
গত ৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘর্ষে ইরান এবং ইজরায়েল-আমেরিকার যৌথ বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে মৎস্য ব্যবসায়। ব্যবসায়ীদের মতে, ওমান, কাতার, ভিয়েতনাম এবং মায়ানমার থেকে বিপুল পরিমাণ পমফ্রেট, পাঙ্গাস, চাঁদা ও খয়রা মাছ আমদানি করা হয়। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে চিংড়ি, কাতলা, রুই, পাবদা, চিতল ও আড়-ট্যাংরা মাছ পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির পাশাপাশি ব্রিটেন ও আমেরিকায় রপ্তানি করা হয়।
ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, কলকাতার সেক্রেটারি সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় ইমপোর্টার ও এক্সপোর্টাররা সব ধরণের অর্ডার বাতিল করেছেন। ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে কনটেইনার জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। তিনি আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৭০ জন রপ্তানিকারক এবং মুম্বই ও গুজরাটের ১০০-র বেশি রপ্তানিকারক আপাতত তাঁদের ব্যবসা বন্ধ রেখেছেন। অন্তত ৫০টি কনটেইনার মাছের অর্ডার বাতিল হয়েছে, যার ফলে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে উপসাগরীয় সংকট নিরসনে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি বৈঠকের প্রথম দফা ব্যর্থ হয়েছে। দ্বিতীয় দফা বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও এখনও কোনও নিশ্চিত সমাধান সামনে আসেনি। ফলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে যাওয়া এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা।
প্রসঙ্গত, হরমুজে আটকে রয়েছে ভারতের একাধিক ট্যাঙ্কার। এই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর সভাপতিত্বে বৈঠকে বসে মন্ত্রিগোষ্ঠী। ভারতীয় জাহাজের আগে ব্রিটেনের একটি জাহাজ লক্ষ্য করে ইরান গুলি চালয় বলে অভিযোগ জানিয়েছে ব্রিটিশ নিরাপত্তা এজেন্সি। জাহাজে ক্যাপ্টেনকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, ওমানের উত্তর-পূর্ব দিকে এগোনোর সময়, কোনওরকম সতর্কতা ছাড়াই জাহাজ লক্ষ্য করে গানবোট থেকে গুলি চালিয়েছে। যদিও জাহাজের সবাই সুরক্ষিত আছেন বলেই খবর।
(Feed Source: abplive.com)
