জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ২ মে শনিবার। আর শনিতেই চরম অশনি সংকেত। আপনি বাড়ির বাইরে পা রাখার আগে সাবধান হয়ে যান এখনই। ইন্ডিয়া মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট (The India Meteorological Department, IMD) ওরফে মৌসম ভবন দিল হাড়হিম আপডেট। প্রকৃতির রুদ্রমূর্তির তাণ্ডবে জনজীবন তছনছ হবে। চলে এল দেশ জুড়ে ঝড়-বৃষ্টি-বজ্র-বিদ্যুতের ভয়াল পূর্বাভাস।
পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতে প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে, অন্যদিকে উত্তর ভারত পুড়ছে তীব্র রোদে রোষানলে। ভূমধ্যসাগরের উপর সৃষ্ট এক নতুন পশ্চিমী ঝঞ্ঝা, পূর্বদিকে অগ্রসর হয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে আর্দ্রতা বয়ে আনা একটি আবহাওয়াব্যবস্থা। শনিবার থেকে হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চলে যার প্রভাব বিস্তার করতে চলেছে। এছাড়া জম্মু ও কাশ্মীরের ওপর ইতোমধ্যেই আরেকটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা সক্রিয় রয়েছে, যা উত্তর পঞ্জাবের উপর এক ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি করছে।
২ মে দেশের কোন কোন রাজ্যে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস
বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কেরালা, কর্ণাটক, ওড়িশা এবং অন্ধ্রপ্রদেশেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় এবং রাজস্থানে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৃষ্টি যদিও হাসফাঁস করা তীব্র গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি দেবে। একটি ট্রাফ, মূলত বায়ুমণ্ডলীয় নিম্নচাপের একটি দীর্ঘায়িত অঞ্চলে রয়েছে। উত্তর ওড়িশা থেকে শুরু করে তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর উপর দিয়ে মান্নার উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে আছে। এই ট্রাফটিই বর্তমানে পূর্ব উপকূল বরাবর প্রাক-বর্ষা আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতিকে সক্রিয় ভাবে প্রভাবিত করছে।
উত্তর ভারতে তাপমাত্রা কতটা বাড়তে পারে?
বিশেষ করে দিল্লি, গুরুগ্রাম এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মানুষের জন্য শনিবার হবে অত্যন্ত তপ্ত। দুপুরের দিকে তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছতে পারে। সেই সঙ্গে আকাশ কিছুটা ধোঁয়াশাচ্ছন্ন থাকায় আবহাওয়া আরও বেশি গুমোট ও অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। পঞ্জাব থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম রাজস্থান পর্যন্ত বিস্তৃত একটি ট্রাফ উত্তর-পশ্চিম ভারত জুড়ে শুষ্ক ও ধূলিধূসরিত বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ব্যাপক বৃষ্টিপাতের ফলে বেশ কয়েকটি রাজ্যে তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছিল। তবে সমভূমি অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য আবহাওয়ার কুলিং পিরিয়ড হবে ক্ষণস্থায়ী।
ভারতে আবহাওয়ার এত অস্থির কেন?
ঝাড়খণ্ডে বজ্রঝড় থেকে শুরু করে ওড়িশা ও দক্ষিণ কেরলমে ভারী বৃষ্টিপাত পর্যন্ত আবহাওয়ার সাম্প্রতিক অস্থিরতা বা সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। যা একাধিক আবহাওয়াগত ব্যবস্থার একযোগে মিথস্ক্রিয়ার ফলাফল। এর মধ্যে রয়েছে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা, ঘূর্ণাবর্ত এবং উপদ্বীপীয় ভারত জুড়ে বাতাসের প্রবাহে সৃষ্ট অসামঞ্জস্য। প্রাক-বর্ষা এখন পুরোদমে চলছে। তাই আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনশীল ও গতিশীল অবস্থা আগামী দিনেও আরও ঘনঘন দেখা যাবে। আপনি যদি উত্তর ভারতের বাসিন্দা হন। তবে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত, যখন গরমের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকে, সেই সময়ে ঘরের ভিতরেই থাকুন। আর আপনি যদি পূর্ব বা দক্ষিণ ভারতে থাকেন, তাহলে একটি ছাতা রাখতে ভুলেও ভুলবেন না।
(Feed Source: zeenews.com)
