NRS Medical Collage: মলাশয়-বৃহদন্ত্রের মাঝে আটকে আস্ত ক্রিকেট বল, অবিশ্বাস্য কায়দায় বের করা হল NRS-এ

NRS Medical Collage: মলাশয়-বৃহদন্ত্রের মাঝে আটকে আস্ত ক্রিকেট বল, অবিশ্বাস্য কায়দায় বের করা হল NRS-এ

অয়ন শর্মা: দেহের মধ্যে আস্ত একটি ক্রিকেট বল। পেটের মধ্যে থাকা সেই বল বের করতে হিমশিম খেতে হল সার্জারির অধ্যাপক ডাঃ অমিত রায় ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রুনা বলকে। অবশেষে সেই বল বের করতে পারায় চিন্তামুক্ত এনআরএস হাসপাতাল।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা। ঘটনাস্থল এনআরএস মেডিকেল কলেজের ইমার্জেন্সি সার্জারি অপারেশন থিয়েটার। কেষ্টপুরের জগৎপুরের বাসিন্দা সুমিত কর্মকারের মলাশয় ও বৃহদন্ত্রের মাঝখানে, চারপাশে গোল হয়ে ঘিরে চিকিৎসকরা। প্রথমে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বিধাননগর মহকুমা হাসপাতাল। তারপর তাকে নিয়ে আসা হয় এনআরএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

‘রহস্যময়ভাবে’ আস্ত ক্রিকেট বল ঢুকে রয়েছে ৫৬ বছরের সুমিতবাবুর শরীরে। মলাশয় ও বৃহদন্ত্রের মাঝখানে। বেশ বড় বলটি বের করার দুটি চেষ্টা বিফলে গিয়েছে। এসব ক্ষেত্রে দক্ষ সার্জনদের প্রিয় যন্ত্র অ্যালিস টিস্যু ফরসেপ আর স্পঞ্জ হোল্ডিং ফরসেপ। দুটি দিয়েই আপ্রাণ চেষ্টা হয়েছে। কাজে দেয়নি। তৃতীয় বিকল্প সার্জনের ছুরি বা স্ক্যালপেল দিয়ে বলটিকে আড়াআড়ি কেটে ফেলা। তারপর ফরসেপ ঢুকিয়ে বের করে আনা। সেই চেষ্টাও করলেন সার্জারির অধ্যাপক ডাঃ অমিত রায়। কিন্তু প্লাস্টিকের সবুজ বলটি এতটাই শক্ত, ভেঙেই দিল স্ক্যালপেলের ব্লেড! চতুর্থ বিকল্প পেট চিরে পরিষ্কার দেখতে পাওয়া সুবিধাজনক অবস্থান থেকে বলটি বের করা। বলটি দেখা গেলেও বের করে আনতে গেলে পরে জীবনমরণ সংকট হতে পারে সুমিতবাবুর। তা হলে?

সার্জেনদের মাথায় খেলল স্ত্রীরোগ বিভাগের বিভিন্ন যন্ত্রের কথা। নর্মাল ডেলিভারির সময় সেগুলি দিয়েই বের করা হয় বাচ্চাকে। ডাঃ রায়ের ডাক পেয়ে যন্ত্রপাতি নিয়ে প্রায় ছুটতে ছুটতে ওটিতে হাজির হলেন স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের প্রধান ডাঃ রুনা বল এবং তাঁর টিম। প্রথমে সন্তান বের করার মেটালিক ফরসেপ প্রয়োগ হল। জায়গাটি বেশি স্থিতিস্থাপক এবং বড়ো না-হওয়ায় ঢুকতেই পারল না। কিন্তু নিরাশ করল না গর্ভস্থ সন্তানের মাথা বের করে আনার জনপ্রিয় অর্ধবৃত্তাকার যন্ত্র ভেন্টুস। ভ্যাকুয়াম নির্ভর যন্ত্রটি দিয়ে টানতেই বেরিয়ে এল বলটি। ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ল গোটা টিমের!

এদিকে বলটি রেকটামে ঢোকায় সেখানকার স্পিংটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই পায়খানার রাস্তা বের করে পাউচ দিয়ে রাখা আছে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আগামী ৬ মাসে অন্তত দুটি অপারেশন করতেই হবে সুমিতবাবুর। এমনই জানিয়েছেন ডাক্তাররা।

(Feed Source: zeenews.com)