)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দেশের নারী শক্তির উন্নয়নের জন্য যে চেষ্টা সরকার করেছিল তা করতে দেয়নি বিরোধীরা। টেনে আনলেন মহিলা সংরক্ষণ বিল আটকে যাওয়ার প্রসঙ্গ। শনিবার সন্ধেয় জাতীয় উদ্দেশে তাঁর ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মা-বোনদের কাছে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। সরকারের উদ্দেশ ছিল দেশহিত। কিন্তু বিরোধীরা তা হতে দেয়নি। এই পাপের ফল তাদের ভুগতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ বিশেষকরে দেশের মহিলা, মা ও বোনদের সঙ্গে কথা বলতে এসেছি। ভারতের প্রতিটি মানুষ দেখছে, কীভাবে দেশের মহিলাদের উন্নয়নকে রুখে দেওয়া হল। তাদের স্বপ্নকে কীভাবে পিষে দেওয়া হল। আমাদের এত বছরের চেষ্টার পরও আমরা সফল হতে পারলাম না। মহিলা বিল সংশোধনী বিল পাস হল না। এর জন্য আমরা দেশের মা-বোনদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমাদের কাছে দেশহিত সবার আগে। কিন্তু কিছু লোকের কাছে যখন দলহিত সবকিছু হয়ে যায় তখন নারীশক্তি-দেশহিতকে তার মূল্য দিতে হয়। এবারও সেটাই হল।
বিরোধীদের নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার কংগ্রেস, জিএমকে, সপা, তৃণমূল কংগ্রেসের স্বার্থবাদী রাজনীতির ফল দেশের মহিলাদের ভোগ করতে হল। কাল দেশের কোটি কোটি মহিলাদের নজর সংসদে ছিল। দেশের মহিলারা দেখছিলেন, আমিও দেখলাম, যখন মহিলা বিল ভোটে হেরে গেল তখন কংগ্রেস, ডিএওমক, টিএমসি, সপা-র মতো পার্টি খুশিতে তালি বাজাচ্ছিল। মহিলাদের অধিকার হরণ করে এরা হাততালি দিচ্ছেন। ওরা শুধু টেবিল চাপড়াচ্ছিল না বরং ওর মহিলাদের আত্মসম্মানে আঘাত করছিল। এই স্মৃতি দেশের মহিলাদের মনে গেঁথে থাকবে। তারা যখনই এইসব নেতাদের দেখবে তখন মনে করবে এরাই তাদের অধিকার হরণ করেছিল।
এরা উল্লাস করেছিল। যারা মহিলা বিলের বিরোধিতা করেছে তাদের বলব, ওরা ভুলে গিয়েছেন ২১ শতকের মহিলারা দেশের প্রতিটি ঘটনার উপরে নজর রাখেন। সত্যিটা তারা জেনে গিয়েছেন। তাই মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা করে বিরোধীরা যে পাপ করেছে তার ফল তাদের ভোগ করতেই হবে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল সংশোধনীর পক্ষে ভোট পড়ে ২৯৮টি, বিপক্ষে ভোট পড়ে ২৩০টি। ফলে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ভোটের মুখে ঘুরপথে ডিলিমিটেশনের পরিকল্পনা ভেস্তে যায় সরকারের। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, মহিলা বিল কারও অধিকার হরণের জন্য আনা হয়নি। বরং সরকারের উদ্দেশ ছিল সবাইকে কিছু না কিছু দেওয়া। দেওয়ার জন্য় সংশোধন করা হচ্ছিল বিলটি। এটি ছিল সময়ের দাবি। কংগ্রেস ও তার সহযোগীরা ওইদিন সংসদের গোটা দেশের সামনে ভ্রূণহত্যা করে দিয়েছে। কংগ্রেস, টিএমসি, সপা ও তার সহযোগীরা এই ভ্রূণহত্যার জন্য দায়ী। এরা দেশের মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে। কংগ্রেস বরাবরই মহিলা সংরক্ষণের বিরোধিতা করেছে। কংগ্রেসের মুখোশ খুলে গিয়েছে। কংগ্রেস অন্য অনেক রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যত অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে।
কংগ্রেসকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কংগ্রেস টানা মিথ্যে বলে চলেছে। এই বিলের আড়ালে বিভাজনের আগুন জ্বালতে চাইছে। বরাবরই বিভাজনের রাজনীতি করে এসেছে। আজও তা করেছে। দেশে ফাটল ধরানোর জন্য কাজ করে এসেছে কংগ্রেস। এই জন্য একটা মিথ্যে কথা প্রচার করা হচ্ছে যে ডিলিমিটেশেনের জন্য কিছু রাজ্যের লোকসান হবে। আমি স্পষ্ট করে দিতে চাই যে ডিলিমিটেশনের কারণে কারও ভাগে কম পড়বে না। কারও রিপ্রজেন্টশেন কম হবে না। বরং সব রাজ্যের সিট সমান অনুপাতে বাড়বে। তার পরেও কংগ্রেস, টিএমসি, সপার মতো দল এটা মানতে চায় না। এই বিল সব দল সব রাজ্যের জন্য একটা সুয়োগ ছিল। এই বিল পাস হলে তামিলনাড়ু, কেরালা, বাংলা-সবার সিট বাড়তো। কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থে এইসব দল তাদের রাজ্যের মানুষদের ঠকালেন। টিএমসির কাছেও সুয়োগ ছিল। তারা এই সুয়োগ হাতছাড়া করল। কংগ্রেস জিএসটির বিরোধিতা করেছিল, সংরক্ষণের বিরোধিতা করেছিল, তিন তালাকের বিরোধিতা করেছিল, ৩৭০ ধারার বিরোধিতা করেছিল, কংগ্রেস ইউনিফর্ম সিভিল কোডেরও বিরোধিতা করে। এদের মানুষ ক্ষমা করবে না।
(Feed Source: zeenews.com)
