
প্রশ্ন- আমি হরিয়ানা থেকে এসেছি। আমরা কয়েক বছর আগে একটি মেয়েকে দত্তক নিয়েছি। আমি তাকে খুব ভালোবাসি। মেয়ের বয়স এখন নয় বছর। কিছু দিন আগে, আশেপাশের কিছু শিশু তাকে মজা করে বলেছিল যে তাকে দত্তক নেওয়া হয়েছে এবং তার আসল বাবা-মা অন্য কেউ।
তারপর থেকে শিশুটি আমাকে অনেকবার জিজ্ঞাসা করেছে সে কীভাবে আমাদের কাছে এসেছিল এবং তার আসল বাবা-মা কারা? আমরা প্রায়ই তার প্রশ্ন এড়িয়ে যাই। যদিও আমরা তাকে সত্য বলতে চাই, তবে আমরা ভয় পাচ্ছি যে তিনি এই সব শুনে বিরক্ত হতে পারেন। এই জন্য সঠিক সময় এবং পদ্ধতি কি?
বিশেষজ্ঞ: ডাঃ অমিতা শ্রিংগি, মনোবিজ্ঞানী, পরিবার ও শিশু পরামর্শদাতা, জয়পুর
উত্তর- প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার জন্য ধন্যবাদ. এই প্রশ্ন অনেক দত্তক পিতামাতার মনে আসে. প্রথমত, বুঝতে হবে যে প্রকৃত পিতামাতা হল আপনার দত্তক নেওয়া সন্তানের প্রতি আপনার ভালবাসা এবং দায়িত্ব। তাই নিজেকে অপরাধী মনে করবেন না।
এটা বিরক্তিকর যে শিশুটি আপনার পরিবর্তে তার বন্ধুদের কাছ থেকে এটি শুনতে পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া বা লুকিয়ে রাখার পরিবর্তে শান্ত, সত্য ও সংবেদনশীলভাবে কথা বলা জরুরি।
মনোবিজ্ঞান অনুসারে, দত্তক নেওয়া শিশুকে তার জীবনের সত্য বলা গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি বয়স, বোঝাপড়া এবং মানসিক প্রস্তুতি অনুযায়ী হওয়া উচিত। সত্য বলার উদ্দেশ্য শিশুকে হতবাক করা নয়, তার মধ্যে আস্থা ও নিরাপত্তার বোধ বজায় রাখা উচিত।
দত্তক নেওয়া সন্তানকে সত্য বলা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বেশিরভাগ বাবা-মা মনে করেন যে দত্তক নেওয়া সন্তানকে সত্য না বললে, সে বা সে আরও মানসিকভাবে নিরাপদ বোধ করবে।
- একজন মনোবিজ্ঞানী হিসেবে, আমি বিশ্বাস করি যে সত্য গোপন করার পরিবর্তে, শিশুকে এই বিষয়ে ধীরে ধীরে এবং সঠিক পদ্ধতিতে বলা ভাল।
- যদি শিশুটি অন্য কারো কাছ থেকে এই বিষয়ে জানতে পারে, তবে সে হতবাক হতে পারে যে বাবা-মা তার কাছ থেকে এই সত্যটি লুকিয়ে রেখেছেন। এতে তার মনে বিভ্রান্তি বা অবিশ্বাসও তৈরি হতে পারে।
- তাই মা-বাবা সন্তানকে আদর-স্নেহ দিয়ে গল্পটা বুঝিয়ে দিলে ভালো হয়।
- অনেক কারণেই শিশুকে সত্যের কাছে প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ।
দত্তক নেওয়া সন্তানকে সত্য বলার সঠিক সময় কখন?
মনোবিজ্ঞান অনুসারে, শিশুকে দত্তক নেওয়ার বিষয়ে বলার জন্য কোনও নির্দিষ্ট ‘পারফেক্ট বয়স’ নেই। 7 থেকে 10 বছর বয়সে, শিশুরা ধীরে ধীরে সম্পর্ক এবং পরিবার বুঝতে শুরু করে।
আপনার মেয়ের বয়স 9 বছর এবং সে নিজেই এই প্রশ্নটি করেছে। এর মানে হল যে তিনি এই বিষয়ে শিখতে প্রস্তুত। এ অবস্থায় সত্য আড়াল করার চেষ্টা করা বা প্রসঙ্গ পরিবর্তন তার মনে আরও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
কিভাবে একটি দত্তক শিশুর সত্য বলতে?
