Infectious Disease: ঠিকমতো টিকা দেওয়াই হয়নি, ১১ মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা ৩০ লাখ শিশুর

Infectious Disease: ঠিকমতো টিকা দেওয়াই হয়নি, ১১ মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা ৩০ লাখ শিশুর

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিভিন্ন ধরনের টিকা দেওয়ার দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হয়েছিল বেসরকারি সংস্থাকে। যে কাজ সরকারের করার কথা সেই কাজ অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালিন সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের নোটিস জারি হয়েছে। এখন উঠে আসছে দেশের ভয়ংকর ছবি।

বাংলাদেশের অন্তত ৩০ লাখ শিশু এখন মারাত্মক ১১টি রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কার ভুগছে। বলা হচ্ছে, এর প্রধান কারণ টিকা না পাওয়া বা ঠিক সময়ে টিকা না পাওয়া। দেখা যাচ্ছে এতদিন যেসব রোগ দেশ থেকে নির্মূল হয়েছিল তা আবার ফিরে আসছে। রোগগুলির মধ্যে রয়েছে পোলিও, শিশুদের টিটেনাস, হাম, রুবেলা, ডিফতেরিয়া, হুপিং কাশি ও নাইট ব্লাইন্ডনেসের রোগ।

দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বক্তব্য, টিকা দেওয়ার ফলে যক্ষ্মা, হেপাটাইটিস-বি, হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ-বি ও নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক বছর শিশুদের চিকাকরণ সক্রমসূচি ঠিকঠাক হয়নি। ফলে যেসব শিশু টিকা পায়নি তাদের ওইসব রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। কেন এমন অবস্থা? আপাতত এর তিনটি কারণ উঠে এসেছে। প্রথমত, টিকা কেনায় টালবাহানা, দ্বিতীয়ত সরবারহ ব্যবস্থায় অব্য়বস্থা, তৃতীয়ত স্বাস্থ্যকর্মীদের ধর্মঘটের ফলে টিকাকরণ কর্মসূচিতে ধাক্কা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বকুল নিজেও হাম ফিরে আসার জন্য ঠিকমতো টিকা দিতে না পারাকেই দায়ি করেছেন। বকুলের দাবি,  টিকা সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। টিকা বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে গত চার-পাঁচ বছরে টিকা না পাওয়া অরক্ষিত শিশুর সংখ্যা হয়েছে এক বছরে জন্ম নেওয়া শিশুর সমান বা তার বেশি। প্রতি বছর দেশে প্রায় ৩৪ লাখ শিশু জন্ম নেয়। সেই হিসেবে টিকাবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা অন্তত ৩০ লাখ। জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিশেষজ্ঞ ডা.তাজুল ইসলাম এ বারি সংবাদমাধ্যমে বলেন, আগে থেকেই প্রতি বছর দুই থেকে তিন লাখ শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকেছে।

বাংলাদেশে নিয়ম হল, প্রতি চার বছরে অন্তত একটি বড় কর্মসূচির মাধ্যমে টিকা গ্রহণের এ ঘাটতি পূরণ করা। কিন্তু তা হয়নি। এতে টিকা না পাওয়া অরক্ষিত শিশুর সংখ্যা বাড়তে বাড়তে ৩০ লাখের কাছাকাছি পৌঁছানোর কারণে হামের এই প্রাদুর্ভাব বা মহামারি দেখা দিয়েছে। বকুল বলেন, টিকা না পাওয়া বা দেরিতে পাওয়া—এর ফলে আগে নির্মূল হওয়া রোগগুলো আবার ফিরে আসতে পারে। যেমন—পোলিও ও নবজাতকের ধনুষ্টংকার। এ ছাড়া নির্মূলের পথে থাকা ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি ও রাতকানা রোগও বাড়তে পারে। বিশেষ করে এত দিন টিকার কারণে নিয়ন্ত্রণে থাকা যক্ষ্মা, হেপাটাইটিস-বি, হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ-বি ও নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়া বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

(Feed Source: zeenews.com)