)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সচিন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar), সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly), বীরেন্দ্র শেহওয়াগ (Virender Sehwag), অজয় জাদেজা (Ajay Jadeja) রেস্তোরাঁ ব্যবসায় পা রেখেছিলেন। কিন্তু এই ইন্ডাস্ট্রিতে একেবারেই লম্বা ইনিংস খেলতে পারেননি তাঁরা। প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয়েছে দ্রুত। তবে এখনও মাঠে ও ব্যবসায় চালিয়ে ব্যাট করছেন বিরাট কোহলি (Virat Kohli)।
কোহলির ওয়ান এইট কমিউন
২০১৭ সালে কোহলি প্রথম হোটেল ব্যবসায় পা রেখেছিলেন। নয়াদিল্লির আরকে পুরমে চালু করেছিলেন নুয়েভা। শুরুতে চার-ছক্কা হাঁকালেও পরে সেই রেস্তোঁরা মানুষের মন থেকে মুছে যায়। এখন কোহলির ওয়ান এইট কমিউন (One 8 Commune) চেইন রেস্তোরাঁ ও বার রমরমিয়ে চলছে। দিল্লি, গুরুগ্রাম, কলকাতা, পুণে, মুম্বই, হায়দরাবাদ ও বেঙ্গালুরুতে রয়েছে কোহলির ওয়ান এইট কমিউন। তবে বেঙ্গালুরুতে রয়েছে বলা এখন আর ঠিক হবে না। বলতে হবে ছিল। কারণ আইনি জটিলতায় জড়িয়ে বন্ধ হয়ে গেল বেঙ্গালুরুর আউটলেটটি।
কী বলছে ওয়ান এইট কমিউন
ট্রায়ো হিলস হসপিটালিটি ওয়ান এইট কমিউনের বেঙ্গালুরুর ইউনিটটি চালাত। জানা যাচ্ছে তারা প্রায় ছয় মাস ধরে ভাড়া বাকি রেখেছে। এর সঙ্গেই রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও রেভিনিউ শেয়ারও রয়েছে। সব মিলিয়ে মোট বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি টাকারও বেশি। তবে এক বিবৃতিতে ওয়ান এইট কমিউন স্পষ্ট করেছে যে, রেস্তোরাঁটি বন্ধ হওয়ার বিষয়টি ভবনের নিয়ন্ত্রণমূলক ও বিধি-সম্মত প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি তাদের পক্ষ থেকে কোনও বকেয়া পরিশোধ না করা কিংবা আর্থিক খেলাপি হওয়ার কারণে ঘটেনি। বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ‘ভবন-সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট কিছু বিধিবিধান ও পরিপালন-সংক্রান্ত শর্তাবলির কারণেই আমাদের এই আউটলেটটি বন্ধ করা হয়েছে। এই শর্তাবলি পরিপালনের দায়ভার ছিল ভবনের মালিকের উপর, কিন্তু তিনি তা যথাযথ ভাবে সম্পন্ন করেননি। ওয়ান এইট কমিউনে আমাদের গ্রাহক এবং কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। কোনও অবস্থাতেই আমরা এই নিরাপত্তার বিষয়ে বিন্দুমাত্র আপস করি না। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমাদের কোনও বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করা কিংবা আর্থিক খেলাপি হওয়ার বিষয়টিকে জুড়ে দিয়ে কোনও প্রকার ইঙ্গিত করা হলে তা সম্পূর্ণ ভুল ও বিভ্রান্তিকর হবে। এই অবস্থায় এই নির্দিষ্ট স্থানে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’
কোহলি সরিয়ে নিয়েছেন নিজেকে
রিপোর্ট বলছে, রেস্তোরাঁটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার অনেক আগেইকোহলি বেঙ্গালুরুর ওই আউটলেটটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন এবং রেস্তোরাঁটি থেকে নিজের ব্র্যান্ডের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। এক সর্বভারতীয় মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে, এই বিষয়ে অবগত সূত্রগুলি জানিয়েছে যে, গত কয়েক বছরে বারবার বিভিন্ন বিধি-বিধান পালন সংক্রান্ত বা ‘কমপ্লায়েন্স’ বিষয়ক উদ্বেগ সামনে আসার পরেই কোহলি নিজেকে এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। জানা গিয়েছে, এই উদ্বেগের বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রণমূলক বা আইনি জটিলতা নিয়ে প্রাপ্ত বিভিন্ন নোটিস। ব্র্যান্ডের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর, রেস্তোরাঁটিতে গ্রাহকদের আনাগোনা বা ‘ফুটফল’ লক্ষণীয়ভাবে কমেছে বলেই জানা যায়। যা প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ভাবে টিকে থাকার সক্ষমতাকে আরও নেতিবাচক ভাবে প্রভাবিত করেছে।
সিভিক অথোরিটিরও স্ক্রুটিনির মুখে
বেঙ্গালুরুর এই আউটলেটটি সিভিক অথোরিটিরও স্ক্রুটিনির মুখে পড়েছিল। বিধি লঙ্ঘনের দায়ে বৃহৎ বেঙ্গালুরু মহানাগারা পালিকে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একাধিক নোটিশ জারি করেছিল। গত বছরের জুন মাসে প্রতিষ্ঠানের ভিতরে ধূমপানের জন্য একটি নির্দিষ্ট এলাকা নির্ধারণ করতে ব্যর্থ হয়। সিগারেট এবং অন্যান্য তামাকজাত পণ্য আইনের আওতায় ওই রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এর আগে সিভিক অথোরিটির আরও অভিযোগ করেছিল যে—অগ্নিনির্বাপণ দফতরের এনওসি-সহ বেশ কিছু আবশ্যিক ছাড়পত্র ছাড়াই আউটলেটটি পরিচালিত হচ্ছিল। এছাড়া এমজি রোডের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ওয়ান এইট কমিউনও ছিল! নির্ধারিত সময়ে পেরিয়েও রেস্তোরাঁ চালানোর অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছিল। চলতি সমসাময়িক মেনু এবং পরিশীলিত অন্দরসজ্জার জন্য সুপরিচিত ওয়ান এইট কমিউন ব্র্যান্ডটি। দুর্দান্ত ডাইনিং অভিজ্ঞতাই যা বাকিদের থেকে তাদের আলাদা করেছে।
(Feed Source: zeenews.com)
