)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: তরুণী গৃহবধূকে প্রকাশ্যে চরম অপমান। গ্রাম্য সালিশিসভা ডেকে জনতার সামনে জুতোপেটা করা হল এক সন্তানের মা ওই গৃহবধূকে। শুধু তাই নয়, সেই মারধরের ভিডিয়ো ভাইরাল করে দেওয়া হল সোশ্যাল মিডিয়ায়। বিচারসভার পর দিনই ফের হুমকি। তার পরেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করলেন ওই তরুণী গৃহবধূ।
কী থেকে এতবড় ঘটনা? ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের মানিকগঞ্জের কাশাদহ গ্রামে। পুলিস সূত্রে খবর, পহেলা বৈশাখের দিন নাজমা আক্তার নামে ওই গৃহবধূ এলাকারই জাকির নামে এক যুবকের সঙ্গে বেড়াতে যান। এনিয়ে তরুণীর পাড়ার লোকজন নাজমা আক্তারের বিরুদ্ধে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগে তোলে। এনিয়ে পাড়ায় প্রবল শোরগোল শুরু হয়ে যায়।
ওই অভিযোগের জেরে নাজমার বাপের বাড়িতে জাকিরকে নিয়ে একটি সালিশিসভা বসে। সেই সভাতেই নাজমা ও জাকিরকে বিচারকের নির্দেশ জুতোপেটা করা হয়। পাশাপাশি সালিশিসভায় আসা লোকজন ওই দুজনকে বেধড়ক মারধর করে। ওই ঘটনার ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে, সালিশি সভার পরদিন নাজমা গ্রামের পাশে একটি তালা তৈরির ফ্যাক্টরি থেকে কাজ করে ফিরছিল। সেইসময় স্থানীয় কিছু যুবক তাকে ঘিরে ধরে হুমকি দেয়, ফের তোর বিরুদ্ধে বিচারসভা বসানো হবে। সেখানে তোর হাড়গোড় ভেঙে ফেলা হবে।
প্রকাশ্য রাস্তায় ফের অপমানিত হয়ে আর নার্ভ ধরে রাখতে পারেনি নাজমা। বাড়ি ফিরে নিজের ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়। নাজমার বাবার অভিযোগ, সালিশিসভায় নাজমা ও জাকিরকে জুতোপেটা করার নিদান দিয়েছিল গ্রামের আজিজুজ, সফিউল ও নান্নু নামের তিনজন।
নাজমার আত্মীয়দের বক্তব্য, মেয়ের আত্মহত্যার জন্য এলাকার মাতব্বর ও এলাকার ছেলেরা দায়ী। তারা মারধর না করে বুঝিয়ে বললে এ রকম ঘটনা ঘটত না। বিচারে মেয়েটাকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। আবারও বিচার বসিয়ে মারধরের হুমকিও দিয়েছিল। জাকিরের সঙ্গে নাজমার কোনো অবৈধ সম্পর্ক তারা প্রমাণ করতে পারেনি।
পুলিস সূত্রে খবর, বিচারের মাতব্বর ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় নিহতের বাবা ১১ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। আসামিদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
