Emergency Alert: হঠাৎ ফোনে বিকট শব্দে সতর্কবার্তা? আতঙ্কিত হবেন না, শুরু হচ্ছে ভারতের নিজস্ব দুর্যোগ সতর্কতা ব্যবস্থা

Emergency Alert: হঠাৎ ফোনে বিকট শব্দে সতর্কবার্তা? আতঙ্কিত হবেন না, শুরু হচ্ছে ভারতের নিজস্ব দুর্যোগ সতর্কতা ব্যবস্থা

Emergency Alert: ২ মে থেকে চালু হচ্ছে সেল ব্রডকাস্ট ভিত্তিক দুর্যোগ সতর্কতা ব্যবস্থা। মোবাইলে তাৎক্ষণিক অ্যালার্ট, জিও-টার্গেটেড বার্তা—জানুন কীভাবে কাজ করবে এবং পরীক্ষামূলক বার্তায় কী দেখবেন।

ভারত ২ মে একটি মোবাইল-ভিত্তিক দুর্যোগ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করতে চলেছে, যার লক্ষ্য প্রায় রিয়েল-টাইমে জরুরি সতর্কবার্তা সরাসরি নাগরিকদের ফোনে পৌঁছে দেওয়া। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, যোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার উপস্থিতিতে এই সিস্টেমের উদ্বোধন করবেন। এই প্ল্যাটফর্মটি টেলিকমিউনিকেশন দফতর (DoT) এবং জাতীয় বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (NDMA)-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে।

এই ব্যবস্থার মূল অংশ হল ‘ইন্টিগ্রেটেড অ্যালার্ট সিস্টেম’—SACHET, যা সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অফ টেলিম্যাটিক্স (C-DOT) তৈরি করেছে। এটি একটি স্বদেশি প্রযুক্তি নির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যা ইতিমধ্যেই সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চালু রয়েছে এবং ১৯টিরও বেশি ভারতীয় ভাষায় ১৩৪ বিলিয়নেরও বেশি SMS সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে।

এই সিস্টেমটি আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের সুপারিশ অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত কমন অ্যালার্টিং প্রোটোকল (CAP)-এর উপর ভিত্তি করে তৈরি।

নতুন সিস্টেম কীভাবে কাজ করবে: এই আপডেটে SMS-এর পাশাপাশি ‘সেল ব্রডকাস্ট’ (Cell Broadcast বা CB) প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের সমস্ত মোবাইল ফোনে একসঙ্গে সতর্কবার্তা পাঠানো যাবে, আলাদা আলাদা করে নয়।

SMS অনেক সময় নেটওয়ার্ক জ্যামের কারণে দেরিতে পৌঁছতে পারে, কিন্তু CB বার্তা সরাসরি মোবাইল টাওয়ার থেকে একটি নির্দিষ্ট চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো হয়। ফলে লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারী প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই এই বার্তা পেয়ে যাবেন। এই সিস্টেমটি ‘জিও-টার্গেটেড’, অর্থাৎ যাঁরা নির্দিষ্ট বিপর্যস্ত এলাকায় উপস্থিত থাকবেন, শুধুমাত্র তাঁরাই সতর্কবার্তা পাবেন—যেমন সুনামি সতর্কতার সময় উপকূলবর্তী এলাকার মানুষ।

এই বার্তাগুলি সাধারণ নোটিফিকেশনের মতো নয়—স্ক্রিনে পপ-আপ হিসেবে দেখা যাবে, জোরে অ্যালার্ট টোন বা ভাইব্রেশন হতে পারে এবং ব্যবহারকারী নিশ্চিত না করা পর্যন্ত স্ক্রিনে দৃশ্যমান থাকবে। যেহেতু এটি ব্রডকাস্ট-ভিত্তিক প্রযুক্তি, তাই এটি ব্যক্তিগত ফোন নম্বরের উপর নির্ভর করে না। এমনকি রোমিং ব্যবহারকারী বা কম নেটওয়ার্ক ব্যবহারের ডিভাইসেও বার্তা পৌঁছতে পারবে।

কী ধরনের সতর্কবার্তা পাওয়া যাবে:কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট—দুই ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতেই এই সিস্টেম ব্যবহার করা হবে। যেমন ভূমিকম্প, সুনামি, বজ্রপাত, গ্যাস লিক বা রাসায়নিক দুর্ঘটনা।

সতর্কবার্তায় থাকতে পারে—আগাম সতর্কতা (যেমন খারাপ আবহাওয়া বা ভূকম্পন)তাৎক্ষণিক বিপদের বার্তা (যেমন এলাকা খালি করার নির্দেশ)জননিরাপত্তা নির্দেশিকা (কী করবেন, কী করবেন না)অবস্থানভিত্তিক তথ্য (নিরাপদ আশ্রয় বা নির্গমন পথ)এই বার্তাগুলি অঞ্চল ও ডিভাইসের সেটিং অনুযায়ী বিভিন্ন ভাষায় পাঠানো হবে।

২ মে-র পরীক্ষায় কী দেখা যাবে: লঞ্চের অংশ হিসেবে দেশের সব রাজ্যের রাজধানী, দিল্লি-এনসিআর-সহ বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষামূলক সতর্কবার্তা পাঠানো হবে। এগুলি ইংরেজি, হিন্দি এবং আঞ্চলিক ভাষায় আসবে।

সরকার যে বার্তাটি পাঠাবে তা হল:“India launches Cell Broadcast using indigenous technology for instant disaster alerting service for its citizens. Alert citizens, safe nation. No action is required by the public upon receipt of this message. This is a test message.”“ভারত স্বদেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করে নাগরিকদের জন্য তাত্ক্ষণিক দুর্যোগ সতর্কতা পরিষেবা চালু করছে। সচেতন নাগরিক, নিরাপদ দেশ। এই বার্তা পাওয়ার পর সাধারণ মানুষের কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এটি একটি পরীক্ষামূলক বার্তা।”

এই বার্তাগুলি মোবাইল স্ক্রিনে স্পষ্টভাবে ‘টেস্ট মেসেজ’ হিসেবে প্রদর্শিত হবে এবং ফোনের ধরন ও নেটওয়ার্ক অনুযায়ী ফ্ল্যাশ বা পপ-আপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। সরকার নাগরিকদের আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে এবং বলেছে, এটি শুধুমাত্র একটি মহড়া, যাতে বাস্তব জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করা যায়।

(Feed Source: news18.com)