জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ২৬ এপ্রিল ২০২৫। প্রচারের শেষ রবিবার। এদিন বনগাঁর ঠাকুরনগরে বিজয় সংকল্প সভা করেছেন (Vijay Sankalp Sabha in Bangaon) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। ভোট বাংলায় শেষ কার্পেট বম্বিংয়ে পদ্মশিবির (BJP)। মতুয়াগড়ে মতুয়া প্রার্থীদের সমর্থনে বিরাট জনসভায়, মোদী কথা বলেছেন বঙ্গে বহু চর্চিত মেসি কাণ্ড নিয়ে (PM Narendra Modi On Messi In Kolkata)। এই প্রথম কলকাতায় কিংবদন্তির কলঙ্কিত অধ্যায় নিয়ে মুখ খুললেন মোদী। মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করা মোদীর বয়ানে মেসির ঘটনা ‘মহাজঙ্গলরাজের ফল’।
মোদী মতুয়াগড়ে বলেন: ‘প্রধান বিরোধী ও বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন মোদী। তিনি বলেন, ‘টিএমসি সিন্ডিকেট এখানকার ক্রীড়া পরিকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে। কলকাতায় মাত্র কয়েক মাস আগেই যা ঘটে গিয়েছে, এবং যার ছবি বিশ্বের সমস্ত ফুটবলপ্রেমীদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল—তা ছিল সেই মহাজঙ্গলরাজেরই ফল। আমি বাংলার খেলোয়াড়দের আশ্বস্ত করছি যে, ‘খেলো ইন্ডিয়া’ অভিযানের আওতায় বাংলায় এক নতুন ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। ভারতীয় জনতা পার্টি বাংলার ক্রীড়া সংস্কৃতিতে এক নতুন উদ্দীপনার সঞ্চার করবে।’
‘খেলো ইন্ডিয়া’ কী: কেন্দ্রীয় সরকারের এক জাতীয় ক্রীড়া উন্নয়ন কর্মসূচি। যার প্রধান লক্ষ্যই হল তৃণমূল স্তরে খেলাধুলোর সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করা, দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণ, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং যুবকদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করে ভারতকে এক শক্তিশালী ক্রীড়াপ্রধান জাতি হিসেবে গড়ে তোলা। এটি ২০১৭ সালে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ মন্ত্রকের মাধ্যমে চালু করা হয়। এই কর্মসূচিতে দেশের বহু খেলোয়াড়ই সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন।
কলকাতায় মেসি কাণ্ড: গত ডিসেম্বরে চারদিনের সফরে ভারতে এসেছিলেন লিয়োনেল মেসি। কিংবদন্তি ফুটবলারের ১৩ বছর পর দ্বিতীয়বার এই দেশে আসার অভিজ্ঞতা ছিল ভালোয়-মন্দে। কলকাতা, হায়দরাবাদ, মুম্বই ও নয়াদিল্লিতে গিয়েছিলেন তিনি। তবে কলকাতা ছাড়াও কোথাও তাঁর ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়নি। ২০১১ সালে যে সল্টলেক স্টেডিয়ামে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার হয়ে প্রীতি ম্যাচ খেলে গিয়েছিলেন লিয়ো, এবার সেই মাঠেই ১৩ বছর বাদে এক শীতের সকালে ক্ষোভে ফুটে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল। যুবভারতীতে মেসিকে একদল প্রভাবশালী ঘিরে থাকায় ও বারবার সেলফি তোলায়, মেসিকে প্রায় দেখাই যায়নি! মাঠ প্রদক্ষিণ করার কথা ফলাও করে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু মেসিকে ঘিরে ভিড়ের চাপে পরিকল্পনার দফারফা হয়ে গিয়েছিল। গ্যালারির দিকে সামান্য হাত নেড়েই বেরিয়ে যান মেসি-সুয়ারেজ-ডি পল। এরপর তিনি ফিরে যান গাড়ির মধ্যে।নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী যুবভারতীতে প্রায় ঘণ্টা দেড়েক থাকার কথা ছিল মেসিদের। কিন্তু বেলাগাম পরিস্থিতিতে মাত্র ২২ মিনিট ছিলেন মেসি। তারপরই তাঁকে গাড়িতে তুলে দেয় কোর টিম। মাঠ থেকে সোজা বিমানবন্দরে রওনা দেন তিনি।
দর্শকদের ক্ষোভ: হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও স্বপ্নের রাজপুত্রকে না দেখতে পাওয়ায়, এককথায় রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। বোতল ছোড়া, চেয়ার ভাঙা, বারপোস্টের জাল ছিড়ে দেওয়া-সহ বিভিন্ন গুণ্ডামি চলতে থাকে স্টেডিয়ামে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়ের নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। অতি তৎপরতার সঙ্গে সেই কমিটি কাজও করে। মেসি কাণ্ডের জেরে মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করেছিল পুলিস। গ্রেফতারের ৩৮ দিনের মাথায় অন্তর্বর্তী জামিন পান রিষড়ার স্পোর্টস প্রমোটার। ১০ হাজার টাকার বন্ডে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস। ডিজি রাজীব কুমার, বিধাননগরের সিপি, রাজ্যের স্পোর্টস সেক্রেটারিকেও শোকজ করা হয়েছিল। দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য আয়োজকদের নির্দেশ দিয়েছিল পুলিশ। আয়োজকরা লিখিতভাবে জানিয়েও ছিলেন যে, বিক্রি হওয়া টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। তবে এখনও পর্যন্ত টাকা কোনও দর্শকই টাকা ফেরত পাননি।
(Feed Source: zeenews.com)
