Vodafone Crisis: আদানি না জিন্দাল, নাকি বিড়লাই শেষ ভরসা? ৫০,০০০ কোটির খোঁজে ডুবন্ত ভোডাফোন-আইডিয়া

Vodafone Crisis: আদানি না জিন্দাল, নাকি বিড়লাই শেষ ভরসা? ৫০,০০০ কোটির খোঁজে ডুবন্ত ভোডাফোন-আইডিয়া

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: একসময় ভারতের সবচেয়ে বড় টেলিকম কোম্পানি হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল ভোডাফোন-আইডিয়া (Vi)। আজ সেই কোম্পানি বেঁচে থাকার জন্য ৫০,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ খুঁজছে। পুনর্গঠন সম্পন্ন, কাঠামো তৈরি। কিন্তু টাকা আসবে কোথা থেকে? আর আসবেই বা কার থেকে?

কীভাবে এই অবস্থা হল?

গল্পের শুরু ২০১৬ সালে। রিলায়েন্স জিও (Reliance Jio)-র আগমনে ভারতের টেলিকম বাজারে যে ঝড় উঠেছিল, তাতে ভোডাফোন এবং আইডিয়া দুটোই টাল খেয়ে যায়। ডেটা প্রায় বিনামূল্যে, কলে কোনো দাম নেই। এই পরিস্থিতিতে ২০১৮ সালে দুই দুর্বল কোম্পানি মিলে একটা শক্তিশালী কোম্পানি তৈরির স্বপ্ন দেখেছিলেন কুমার মঙ্গলম বিড়লা। কিন্তু বাস্তবে দুই এবং দুই যোগ হয়ে চার হয়নি, বরং সমস্যা বেড়েছে কয়েকগুণ।

মিলনের পরেই এল আরও বড় ধাক্কা। সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডজাস্টেড গ্রস রেভিনিউ (AGR) রায়ে হাজার হাজার কোটি টাকার পুরনো বকেয়া চাপল কোম্পানির মাথায়। নেটওয়ার্ক উন্নয়নে বিনিয়োগের বদলে আইনি লড়াইয়ে কাটল বছরের পর বছর। গ্রাহক চলে গেলেন জিও আর এয়ারটেলে। ২২ কোটি গ্রাহক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কোম্পানি, যেখানে জিও-র গ্রাহকসংখ্যা ৪৮ কোটি, এয়ারটেলের ৩৮ কোটি।

তিনটি নাম, তিনটি প্রশ্ন

বাজারে এখন যে নামগুলো ঘুরছে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

প্রথম নাম সজ্জন জিন্দাল (Sajjan Jindal)। জেএসডব্লিউ গ্রুপের (JSW Group) এই শিল্পপতি ইস্পাত থেকে সিমেন্ট, এমজি মোটর পর্যন্ত বিস্তার করেছেন। টেলিকমে ঢুকলে তিনি একটা বড় ডিজিটাল পরিসর তৈরি করতে পারেন।

দ্বিতীয় নাম গৌতম অডানি (Gautam Adani)। ৫জি নিলামে অংশ নিয়ে তিনি আগেই সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। ভোডাফোন-আইডিয়ায় বিনিয়োগ করলে ভারতের টেলিকম বাজার হয়ে উঠবে আম্বানি বনাম অডানির সরাসরি লড়াই।

তৃতীয় প্রশ্নটা সবচেয়ে জটিল। ৫০,০০০ কোটির বিনিয়োগ এলে কুমার মঙ্গলম বিড়লার (Kumar Mangalam Birla) হিস্যা তলানিতে ঠেকবে। বিড়লা পরিবার তখন মালিক নন, সহযাত্রীমাত্র।

তিন শক্তির লড়াইয়ে বাজার এখন কোথায়?

ভারতের টেলিকম বাজার এখন দুই মেরুতে ভাগ। রিলায়েন্স জিও মাস মার্কেটে। ভারতী এয়ারটেল (Bharti Airtel) প্রিমিয়াম গ্রাহকে। ভোডাফোন-আইডিয়া এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে অস্তিত্বের লড়াই লড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের মতো বিশাল বাজারে অন্তত তিনটি শক্তিশালী বেসরকারি টেলিকম অপারেটর থাকা দরকার। ভোডাফোন-আইডিয়া উঠে না গেলে প্রতিযোগিতা থাকবে, দামও সাধারণ মানুষের নাগালে থাকবে। আর উঠে গেলে জিও আর এয়ারটেলের দ্বিমুখী আধিপত্যে গ্রাহকের পকেটই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ব্যাংক ঋণের কথাও ভুলে গেলে চলবে না। এই কোম্পানিতে হাজার হাজার কোটি টাকা আটকে আছে বিভিন্ন ব্যাংকের।

শেষ পাতা উলটানো বাকি

৫০,০০০ কোটি টাকা শুধু অর্থ নয়। এই বিনিয়োগ হবে ভোডাফোন-আইডিয়ার প্রতি বাজারের আস্থার প্রমাণ। আদানি, জিন্দাল না বিড়লা, কে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে আসবেন, সেই সিদ্ধান্তই ঠিক করে দেবে ভারতের টেলিকম ভবিষ্যৎ।

(Feed Source: zeenews.com)