দত্তক নেওয়া সন্তানের কাছে সত্য বলা একটি সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। এতে শব্দ চয়ন এবং পদ্ধতি উভয়ই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য সহজ ও বয়স উপযোগী শব্দ ব্যবহার করুন। বিষয়টি সহজ হলে শিশু ভয় বা বিভ্রান্তি ছাড়াই তা গ্রহণ করতে পারবে।
আপনি এটিকে এভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন, “প্রতিটি পরিবার আলাদা। কিছু শিশু তাদের পিতামাতার কাছে জন্মগ্রহণ করে, আবার কিছু শিশু তাদের পিতামাতার দ্বারা নির্বাচিত হয় এবং তাদের পরিবারে নিয়ে আসে।” এ ছাড়া আরও কিছু বিষয়ে বিশেষ যত্ন নিন।
সন্তানের প্রতিক্রিয়া মোকাবেলা করার জন্য পিতামাতাদের প্রস্তুত থাকতে হবে
যখন একটি শিশু জানতে পারে যে তারা দত্তক নেওয়া হয়েছে, তখন তারা মানসিকভাবে আহত হতে পারে। তারা কয়েকদিন রাগান্বিত থাকতে পারে, কম কথা বলতে পারে বা তাদের ঘরে একা থাকতে শুরু করতে পারে। অনেক সময় শিশুর মনে এই অনুভূতি জাগতে পারে যে-
“আমি কি ছোটবেলায় পরিত্যক্ত ছিলাম?”
“আমার প্রকৃত বাবা-মা কি আমাকে গ্রহণ করেননি?”
- এমন পরিস্থিতিতে শিশুর মনে প্রত্যাখ্যানের অনুভূতি জাগতে পারে। তাই অভিভাবকদের আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে যে শিশুর প্রতিক্রিয়া শুরুতে একটু কঠিন হতে পারে।
- এ সময় শিশুর অনুভূতি বোঝা এবং ধৈর্য ধরে রাখা জরুরি।
- শিশুকে সময় দিন এবং তাকে বারবার আশ্বস্ত করুন যে সে তার জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- এই আস্থা ধীরে ধীরে তার মনের বিভ্রান্তি ও নিরাপত্তাহীনতা কমাতে সাহায্য করে।
কীভাবে দত্তক নেওয়া শিশুকে নিরাপদ বোধ করা যায়?
- এ সময় শিশুর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানসিক সমর্থন।
- তাকে অনুভব করুন যে তিনি আপনার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- শিশুকে বোঝান যে একটি পরিবার শুধুমাত্র জন্ম দ্বারা গঠিত হয় না, কিন্তু ভালবাসা, যত্ন এবং সমর্থন দ্বারা গঠিত হয়।
- শিশুর দৈনন্দিন রুটিন বজায় রাখুন, যাতে স্কুল, খেলাধুলা, বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সাথে তার সংযোগ আগের মতোই থাকে।
তাকে মানসিক সমর্থন দিতে, কিছু বিষয়ের বিশেষ যত্ন নিন-
পিতামাতার কোন ভুলগুলি এড়ানো উচিত?
বাবা-মায়েরা প্রায়ই কথোপকথনের সময় সন্তানের প্রশ্নগুলি এড়িয়ে যান, তবে এটি তার আবেগকে দমন করে। তাই অভিভাবকদের কিছু জিনিস এড়িয়ে চলা উচিত-
- সত্যকে আড়াল করার বা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না।
- শিশুর প্রশ্ন উপেক্ষা করবেন না।
- খুব বেশি ভয় বা চাপ প্রকাশ করবেন না।
- শিশুকে অন্য কারো সাথে তুলনা করবেন না।
- দত্তক গ্রহণকে ‘অনুগ্রহ’ হিসেবে উপস্থাপন করবেন না।
- দ্রুত সামঞ্জস্য করতে বাধ্য হওয়ার আশা করবেন না।
- আবেগকে ভুল বা ‘অতি প্রতিক্রিয়া’ বলবেন না।
পরিশেষে আমি বলব যে দত্তক নেওয়া সন্তানকে ভালবাসা, সুরক্ষা এবং বিশ্বাস দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আপনার মেয়ে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার মানে সে আপনাকে বিশ্বাস করে। এই বিশ্বাস বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখবেন, সত্য এবং বিশ্বাসের সাথে তৈরি একটি সম্পর্ক শক্তিশালী।
(Feed Source: bhaskarhindi.com)
