)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টে সোমবার এক ব্যতিক্রমী মামলার শুনানিতে বিচারপতি বি ভি নাগরত্না (Justice BV Nagaratna) এমন কিছু প্রশ্ন তুললেন যা সরাসরি আঘাত করল লিভ-ইন সম্পর্কের আইনি ভিত্তিতে।
মামলাটি মধ্যপ্রদেশের। একজন মহিলা অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর লিভ-ইন পার্টনার বিবাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক রেখেছেন এবং লুকিয়ে গিয়েছেন একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য– যে, তিনি আগে থেকেই বিবাহিত। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিএনএসএস (BNSS)-এর ৬৯, ১১৫(২) এবং ৭৪ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছিল। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট সেই মামলা খারিজ করে দিলে মহিলা সুপ্রিম কোর্টে আসেন।
মহিলার আইনজীবী আদালতে জানান, তাঁর মক্কেল অল্প বয়সে বিধবা হয়েছিলেন। অভিযুক্ত সেই দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছিলেন। বিয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে সম্পর্ক গড়েছিলেন। অথচ সেই প্রতিশ্রুতি ছিল ফাঁকা, কারণ তিনি তখন বিবাহিত।
কিন্তু বিচারপতি নাগরত্না সরাসরি প্রশ্ন তুললেন, ‘দুজনের সম্মতিতে সম্পর্ক হলে ধর্ষণের অপরাধ হয় কী ভাবে? তাঁরা তো ১৫ বছর ধরে একসঙ্গে রয়েছেন। এই সম্পর্ক থেকে একটি সন্তানও এসেছে।’
বিচারপতির পরের প্রশ্নটি আরও তীক্ষ্ণ, ‘এত বছর বিয়ে না করে তাঁর সঙ্গে থাকলেন কেন? ১৫ বছরে বিয়ের কথা উঠল না কেন?’
এই প্রশ্ন তুলেই তিনি নিজে সংশোধন করলেন, ‘এভাবে জিগ্গেস করলে বলা হবে, আমরা ভিকটিমকেই লজ্জা দিচ্ছি।
আইনজীবী জানালেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতির উপর ভরসা রেখেই মহিলা এতদিন সম্পর্কে ছিলেন। এখন পার্টনার তাঁকে ছেড়ে গিয়েছেন।
বিচারপতি নাগরত্না স্পষ্ট করে বললেন, লিভ-ইন সম্পর্কের নিজস্ব ঝুঁকি আছে। বিবাহের মতো আইনি বাধ্যবাধকতা এখানে নেই। বিবাহিত হলে স্বামী আলাদা হওয়ার ক্ষেত্রে মহিলার অনেক বেশি আইনি অধিকার থাকত– ভরণপোষণ দাবি করতে পারতেন, বহুবিবাহের অভিযোগে মামলাও করতে পারতেন।
পার্টনারকে জেলে পাঠানোর দাবিতে আদালত সায় দেয়নি। বরং কোর্ট পরামর্শ দিয়েছে, সাত বছরের সন্তানের ভরণপোষণের জন্য মধ্যস্থতার পথে যেতে। বিচারপতির কথায়, ‘জেল দিলে আপনার কী মিলবে? সন্তানের জন্য ভরণপোষণ নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।’
আদালত নোটিস জারি করে জানিয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে ভরণপোষণের বিষয়ে আপস সম্ভব কি না, তা বিবেচনা করা হবে।
(Feed Source: zeenews.com)
