জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ২০২৬-এর হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার যে আসনগুলোর দিকে নজর ছিল সারা রাজ্যের, তার মধ্যে অন্যতম হাওড়ার শিবপুর। আর সেখানেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবার গেরুয়া পতাকা ওড়ালেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। মঙ্গলবার জয়ের শংসাপত্র হাতে পাওয়ার পর থেকেই শুভেচ্ছার জোয়ারে ভাসছেন তিনি। তবে জয়ের উল্লাসের মাঝেই রুদ্রনীল স্পষ্ট করে দিলেন, তাঁর লড়াই কেবল বিধানসভার ভেতরে নয়, বরং টলিউডের অন্দরে জেঁকে বসা ‘সিন্ডিকেট’ রাজের বিরুদ্ধেও।
জয়ের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, “শিবপুরের মানুষ এতদিন চূড়ান্ত অবহেলার শিকার হয়েছেন। নূন্যতম নাগরিক পরিষেবা থেকেও বঞ্চিত রাখা হয়েছিল এই জনপদকে। মানুষের এই জয় আসলে পরিবর্তনের জয়। আমার প্রধান লক্ষ্য হল ‘বিকশিত শিবপুর’ গড়ে তোলা।” তিনি জানান, আগামী দিনে পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং স্থানীয়দের সমস্যার সমাধানই হবে তাঁর অগ্রাধিকার।
শিবপুরের বিধায়ক হওয়ার পাশাপাশি এদিন টলিপাড়ার ‘অঘোষিত সম্রাট’দের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন রুদ্রনীল। তাঁর অভিযোগ, বিগত কয়েক বছরে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে রীতিমতো মাফিয়াগিরি চলেছে। অরূপ বিশ্বাস এবং স্বরূপ বিশ্বাসের নাম সরাসরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিশ্বাস ব্রাদার্স টলিউডে ফতোয়া জারি করেছিল। কে কাজ করবে আর কে করবে না, তা ঠিক করে দিত ওরা। এমনকি আমার ওপরও ফতোয়া জারি করা হয়েছিল।”
রুদ্রনীল আরও যোগ করেন, “যে ইন্ডাস্ট্রি সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, ঋত্বিক ঘটকদের হাত ধরে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়েছিল, আজ তাকে কালিমালিপ্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক উৎপাতে যোগ্য কলাকুশলীরা কাজ পাচ্ছেন না। একসময় যেখানে বছরে শতাধিক সিনেমা হতো, আজ তা ৭০ শতাংশে নেমে এসেছে।” তবে তাঁর দাবি, রাজ্যে পরিবর্তনের পর এবার টলিউডেও ‘সুদিন’ ফিরবে। যোগ্যরা সম্মান পাবেন এবং ভয়মুক্ত পরিবেশে কাজ হবে। শোনা যাচ্ছে, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের ভার পেতে পারেন অভিনেতা-রাজনীতিবিদ রুদ্রনীল ঘোষ।
(Feed Source: zeenews.com)
