জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দিল্লির তিস হাজারি আদালত এক ঐতিহাসিক রায়ে কার্যরত CBI [Central Bureau of Investigation] জয়েন্ট ডিরেক্টর রমনীশ গীর [Ramneesh Geer] ও অবসরপ্রাপ্ত ACP ভি কে পাণ্ডেকে [V.K. Pandey] দোষী সাব্যস্ত করেছে। ঘটনা ২০০০ সালের। রায় এল ২৫ বছর পর।
কাকভোরের সেই অভিযান
২০০০ সালের ১৯ অক্টোবর। ভোর ৫টা। দিল্লিতে এক উচ্চপদস্থ আয়কর আধিকারিকের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। টার্গেট: অশোক কুমার আগরওয়াল [Ashok Kumar Aggarwal], তৎকালীন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের [Enforcement Directorate] ডেপুটি ডিরেক্টর, ১৯৮৫ ব্যাচের IRS অফিসার।
যা হয়েছিল সেদিন, তা শুনলে চমকে উঠতে হয়। বাউন্ডারি ওয়াল টপকে ভেতরে ঢোকে পুলিস। মূল দরজা ভাঙা হয়। নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর করা হয়। ঘুম থেকে তুলে অন্তর্বাস পরা অবস্থায় নিজের শয়নকক্ষ থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করা হয় আগরওয়ালকে। পরিবারকে তালাবদ্ধ করে রাখা হয় বাড়ির ভেতরে। তারপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় এক অজানা জায়গায়।
আদালত কী বলল
আদালত জানিয়েছে, পুরো অভিযানটাই ছিল ‘mala fide’ অর্থাৎ দুরভিসন্ধিমূলক। ওই বছর ২৮ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল [Central Administrative Tribunal] আগরওয়ালের বরখাস্তের পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছিল। ঠিক তার পরপরই এই অভিযান। আদালতের মতে, CAT-এর নির্দেশকে ব্যর্থ করে দেওয়াই ছিল এই অভিযানের আসল উদ্দেশ্য।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ১৮ অক্টোবর একটি গোপন বৈঠকে পরদিনের অভিযানের ছক কষা হয়। আদালত এটাকে ‘পরিকল্পিত প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ’ বলে চিহ্নিত করেছে।
দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন IPC [Indian Penal Code]-এর ৩২৩, ৪২৭, ৪৪৮ এবং ৩৪ ধারায়। শারীরিক আঘাত, সম্পত্তি নষ্ট, বেআইনি প্রবেশ ও সমষ্টিগত অভিপ্রায়।
কেন আগরওয়াল শত্রু হয়েছিলেন?
আগরওয়াল FERA [Foreign Exchange Regulation Act]-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তদন্তে প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই অভিযোগে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ছিল। একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছিলেন তিনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটাই তার কাল হয়েছিল।
সরকারি সুরক্ষা মিলল না
আদালত CrPC-র [Code of Criminal Procedure] ১৯৭ ধারায় সরকারি কর্মচারীদের সুরক্ষাকবচ দিতে অস্বীকার করেছে। অর্থাৎ,সরকারের অনুমতি ছাড়াই বিচার চলতে পারবে। শীঘ্রই সাজা ঘোষণা হবে বলে জানিয়েছে আদালত।
২৫ বছর দেরিতে হলেও ন্যায়বিচার
অভিযোগ দায়ের করতে দেরি হয়েছিল, কারণ ভয়। আদালত সেই যুক্তি মেনে নিয়েছে। সাক্ষীর জবানবন্দি, হলফনামা ও চোখের সাক্ষী এই মামলাকে ‘সন্দেহের অতীত’ প্রমাণিত করেছে।
এক অফিসারের সাহস এবং দুই দশকের বেশি অপেক্ষার পর দিল্লির আদালত বলল: ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছিল, এবং সেটা প্রমাণিত।
(Feed Source: zeenews.com)
