জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে (১৬৬/৭) হারিয়ে ও আইপিএল থেকে ছিটকে দিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (১৬৭/৮)। গত ১০ মে, রায়পুরের শহিদ বীর নারায়ণ সিং আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এমআইয়ের বিরুদ্ধে আরসিবি-র (MI vs RCB, IPL 2026) ২ উইকেটে জয়ের নেপথ্যে ছিলেন ক্রুনাল পাণ্ডিয়া (Krunal Pandya)। ৪৬ বলে ৭৩ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেছেন অলরাউন্ডার। তবে রাতারাতি তাঁর দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের চর্চা বদলে গিয়েছে আড়ালের ভয়াবহ চোটে।
খেলার পরে নেটপাড়ায় ক্রুনাল একটি ছবি শেয়ার করেছেন, যা দেখে আঁতকে উঠেছে নেটপাড়া। ক্রুনাল একটি মিরর-সেলফি নিয়েছেন, নিজের জার্সি কোমরের খানিকটা উপরে তুলেই সেই ছবি তুলেছেন তিনি। যেখানে দেখে যাচ্ছে, নাভির ঠিক উপরেই ক্রুনালের দগদগে রক্তাক্ত ক্ষত। বোঝাই যাচ্ছে খেলতে গিয়ে এই চোট পেয়েছেন তিনি। চাকার মতো ফুলে রয়েছে জায়গাটা। যন্ত্রণা সহ্য করেও ফাইটারের মতো ইনিংস খেলেছেন তিনি দলের স্বার্থে। আর এই ছবিতে তিনি লিখে দিয়েছেন যে, ‘লড়াইটা সার্থক ছিল, কিছু ক্ষত সেই প্রমাণই দেয়’। ক্রুনালের এই ইনিংস ছিল তাঁর ব্যাটিং নৈপুণ্যের আরও একটি চমৎকার প্রদর্শনী— সুচিন্তিত ও কৌশলী মানসিকতার ফসল। চলতি মরসুমে তিনি আবারও নিজের ব্যাটিংয়ের হারানো ছন্দ ফিরে পেয়েছেন। ৬ ইনিংসে ৩৫.৫০-র গড়ে এবং ১৫০.০০ স্ট্রাইক রেটে তিনি মোট ১৪১ রান করেছেন।

ক্রুনাল খেলার শেষে আবেগি হয়ে পড়েছিলেন। মাইক হাতে স্মৃতিচারণা করেছেন প্রাক্তন টিমের। যে টিমকে তিনি হারিয়ে আইপিএল থেকে ছিটকে দিয়েছেন। তাঁর মুখে ছিল একজনেরই কথা। তিনি কায়রন পোলার্ড। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের প্রাক্তন মহারথী এখন হার্দিকদের ব্যাটিং কোচ। ধরা গলায় ক্রনাল বললেন, ”পলি (কায়রন পোলার্ড) আমার বড় ভাইয়ের মতো? মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে কাটানো সময়টাই ছিল আমার কেরিয়ারের সেরা ছ’বছর। আমার স্পষ্ট মনে আছে, পান্ডিয়া ব্রাদার্স এবং পোলার্ড— আমরা তিনজনই ছিলাম দলের ইঞ্জিন রুম। ব্যাট-বল-ফিল্ডিং, সব বিভাগেই দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে আমরা অনেকগুলি ম্যাচ জিতেছিলাম। ২০২১ সালের কথা এখনও আমার স্মৃতিতে অম্লান। যখন আমরা আমাদের শেষ ম্যাচ খেলছিলাম, তখন আমরা তিনজন একে অপরের হাত ধরে দাঁড়িয়েছিলাম। সেই মুহূর্তে আমাদের মনে হয়েছিল, আচ্ছা, এই হয়তো শেষবারের মতো আমরা একসঙ্গে মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছি। হ্যাঁ নিঃসন্দেহে সেটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন এক মুহূর্ত। তবে পোলার্ডের প্রতি আমার ভালোবাসা অটুট। মানুষ হিসেবে ও অসাধারণ। এই ফরম্যাটের গোট। কত ট্রফি জিতেছে, কত ম্যাচ জিতেছে! আর হ্যাঁ,পলি আমাকে সবসময়ই বলত, একজন ভালো মানুষকে কখনোই দমিয়ে রাখা যায় না।’
হার্দিকের দাদা ক্রুনাল। দেশের হয়ে ৫টি ওডিআই ও ১৯টি টি-২০আই খেলেছেন এখনও পর্যন্ত। ২০২৮ সালে আন্তর্জাতিক আঙিনায় অভিষেক তাঁর। তবে ২০২১ সালের পর আর ভারতীয় দলে সুযোগ পাননি তিনি। ক্রুনাল চাইবেন আইপিএলে দুরন্ত পারফর্ম করেই নির্বাচকদের নজরে আসতে। যদিও এই মুহূর্তে তাঁর জাতীয় দলে ঢোকা প্রায় অসম্ভব। কারণ ভয়ংকর প্রতিযোগিতা।
(Feed Source: zeenews.com)
