জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: এই তরুণীর (A young woman in China) হাজার হাজার সাপকে লালন-পালন (60,000 reptiles) করছেন (raising tens of thousands of venomous snakes)। তরুণীর বাবা প্রথমে বিষয়টিতে আপত্তি জানিয়েছিলেন। পরে তিনিও মেয়ের সঙ্গে এই সর্প-যজ্ঞে (snake-breeding operation) যোগ দেন! অত্যন্ত বিষধর প্রজাতির পিট ভাইপার ‘ফাইভ স্টেপ স্নেক’ এবং প্রায় ১০,০০০ গোখরো রয়েছে তরুণীর খামারে। সাপ পুষেই বছরে তাঁর প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা আয়!
সর্পভাগ্যে অর্থলাভ
সাপ পুষেই বছরে প্রায় দেড় লক্ষ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা) আয় করেন তরুণী। বাড়িতে রয়েছে ৬০ হাজারের বেশি শীতল রক্তের বিষধর এইসব ভয়াল পোষ্য! স্নাতক হওয়ার দু’বছর পরে লেখাপড়ার পাট চুকিয়ে ফেলে গ্রামে চলে যান মেয়েটি। সাপ লালন-পালন শুরু করেন। ক্রমে ৬০,০০০-এরও বেশি ভয়ঙ্কর প্রজাতির সরীসৃপকে প্রতিপালন করতে শুরু করেন চিনের গুয়াংজি প্রদেশের গুইলিন শহরের বাসিন্দা কিন।
পিট ভাইপার এবং গোখরো
৫০০০০-এরও বেশি অত্যন্ত বিষধর প্রজাতির পিট ভাইপার ‘ফাইভ স্টেপ স্নেক’ এবং প্রায় ১০,০০০ গোখরোর বাস রয়েছে তরুণীর খামারে। এই সমস্ত সাপের বিষ, চামড়া, মাংস বিক্রি করে বিপুল আয় করেন তরুণী। এটি আসলে তাঁর পৈতৃক ব্যবসা। এক সাক্ষাৎকারে তরুণী জানিয়েছেন, প্রথম দিকে মেয়ের এই সিদ্ধান্তের প্রবল বিরোধিতা করেছিলেন স্বয়ং বাবা-ই। তাঁর মতে, এই ব্যবসা অত্যন্ত বিপজ্জনক। কিন্তু সাপের খামারটি বড় হতে থাকলে এবং তরুণীর একার পক্ষে তা সামলানো কঠিন হয়ে পড়ায় বাবাও পরে সাহায্য করতে এগিয়ে যান।
দ্য গার্ল হু কালেক্টস স্নেক ভেনম
সাপপ্রেমী চিনা তরুণী কিন বলছেন, শুকনো সাপ, সাপের পিত্তথলি এবং সাপের তেল চিনের ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। সাপের বিষদাঁত থেকে নিষ্কাশিত বিষ চিকিৎসা ও গবেষণার কাজে তো লাগেই। পিট ভাইপার প্রজাতির সাপ থেকে প্রতি দু’মাস অন্তর বিষ সংগ্রহ করা হয়। বিষের গুণমানভেদে এর দাম প্রতি গ্রাম ৪০ থেকে ২০০ ইউয়ান (৬ থেকে ৩০ ডলার) পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রতিটি সাপের মাংস ২০০ থেকে ৩০০ ইউয়ানে বিক্রি হয়। বড় সাপের ক্ষেত্রে দাম ১,০০০ ইউয়ানের (১৫০ ডলার) বেশিও হতে পারে। তাঁর সমস্ত খরচ বাদ দেওয়ার পরেও ব্যবসা থেকে বছরে দশ লক্ষ ইউয়ানেরও বেশি আয় করেন কিন। ‘দ্য গার্ল হু কালেক্টস স্নেক ভেনম’ ছদ্মনামে অনলাইনে সাপের বিষয়ে নানা অভিজ্ঞতা ও ব্যবহারিক জ্ঞান শেয়ারও করেন তিনি।
সাপের কামড়
সমাজমাধ্যমে তাঁর কয়েক হাজার অনুসরণকারীও রয়েছে। কিন জানিয়েছেন, প্রায়শই তাঁর কাছে প্রশ্ন আসে, যাঁরা সাপ পোষেন, তাঁরা কি সাপের কামড় খাওয়ার ভয় পান না? কিন জানিয়েছেন, সাপ পোষেন এমন কেউ যদি দাবি করেন যে, তিনি সাপের কামড়কে ভয় পায় না, তা হলে এর একটাই উত্তর হতে পারে। আর সেটা হল, সেই ব্যক্তি কখনও সাপের কামড় খাননি। কেননা, একবার সাপের কামড় খেলে বিষয়টিকে ভয় না করে কোনও উপায় থাকে না!
(Feed Source: zeenews.com)
