Operation Kisan: কৃষকের ইউরিয়া চুরি করে প্লাইউড বানাচ্ছে কারখানা, ২০ হাজার কোটির কেলেঙ্কারি ফাঁস

Operation Kisan: কৃষকের ইউরিয়া চুরি করে প্লাইউড বানাচ্ছে কারখানা, ২০ হাজার কোটির কেলেঙ্কারি ফাঁস

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাতের অন্ধকারে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে একটা মিনি ট্রাক। গাড়ির ভেতরে সারি সারি হলুদ বস্তা। এই বস্তাগুলো দেশের কোটি কোটি কৃষকের স্বপ্ন। তাঁদের ফসলের ভিত্তি। কিন্তু এই স্বপ্নেই হাত দিয়েছে একটি সংগঠিত দুষ্টচক্র। আর সেই চক্রের মাথায় রয়েছে দেশের নামজাদা প্লাইউড কারখানাগুলো।

জি মিডিয়ার (Zee Media) স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিভ টিম (Special Investigative Team) দীর্ঘ অনুসন্ধানে এই কেলেঙ্কারির পর্দা ফাঁস করেছে। নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন কিষান’ (Operation Kisan)।

ছয় টাকার সার যাচ্ছে কারখানায়, লোকসান দেশের

বিষয়টা বুঝতে হলে একটু পেছন থেকে শুরু করতে হবে।

ভারত সরকার (Government of India) প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা ভর্তুকি (subsidy) দেয়, যাতে কৃষকরা সস্তায় ইউরিয়া সার কিনতে পারেন। একটি ইউরিয়ার বস্তার আসল বাজারদর প্রায় তিন হাজার ৮০০ টাকা। কিন্তু সরকারি ভর্তুকির পর কৃষক সেটা পাচ্ছেন মাত্র ২৬৬ টাকায়। অর্থাৎ কিলো প্রতি দাম পড়ছে মোটামুটি ছয় টাকা।

আর এই সস্তা ইউরিয়াই হয়ে উঠেছে কালোবাজারির (black market) সোনার খনি।

দামের ফারাকটাই আসল ফাঁদ

কারণটা সহজ। শিল্পে ব্যবহারের জন্য যে বাণিজ্যিক ইউরিয়া (commercial urea) কিনতে হয়, তার দাম কিলো প্রতি ৮০ টাকা পর্যন্ত। কৃষকের ভর্তুকির ইউরিয়া আর বাণিজ্যিক ইউরিয়ার মধ্যে এই বিশাল দামের ফারাকটাই হল লুটপাটের মূল চাবিকাঠি।

এমডিএফ (MDF) বোর্ড এবং প্লাইউড (plywood) তৈরিতে ইউরিয়ার ব্যাপক ব্যবহার হয়। কারখানাগুলো বাণিজ্যিক দরে ইউরিয়া কিনলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। তার বদলে যদি কৃষকের ভর্তুকির ইউরিয়া চুরি করে আনা যায়, তাহলে মুনাফা বহুগুণ বাড়ে।

ডিলার থেকে দালাল, সাজানো সরবরাহ শৃঙ্খল

এই লোভেই তৈরি হয়েছে একটি সংগঠিত সরবরাহ শৃঙ্খল (supply chain)। যার মধ্যে রয়েছে ডিলার, দালাল, পরিবহনকারী, ইউরিয়া কারখানা এবং প্লাইউড কারখানা।

অনুসন্ধানের প্রথম গন্তব্য ছিল হরিয়ানার (Haryana) যমুনানগর (Yamuna Nagar) জেলা। এই জেলাকে বলা হয় দেশের প্লাইউড হাব (plywood hub)। সেখানে আঠা তৈরির একটি কারখানায় পরিচয় গোপন করে গিয়েছিলেন জি মিডিয়ার প্রতিনিধি। লুকানো ক্যামেরায় (hidden camera) ধরা পড়েছে সেই কথোপকথন। ইউরিয়ার দালাল সাফ জানাচ্ছে, সার মাফিয়াদের নিজস্ব নেটওয়ার্ক রয়েছে। সরকারি তদন্তকারীরা অভিযানে এলেও আগেভাগে খবর পৌঁছে যায়। বিনিময়ে সব ম্যানেজ হয়ে যায়।

হলুদ বস্তাই পার্থক্য, রাতে বদলে যায় গন্তব্য

চেনার উপায় একটাই। কৃষকের ইউরিয়ার বস্তা হলুদ রঙের। বাণিজ্যিক ইউরিয়ার বস্তা সাদা। অভিযোগ, সেই হলুদ বস্তাই রাতের অন্ধকারে পৌঁছে যাচ্ছে প্লাইউড কারখানার গুদামে।

বার্ষিক ক্ষতি ২০ হাজার কোটি, ভুগছেন কৃষকই

এই কেলেঙ্কারিতে সরকারের বার্ষিক ক্ষতি আনুমানিক ২০ হাজার কোটি টাকা। শুধু ভর্তুকির অপচয় নয়, জিএসটি (GST) থেকেও বিপুল রাজস্ব ফাঁকি হচ্ছে। আর এই ক্ষতির বোঝা শেষ পর্যন্ত চাপছে সেই কৃষকের ঘাড়েই, যাঁর জন্য ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

কৃষক ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন সারের জন্য। আর সেই সার পৌঁছে যাচ্ছে কারখানার বোর্ডে।

‘অপারেশন কিষান’-এর দ্বিতীয় পর্বে থাকছে আরও বড় খোলাসা। কোন কোন কোম্পানি এই চক্রে জড়িত, রাজ্যে রাজ্যে কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এই নেটওয়ার্ক, সেই তথ্য সামনে আনবে জি মিডিয়ার বিশেষ তদন্তকারী দল।

(Feed Source: zeenews.com)