল।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারত আগামী দিনেও কম দামে রাশিয়ার তেল কিনতে পারবে, যা দেশের জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় ভূমিকা নেবে। তবে এই সিদ্ধান্ত আমেরিকার অভ্যন্তরেও সমালোচনার মুখে পড়েছে। কিছু মহলের মতে, এতে মস্কো ও তেহরানের উপর আর্থিক চাপ কমে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং সরবরাহ সংকট কাটাতে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
(Feed Source: news18.com)