জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভুবনেশ্বরে বিভীষিকা! ঘরে ঢুকে তরুণীকে ধর্ষণ। গত শুক্রবার রাতে ভুবনেশ্বরে ইনফো ভ্যালি থানা এলাকার গঙ্গাপাড়ায় এমবিএ ছাত্রীর সঙ্গে চূড়ান্ত অভব্যতা। ইতোমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে ৬৭ বছরের ওই অভিযুক্তকে। ধৃতের নাম দীপক প্রধান।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা তরুণী ছত্তিসগঢ়ের বাসিন্দা। তিনি ভুবনেশ্বরের একটি বেসরকারি কলেজে এমবিএ পড়ছেন এবং গঙ্গাপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে একাই থাকতেন। অভিযুক্ত দীপক প্রধান ওই এলাকাতেই একটি মুদিখানা দোকান চালায়। কেনাকাটা করতে যাওয়ার সুবাদে ওই ছাত্রীর সঙ্গে তার পরিচয় ছিল।
গত শুক্রবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ তরুণীর রুমমেট বাইরে থাকায় তিনি নিজের ঘরে একাই ছিলেন। নির্যাতিতা পাশের একটি দোকান থেকে কিছু মুদির জিনিস অর্ডার করেছিলেন। অভিযোগ, সেই জিনিসপত্র পৌঁছে দেওয়ার অছিলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি তরুণীর ঘরে ঢোকে এবং তাঁকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে। তরুণী চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন এবং অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এরপর তাঁরাই অভিযুক্তকে পুলিসের হাতে তুলে দেন।
ইনফো ভ্যালি থানার আইআইসি জ্ঞানানন্দ সাহা জানিয়েছেন, ‘তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং শনিবার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’ তদন্তকারীদের দাবি, ওই বৃদ্ধ আগে থেকেই ছাত্রীর একাকীত্বের সুযোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
পুলিস আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ এবং অন্যান্য আশেপাশের তথ্য খতিয়ে দেখে ছাত্রীর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গিয়েছে। ইতিমত্যেই ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নির্যাতিতার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে এবং তাঁর ডাক্তারি পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, ওড়িশায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নারী নিগ্রহ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভুবনেশ্বরে গত এক বছরে নারী নির্যাতনের অভিযোগ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২৪ সালে শহরে নারী নিগ্রহের মামলার সংখ্যা ছিল ৪৮৫টি। ২০২৫ সালে তা লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,১৫৯ টিতে।
ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি, ইভটিজিং, এবং যৌতুক সংক্রান্ত অপরাধের এই ক্রমবর্ধমান গ্রাফ সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বাইরের রাজ্য থেকে পড়তে আসা ছাত্রীদের নিরাপত্তা এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হলেও, পরিস্থিতির উন্নতি নিয়ে সন্দিহান নাগরিক সমাজ।
(Feed Source: zeenews.com)
