Pahalgam Terror Attack 1 Year: ‘নরকযন্ত্রণা ভোগ করে চলেছি- সরকার এখনও প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি’, পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার বর্ষপূর্তিতে স্বজনহারার বিস্ফোরক কান্না

Pahalgam Terror Attack 1 Year: ‘নরকযন্ত্রণা ভোগ করে চলেছি- সরকার এখনও প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি’, পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার বর্ষপূর্তিতে স্বজনহারার বিস্ফোরক কান্না

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ‘নরকযন্ত্রণা ভোগ করে চলেছি’। পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার বর্ষপূর্তিতে বিস্ফোরক নিহতদের শোকাহত পরিবার। ২০২৫-এর ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২৬ জন পর্যটককে খুন করে সন্ত্রাসীরা। রক্তে লাল হয়ে ওঠে ‘মিনি সুইৎজারল্যান্ড’। তারপর থেকে ক্যালেন্ডারের পাতায় একবছর কেটে গিয়েছে। সন্ত্রাসী হামলার বদলায় ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ করেছে। কিন্তু প্রিয়জন হারানোর ক্ষত এখনও দগদগে।

হামলায় নিহত সন্তোষ জাগদালের মেয়ে আসাভারি জাগদালে বলেন, সেই মর্মান্তিক ঘটনার পর জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া যেন এক কঠিন সংগ্রাম। প্রিয়জন হারানোর ভার বহন করে প্রতিনিয়ত লড়াই করে বেঁচে থাকার লড়াই। এই এক বছর সময় তাঁর এবং তাঁর পরিবারের জন্য মানসিকভাবে কতটা কঠিন ছিল সে কথা উঠে এসেছে তাঁর কথায়।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে তিনি বলেন,“এই এক বছর আমার এবং আমার পরিবারের জন্য খুবই কঠিন ছিল। আমাদের মতোই আরও ২৫টি পরিবার তাদের প্রিয়জনদের চোখের সামনে হারিয়েছে। গত এক বছর আমরা নরক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। একদিকে প্রিয়জনকে হারানো, আরেকদিকে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি আদায়ের জন্য লড়াই করা। আমার বাবা আমার এবং আমার মায়ের সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন।”

আসাভারির কথায় তিনি একা নন, অন্তত আরও ২৫টি পরিবার একই যন্ত্রণা ভোগ করছে। যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনকে নিজেদের চোখের সামনে হারিয়েছে। এই গভীর শোক কাটিয়ে ওঠা সহজ নয়। এক বছর পরেও সেই হতভাগ্য পরিবারগুলোর জীবনে সেই ক্ষত রয়ে গেছে। অনেকের জীবন চিরতরেই বদলে গিয়েছে। এই হামলায় নিহত হন প্রশান্ত কুমার শতপথী। তিনি বলেন, এই ঘটনা তাঁর জীবন সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।

বলেন, “আমার স্বামী প্রশান্ত কুমার শতপথী ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওতে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হওয়ার পর প্রায় এক বছর কেটে গেছে। কিন্তু যেমন বলা হয়, জীবন এগিয়ে যায়, একদমই তা হয়নি। এমন একদিনও যায়নি, যেদিন আমি তাঁকে মনে করিনি। তিনি যখন ছিলেন, জীবন আলাদা ছিল। তখন যে অস্থায়ী কাজ করতাম, এখন সেটাই আমার সংসার চালানোর একমাত্র উপায়।”

তিনি জানান, সরকার যে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার জন্যও এখনও অপেক্ষা করছেন তাঁরা। বলেন, “অস্থায়ী কাজ দিয়ে কোনওভাবে চলছে। তখন সরকার বলেছিল আমাকে একটি সরকারি চাকরি দেবে, আমার সন্তানের পড়াশোনার খরচ বহন করবে এবং আর্থিক সহায়তা দেবে। আমরা আর্থিক সহায়তা পেয়েছি, কিন্তু প্রতিশ্রুতি মতো সরকারি চাকরি এখনও পাইনি। অন্য রাজ্যে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি দেওয়া হয়েছে। আমি শুধু চাই, সরকার যেন দ্রুত তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করে।”

প্রসঙ্গত, পহেলগাঁও হামলার পর ৭ মে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ করে। পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে অভিযান চালায় ভারত। লস্কর-ই-তইবা, জইশ-ই-মহম্মদ এবং হিজবুল মুজাহিদিনের সঙ্গে যুক্ত নয়টি বড় লঞ্চপ্যাড গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় সেনা। ১০০-র বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয় ভারতের প্রত্যাঘাতে। প্রথম বর্ষপূর্তিতে ভারতীয় সেনা সেই অভিযানে কথা মনে করিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একটি কঠোর বার্তাও দিয়েছে।

যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, “মানবতার সীমা লংঘন হলে প্রতিক্রিয়া কড়া হবে। প্রতেক্যের তার নিজের সীমা মনে রাখা উচিত। সীমা লংঘন করলে কড়া জবাব দেওয়া হবে। ভারত কখনও তার সীমা ভোলে না।”

(Feed Source: zeenews.com)