BJP: কোনও আসন না জিতেও বাম গড়ে গোকুলে বেড়েছে বিজেপি, ডেটা বলছে চমকপ্রদ উত্থান

BJP: কোনও আসন না জিতেও বাম গড়ে গোকুলে বেড়েছে বিজেপি, ডেটা বলছে চমকপ্রদ উত্থান

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিধানসভা নির্বাচনে জয় এখনও অধরা। কিন্তু ডেটা বলছে, গত ৪ দশক ধরে ধীরে ধীরে ভোট শেয়ার বেড়েছে বিজেপির। বাম রাজ্য কেরলে সাংগঠনিক বিস্তার লাভ করেছে বিজেপির। আর তাই ২০২৬ কেরল বিধানসভা নির্বাচনে এবার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে বাম রাজ্যে বিজেপির ভবিষ্যৎ কী? কেরল বিধানসভা নির্বাচনে কী ফলাফল করতে চলেছে বিজেপি?

বাড়ছে বিজেপির ভোট শেয়ার
কেরলে বিজেপির নির্বাচনী উত্থানে ভোট শেয়ারের একটি পরিষ্কার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। যদিও আসন লাভ খুবই কম। প্রথমদিকে দলটি ৬ শতাংশ ভোটও পেত না। ১৯৮২ সালে ভোট শেয়ার ছিল ২.৮ শতাংশ। যা ১৯৮৭ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৫.৬ শতাংশ। এরপর ১৯৯০-এর দশক ও ২০০০-এর শুরুর দিকে বিজেপির ভোট শতাংশ প্রায় ৫ শতাংশের আশেপাশে ঘোরাফেরা করে। কিন্তু ২০১০-এর পর থেকে কেরলে বিজেপির ভোট বাড়তে শুরু করে।

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রায় ১০.৬ শতাংশ ভোট পায়। নেমোম আসনে প্রথমবার জয়ী হয় বিজেপি। জয়ী হন রাজাগোপাল। কিন্তু এই সাফল্য ধরে রাখা কঠিন হয়। ২০২১ সালে ভোট শেয়ার বেড়ে ১১.৪ শতাংশ হলেও, কেরলে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি একটি আসনও জিততে পারেনি। এমনকি নেমোমও হাতছাড়া হয়।

লোকসভা নির্বাচনেও একই ধারা দেখা গিয়েছে। ২০২৪ সালে বিজেপির ভোট শেয়ার বেড়ে প্রায় ১৬ শতাংশে পৌঁছয়। কিন্তু তারা মাত্র একটি আসন—থ্রিসুর জেতে। জয়ী হন সুরেশ গোপী। আর এটাই সবচেয়ে আশ্চর্যের। বিজেপির ভোট শতাংশ বাড়লেও, বাম রাজ্য কেরলে এখনও দাঁত ফোটাতে পারেনি বিজেপি। এখন দেখার ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে কী হয়।

কেরলের রাজনীতিতে ২ জোট
কেরলের রাজনীতি মূলত দুই জোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এলডিএফ (সিপিআই(এম)-এর নেতৃত্বে) এবং ইউডিএফ (কংগ্রেসের নেতৃত্বে)। এই দুই জোটের লড়াই-ই কেরলের রাজনীতিতে মুখ্য লড়াই। তাই ১১–১৬ শতাংশ ভোট পেলেও বিজেপি বেশিরভাগ আসনে তৃতীয় স্থানেই থেকে যায়। এমনকি গত এক দশকের আসন প্রবণতা বলছে, এলডিএফ ও ইউডিএফ- এই দুই জোটের আধিপত্য যেন আরও স্থিতিশীল হয়েছে।

২০১১ সালে ইউডিএফ ৭২টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। ২০১৬ সালে এলডিএফ ৯১টি আসন পেয়ে ক্ষমতায় ফেরে। ২০২১ সালে ৯৯টি আসন নিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় আসে এলডিএফ। যা কেরলের দীর্ঘদিনের পালাবদলের প্রথা ভেঙে দেয়। বিগত তিনটি নির্বাচনে প্রায় ৫০টি আসন ধারাবাহিকভাবে এলডিএফ নিজের দখলে রেখেছে। ইউডিএফ-এরও প্রায় ২৫টি নিশ্চিত আসন রয়েছে। যা বিজেপির জন্য চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সীমানা পুনর্বিন্যাস ও স্থানীয় সমীকরণ
২০১১ সালের পর সীমানা পুনর্বিন্যাসও নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। যেমন, আলাপ্পুঝার মাভেলিকারা আসনটি আগে কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল। কিন্তু পরে এটি তফসিলি জাতি সংরক্ষিত আসনে পরিণত হয়। তখন থেকে সিপিআই(এম) টানা জিতছে। এই স্থানীয় পরিবর্তনও সামাজিক সমীকরণ বদলে দিয়ে বিজেপির জন্য লড়াইকে কঠিন করেছে।

কেরলের জনসংখ্যায় মুসলিম ও খ্রিস্টান মিলিয়ে ৪০ শতাংশের বেশি। যারা মূলত ইউডিএফ বা এলডিএফ-এর সঙ্গেই যুক্ত। বিজেপি খ্রিস্টানদের মধ্যে বিশেষভাবে প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। এঝাভা ও অন্যান্য হিন্দু গোষ্ঠীর মধ্যেও প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা  করছে। তবে এখনও তা বড় আকারে ভোটে প্রতিফলিত হয়নি। থিরুভনন্তপুরম, কাসারগোড ও কিছু শহুরে অঞ্চলে বিজেপি তৃতীয় শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। এখন দেখার ২০২৬ -এর নির্বাচনে বিজেপির ভোট শেয়ার ফলাফলে কী প্রভাব ফেলে।

(Feed Source: zeenews.com)