)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিধানসভা নির্বাচনের পারদ যত চড়ছে, ততই তিক্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক লড়াই। এবার সেই লড়াইয়ের আঁচ গিয়ে পড়ল টলিউড অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্রের ব্যক্তিগত জীবনে। ভারতীয় জনতা পার্টি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ক্রমাগত আক্রমণের মুখে পড়েছেন তিনি। কিন্তু সেই আক্রমণ যখন শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে ‘ধর্ষণের হুমকি’তে গিয়ে ঠেকেছে, তখন আর চুপ থাকতে পারলেন না অভিনেত্রী। কড়া ভাষায় আক্রমণকারী ও বিজেপি শিবিরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি।
সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে রূপাঞ্জনা মিত্র জানান, রাজনৈতিক মতাদর্শ পরিবর্তনের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক কুরুচিকর মন্তব্য ধেয়ে আসছে। কেবল তাঁকেই নয়, তাঁর বয়স্ক মা-কেও এই কদর্য আক্রমণ করা হচ্ছে। অভিনেত্রী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে প্রশ্ন তোলেন, “নারী সুরক্ষা নিয়ে যারা বড় বড় কথা বলেন, তারা কীভাবে একজন নারীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ধর্ষণের হুমকি দেন?”
বিজেপি সমর্থকদের দিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে রূপাঞ্জনা বলেন, “সত্যিকারের বাঙালিকে ভয় দেখাতে আসবেন না। আপনারা তো চোখ দিয়েই ধর্ষণ করে দেন। ভার্চ্যুয়ালি আক্রমণ করা সহজ, সাহস থাকলে সামনে এসে কথা বলুন, তখন বোঝা যাবে কার কত দৌড়।” তিনি আরও যোগ করেন যে, দীর্ঘ ২৫ বছর টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে হাড়ভাঙা খাটুনি করে তিনি নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন। কোনো রাজনৈতিক দলের দয়ায় তাঁর পরিচিতি নয়।
বিজেপির ‘গুন্ডা কালচার’কে আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন, এই ধরনের হুমকি আসলে দলের চারিত্রিক বহিঃপ্রকাশ। অভিনেত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “যারা ক্ষমতায় আসার আগেই একজন নারীকে এমন ভাষায় আক্রমণ করছে, তারা ক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষের কী দশা হবে তা সহজেই অনুমেয়।” কঙ্গনা রানাউত বা ভোজপুরি তারকাদের দিয়ে প্রচার চালানো নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, বিজেপি বর্তমানে বহিরাগত তারকাদের নিয়ে ব্যস্ত, কিন্তু বাংলার মা-বোনেদের সম্মান রক্ষায় তারা ব্যর্থ।
রূপাঞ্জনা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই বিষয়টিকে তিনি হালকাভাবে নিচ্ছেন না। যারা তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে হেনস্থা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করছেন। তার কথায়, “পশ্চিমবঙ্গকে কোনোভাবেই উত্তরপ্রদেশ, মণিপুর বা গুজরাট হতে দেব না।” রাজনৈতিক মহল মনে করছে, নির্বাচনের ঠিক মুখে রূপাঞ্জনার এই প্রতিবাদ সাধারণ নারী ভোটারদের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
(Feed Source: zeenews.com)
